নিউজ সোনারগাঁ : কুমিল্লার দাউদকান্দি এলাকায় একটি গাড়ি বিকল হয়ে পড়ার ঘটনায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে কয়েক কিলোমিটারজুড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। যানজট ধীরে ধীরে বিস্তৃত হয়ে নারায়ণগঞ্জের মোগরাপাড়া চৌরাস্তা এলাকা পর্যন্ত পৌঁছে গেছে বলে জানা গেছে। এ কারণে দীর্ঘ সময় ধরে আটকে পড়েছেন দূরপাল্লার যাত্রী ও সাধারণ মানুষ।
রোববার (২৪ মে) দুপুর থেকে মহাসড়কে যান চলাচল ধীরগতির হয়ে পড়ে। পরে বিকল গাড়িটি সরিয়ে নেওয়ার আগ পর্যন্ত একের পর এক যানবাহন আটকে গিয়ে দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়। এতে বিশেষ করে শিশু, নারী ও বৃদ্ধ যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন।
যানজটে আটকে থাকা কয়েকজন যাত্রী জানান, তীব্র গরমের মধ্যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সড়কে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। অনেক যানবাহনে পর্যাপ্ত পানি ও বাতাসের ব্যবস্থা না থাকায় দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। কেউ কেউ নির্ধারিত সময়ের গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্যেও পৌঁছাতে পারেননি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঈদকে সামনে রেখে এমনিতেই ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বেড়েছে। এর মধ্যে একটি গাড়ি বিকল হয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়ে। সাম্প্রতিক সময়েও এই মহাসড়কের কয়েকটি অংশকে যানজটপ্রবণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যানজট নিরসনে কাজ করছে বলে জানা গেছে। তবে যানজট পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে কিছুটা সময় লাগতে পারে। যাত্রীদের বিকল্প সড়ক ব্যবহার ও সতর্কতার সঙ্গে চলাচলের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
Category: বিশেষ সংবাদ
-

দাউদকান্দিতে গাড়ি বিকল, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে কয়েক কিলোমিটার তীব্র যানজট: গরমে দুর্ভোগে যাত্রীরা
-

সোনারগাঁয়ে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থার কড়া সমালোচনা তুহিন মাহমুদের
নিজস্ব প্রতিবেদক: নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ও যুবশক্তি (এনসিপি)-এর যুগ্ম সম্পাদক তুহিন মাহমুদ বলেছেন, সোনারগাঁয়ের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থায় এখনো কোনো গুণগত পরিবর্তন আসেনি। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা অনিয়ম, দুর্নীতি, দখলবাজি ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড এখনো আগের মতোই অব্যাহত রয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সম্প্রতি এক বক্তব্যে তিনি বলেন, “সোনারগাঁয়ের মানুষ পরিবর্তনের আশা করেছিল। কিন্তু বাস্তবে আমরা দেখছি সবকিছু আগের মতোই চলছে। নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন, চুনা ফ্যাক্টরির মাধ্যমে সরকারি গ্যাসের হরিলুট, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, চুরি-ডাকাতি এবং মানুষ হত্যার মতো ঘটনাও এখনো ঘটছে।”
তিনি আরও বলেন, একসময় মাদকের বিস্তার কিছুটা কমে এলেও বর্তমানে তা আবার উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। বিশেষ করে তরুণ সমাজের মধ্যে মাদকের বিস্তার ভবিষ্যতের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। একইসঙ্গে উপজেলার বিভিন্ন সড়ক ও বাজার এলাকায় ফুটপাত দখল এবং ওভারব্রিজ দখলের চিত্রও আগের মতোই রয়েছে বলে অভিযোগ করেন তুহিন মাহমুদ।
উপজেলার প্রশাসনিক কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তার দাবি, “উপজেলায় কী পরিমাণ দুর্নীতি হচ্ছে, সাধারণ মানুষ তার প্রকৃত তথ্য জানতে পারছে না। জনগণের কাছ থেকে অনেক কিছু গোপন রাখা হচ্ছে। এমনকি বিরোধী রাজনৈতিক দল বা ভিন্নমতের মানুষদের কোনো সভা-সমাবেশ কিংবা সরকারি প্রোগ্রামেও ডাকা হয় না।”
তিনি অভিযোগ করে বলেন, একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী পুরো উপজেলা ব্যবস্থাকে নিয়ন্ত্রণ করছে এবং সাধারণ মানুষের মতামতের কোনো মূল্য দেওয়া হচ্ছে না। এতে করে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও রাজনৈতিক সহাবস্থান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
তুহিন মাহমুদ বলেন, “জনগণ যে পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখেছিল, বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। সোনারগাঁয়ের মানুষ এখনো নানা সমস্যা, অনিয়ম ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যেই দিন পার করছে।”
তিনি সোনারগাঁয়ের সার্বিক পরিস্থিতি উন্নয়নে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। -

প্রাচীন পঙ্খিরাজ নদী পুনঃখননের দাবিতে সোনারগাঁয়ে মানববন্ধন
নিজস্ব প্রতিবেদক : নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে প্রাচীন পঙ্খিরাজ নদী পুনঃখনন ও সংরক্ষণের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (১৫ মে) সকালে উপজেলার ঐতিহাসিক পানাম নগরী সংলগ্ন পঙ্খিরাজ নদীর সামনে এ মানববন্ধনের আয়োজন করে ‘সোনারগাঁয়ের ইতিহাস-ঐতিহ্য ও প্রত্নসম্পদ সংরক্ষণ কমিটি’।
মানববন্ধনে স্থানীয় সংস্কৃতিকর্মী, কবি, লেখক, গণমাধ্যমকর্মী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
সংগঠনটির আহ্বায়ক কবি ও সংস্কৃতিকর্মী শাহেদ কায়েসের সভাপতিত্বে এবং যুগ্ম আহ্বায়ক মিজানুর রহমানের সঞ্চালনায় বক্তারা বলেন, ঐতিহাসিক পানাম নগরীকে ঘিরে থাকা পঙ্খিরাজ নদী বর্তমানে খালে পরিণত হয়েছে। একসময় এ নদী ছিল প্রাচীন বাংলার রাজধানী সোনারগাঁয়ে যাতায়াতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। এই নদীপথ ব্যবহার করেই বিশ্বখ্যাত মসলিন কাপড় প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যে রপ্তানি করা হতো।
বক্তারা আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দখল ও ভরাটের কারণে নদীটি এখন বিলুপ্তির পথে। দ্রুত নদীটি পুনঃখনন করে সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানান তারা।
তারা অভিযোগ করেন, সোনারগাঁয়ের পঙ্খিরাজ নদীসহ বিভিন্ন খাল ও জলাশয় দখল এবং ভরাট হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এ সংকট নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণেরও দাবি জানান বক্তারা।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন সংগঠনের সদস্য সচিব লেখক ও সাংবাদিক রবিউল হুসাইন, সোনারগাঁও সাহিত্য নিকেতনের উপদেষ্টা মো. মতিউর রহমান, ‘সোনারগাঁও পরিক্রমা’র প্রধান সম্পাদক আরিফুর রহমান, উদীচী সোনারগাঁ শাখার সভাপতি শংকর প্রকাশ, সোনারগাঁও সাহিত্য নিকেতনের সভাপতি আসমা আখতারী, অর্থ সম্পাদক সেলিম আহমেদ প্রধান, শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক মোয়াজ্জেনুল হক, সাংস্কৃতিক সম্পাদক দেওয়ান শামসুর রহমান, ৭১ টিভির সোনারগাঁ প্রতিনিধি শেখ ফরিদ, লেখক ও সাংবাদিক গাজী মোবারক, দেশ বার্তা পত্রিকার সোনারগাঁও প্রতিনিধি এরশাদ হুসাইন অন্য এবং নির্বাহী সদস্য রোকেয়া আক্তার বেবীসহ আরও অনেকে। -

ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কে কয়েক কিলোমিটার যানজট, গরমে ভোগান্তিতে যাত্রীরা
নিজস্ব প্রতিবেদক: কুমিল্লার দাউদকান্দিতে সড়ক দুর্ঘটনার প্রভাবে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ অংশে শুক্রবার সকাল থেকে ভয়াবহ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এতে মহাসড়কের কয়েক কিলোমিটারজুড়ে যানবাহন আটকে পড়ে চরম দুর্ভোগে পড়েন যাত্রী ও চালকেরা।
শুক্রবার (১৫ মে) সকাল থেকে মহাসড়কের চট্টগ্রামমুখী লেনে যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। মেঘনা টোলপ্লাজা থেকে শুরু হয়ে যানজট মদনপুর এলাকা ছাড়িয়ে বিস্তৃত হয়। দীর্ঘ সময় যান চলাচল বন্ধ থাকায় অনেক যাত্রীকে গাড়ি থেকে নেমে হেঁটে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা দিতে দেখা গেছে। নারী, শিশু ও দূরপাল্লার যাত্রীরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েন।
সোনারগাঁয়ের জামপুর এলাকার বাসিন্দা রুবেল হোসেন জানান, সকাল থেকেই মহাসড়কে তীব্র চাপ ছিল। অনেক যানবাহন ঘণ্টার পর ঘণ্টা একই স্থানে আটকে থাকায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছে যায়।
চট্টগ্রামমুখী একটি কাভার্ডভ্যানের চালক সেলিম মিয়া বলেন, ভোরে ঢাকার দিক থেকে পণ্য নিয়ে রওনা দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সোনারগাঁয়ের মোগরাপাড়া এলাকায় এসে দীর্ঘ সময় ধরে যানজটে আটকে আছেন। পরে জানতে পারেন দাউদকান্দি এলাকায় দুর্ঘটনার কারণেই এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে কুমিল্লাগামী যাত্রী নাজমা বেগম বলেন, পারিবারিক একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে রওনা দিয়েছিলেন। কিন্তু মহাসড়কের যানজটের কারণে কয়েক ঘণ্টা ধরে একই স্থানে বসে থাকতে হচ্ছে। কখন গন্তব্যে পৌঁছাবেন তা নিয়েও অনিশ্চয়তায় আছেন তিনি।
কাঁচপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম শেখ জানান, গভীর রাতে দাউদকান্দি এলাকায় একটি দুর্ঘটনার কারণে যান চলাচল ব্যাহত হয়। এর প্রভাব ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সোনারগাঁ অংশ পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। পরে দুর্ঘটনাকবলিত যান সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, দীর্ঘ সময় যানজটে আটকে থাকায় অনেক চালক গাড়ির ভেতরেই বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। যান চলাচল সচল রাখতে পুলিশ সদস্যরা কাজ করছেন এবং দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে। -

সোনারগাঁয়ে পঞ্চমীঘাট-গোলনগর ব্রিজ নির্মাণে এমপি মান্নানের ডিও লেটার
নিজস্ব প্রতিবেদক : নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার পঞ্চমীঘাট-গোলনগর সড়কে একটি ব্রিজ নির্মাণের দাবিতে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রধান প্রকৌশলীর কাছে ডিও লেটার দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান।
ডিও লেটারে উল্লেখ করা হয়, সোনারগাঁ উপজেলার পঞ্চমীঘাট-গোলনগর সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে এলাকাবাসীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। বর্তমানে সাদিপুর ও সনমান্দী ইউনিয়নের প্রায় ১০ হাজার মানুষ এবং শিক্ষার্থীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাঁশের সাঁকো দিয়ে চলাচল করছেন।
বিশেষ করে বর্ষা মৌসুম ও ঝড়-বৃষ্টির সময় সাঁকো পারাপারে প্রায়ই দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়। ফলে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষকে অনেক দূর ঘুরে যাতায়াত করতে হচ্ছে বলে ডিও লেটারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া প্রস্তাবিত ব্রিজটি নির্মিত হলে সোনারগাঁ ও আড়াইহাজার উপজেলার মধ্যে সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে উঠবে। একই সঙ্গে এলাকার একটি কলেজ, উচ্চ বিদ্যালয়, দুটি হাট এবং ঢাকা-মদনপুর মহাসড়কের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ডিও লেটারে “উপজেলা, ইউনিয়ন ও গ্রামীণ সড়কে অনূর্ধ্ব ১০০ মিটার ব্রিজ নির্মাণ প্রকল্প”-এর আওতায় দ্রুত ব্রিজটি নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে। -

সোনারগাঁয়ে অনাবৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়ায় আম-লিচুর ফলনে বিপর্যয়, লোকসানের আশঙ্কায় চাষিরা
নিউজ সোনারগাঁ : নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে চলতি মৌসুমে আম ও লিচুর ফলনে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। অনাবৃষ্টি, তীব্র তাপদাহ এবং দফায় দফায় শিলাবৃষ্টির কারণে লিচুর ফুল ও মুকুল ঝরে পড়েছে। একইভাবে খরার প্রভাবে আমের মুকুলও নষ্ট হয়ে যাওয়ায় আশানুরূপ ফলন হয়নি। ফলে ফলের আকার ও স্বাদে পরিবর্তন এসেছে, যা নিয়ে উদ্বেগে রয়েছেন বাগান মালিক ও চাষিরা।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, সোনারগাঁয়ের প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই কমবেশি আম গাছ রয়েছে। বাণিজ্যিকভাবে আম চাষ কম হলেও স্থানীয় চাহিদা মেটাতে এসব গাছ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে শীত শেষে গাছে মুকুল আসার পর পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হওয়ায় তীব্র খরায় সেই মুকুল শুকিয়ে ঝরে পড়েছে। ফলে অনেক গাছে এখন নতুন পাতার উপস্থিতি দেখা গেলেও ফলনের সম্ভাবনা প্রায় নেই বললেই চলে।
অন্যদিকে, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌর এলাকায় প্রায় ১০৮ হেক্টর জমিতে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে সাড়ে ৩ শতাধিক লিচুর বাগান রয়েছে। এসব বাগান থেকে সাধারণত প্রায় ৭০০ মেট্রিক টন লিচু উৎপাদিত হয়। তবে চলতি মৌসুমে বৈরী আবহাওয়ার কারণে সেই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
বাগান ঘুরে দেখা গেছে, কদমি, চায়না-৩, মোজাফফরপুরী, এলাচি ও পাতি জাতের লিচু চাষ হলেও কদমি জাতের আধিক্য বেশি। কিন্তু এবার প্রতিটি গাছে ফলন উল্লেখযোগ্যভাবে কম। যেখানে একটি ছড়ায় সাধারণত ২০-৩০টি লিচু থাকে, সেখানে এখন মাত্র ২-৩টি দেখা যাচ্ছে। এতে উৎপাদন খরচ তুলতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে চাষিদের।
বাগান মালিক ও মৌসুমি ব্যবসায়ীরা জানান, অতিরিক্ত তাপদাহ ও শিলাবৃষ্টির কারণে কীটনাশক কার্যকর হয়নি। ফলে পোকামাকড়ের আক্রমণ বেড়েছে এবং ফল ঝরে পড়েছে। গত বছর প্রতি পিস লিচু ৭-৮ টাকায় বিক্রি হলেও এবার ৪-৫ টাকায়ও ক্রেতা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। এতে করে অনেকেই শ্রমিকের মজুরি নিজেদের পকেট থেকে দিতে বাধ্য হচ্ছেন।
লিচু চাষিরা বলেন, তীব্র গরমে গাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয়েছে, ফলে লিচুর আকার ছোট হয়েছে এবং বাজারমূল্য কমে গেছে। সার্বিকভাবে এবারের মৌসুম তাদের জন্য হতাশাজনক।
এ বিষয়ে সোনারগাঁ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আফরোজা সুলতানা বলেন, গত বছরের তুলনায় এ বছর লিচুর বাগানের পরিমাণ কিছুটা বেড়েছে এবং উৎপাদন ৭৫০ মেট্রিক টনে পৌঁছানোর আশা ছিল। কিন্তু তাপদাহ ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে ফলন কমে গেছে। কৃষি অফিস থেকে চাষিদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হয়েছে এবং সীমিত পরিসরে স্প্রে মেশিন সরবরাহ করা হয়েছে। তবে সরকারি কোনো আলাদা বরাদ্দ না থাকায় সহায়তা সীমিত রয়েছে।
-

সেন্ট মার্টিন নিয়ে অন্তর্বতী সরকারের সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে
সেন্ট মার্টিনে পর্যটন নিয়ন্ত্রণে অন্তর্বর্তী সরকারের নেওয়া সিদ্ধান্ত বহাল রাখার ইঙ্গিত দিয়েছে সরকার। পরিবেশ, প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার স্বার্থে দ্বীপটিতে বছরে সীমিত সময়ের জন্য পর্যটন চালু রাখার নীতি অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু।
জার্মানভিত্তিক গণমাধ্যম Deutsche Welle-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, সেন্ট মার্টিন দ্বীপে পর্যটন কার্যক্রম দীর্ঘমেয়াদে চালু থাকলে দ্বীপটির পরিবেশগত ভারসাম্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এ কারণে বছরে মাত্র তিন মাস পর্যটকদের জন্য দ্বীপটি উন্মুক্ত রাখা এবং বাকি নয় মাস বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত কার্যকর রাখা প্রয়োজন।
মন্ত্রী বলেন, ২০২৪ সালে নেওয়া এই সিদ্ধান্তের আগে প্রায় সাত বছর ধরে বিভিন্ন সংস্থা ও বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা ও গবেষণা চালানো হয়। সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণেও দেখা গেছে, টানা নয় মাস পর্যটন বন্ধ থাকায় দ্বীপটির পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। এ সময়ে প্রকৃতি নিজেকে পুনরুদ্ধারের সুযোগ পায়।
বর্তমান নীতিমালা অনুযায়ী, নভেম্বর থেকে জানুয়ারি—এই তিন মাস প্রতিদিন সর্বোচ্চ দুই হাজার পর্যটক সেন্ট মার্টিন ভ্রমণের অনুমতি পান। অক্টোবর মাসে দ্বীপে যাতায়াতে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়।
সরকারের মতে, উন্মুক্ত সাগরের বুকে বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্ট মার্টিন দ্বীপ-এর পরিবেশগত অস্তিত্ব রক্ষায় এই নিয়ন্ত্রিত পর্যটন ব্যবস্থা অপরিহার্য। তাই ভবিষ্যতেও এ নীতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখা হবে। -

দিনভর যানজটে নাকাল ঢাকাগামী যাত্রীরা
নিজস্ব প্রতিনিধি: ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন ঢাকাগামী যাত্রীরা। গতকাল রাত থেকে শুরু হওয়া এই যানজট এখনো অব্যাহত রয়েছে। এতে সড়কের বিভিন্ন অংশে যানবাহন কচ্ছপগতিতে চলাচল করছে।
সড়ক ব্যবহারকারীরা জানান, রাত থেকেই ধীরগতির যানবাহন, অতিরিক্ত গাড়ির চাপ এবং সড়কের কিছু স্থানে সংকীর্ণতার কারণে যানজটের সৃষ্টি হয়। সকাল গড়াতেই পরিস্থিতি আরও খারাপ আকার ধারণ করে। কর্মস্থলগামী মানুষ, রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্সসহ বিভিন্ন যানবাহন দীর্ঘ সময় আটকে থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েন যাত্রীরা।
অনেক যাত্রী অভিযোগ করেন, কয়েক কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে তাদের কয়েক ঘণ্টা সময় লেগে যাচ্ছে। বিশেষ করে গণপরিবহনে থাকা নারী, শিশু ও বয়স্করা বেশি কষ্টে পড়েছেন।
এদিকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানায়, যানজট নিরসনে কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। যানবাহনের চাপ কমে এলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
যাত্রীদের দুর্ভোগ কমাতে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন -

বাড়ছে চার্জার ফ্যান কেনার হিড়িক, সোনারগাঁয়ে চাহিদা তুঙ্গে
নিউজ সোনারগাঁ : অব্যাহত লোডশেডিংয়ে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলায়। ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে সাধারণ মানুষ পড়ছেন চরম ভোগান্তিতে। বিশেষ করে গরমের তীব্রতায় পরিস্থিতি আরও অসহনীয় হয়ে ওঠায় বিকল্প হিসেবে চার্জার ফ্যানের দিকে ঝুঁকছেন সবাই।
উপজেলার বিভিন্ন ইলেকট্রিক দোকান ঘুরে দেখা গেছে, গত কয়েক সপ্তাহে চার্জার ফ্যানের বিক্রি উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ক্রেতাদের চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন বিক্রেতারা। অনেক দোকানে জনপ্রিয় মডেলের ফ্যান ইতোমধ্যেই স্টক আউট হয়ে গেছে।
কাঁচপুর, মোগরাপাড়া ও বৈদ্যেরবাজার এলাকার একাধিক দোকানি জানান, আগে যেখানে দিনে ২-৩টি চার্জার ফ্যান বিক্রি হতো, এখন সেখানে প্রতিদিন ১০-১৫টি পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। হঠাৎ চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় কিছু ক্ষেত্রে দামও কিছুটা বেড়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ক্রেতারা।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দিনের বেশিরভাগ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় শিশু ও বয়স্কদের নিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে। রাতে ঘুমানোও কষ্টকর হয়ে উঠছে। এ অবস্থায় চার্জার ফ্যানই তাদের একমাত্র ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এদিকে, ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরবরাহ ঠিক রাখতে তারা ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থান থেকে অতিরিক্ত পণ্য আনানোর চেষ্টা করছেন। তবে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে কিছুটা সময় লাগতে পারে।
সচেতন মহল মনে করছেন, দ্রুত বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতি না হলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়বে এবং চার্জার ফ্যানের বাজারে চাপ অব্যাহত থাকবে। -

ভারতে চিকিৎসা নিতে গিয়ে বিপাকে সাংবাদিক জহির মৃধা
নিজস্ব প্রতিবেদক: দৈনিক দিনকাল পত্রিকার সোনারগাঁও উপজেলা প্রতিনিধি সাংবাদিক জহিরুল ইসলাম (জহির মৃধা) ভারতে চিকিৎসা নিতে গিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন। অভিযোগ উঠেছে, অতিরিক্ত বিল পরিশোধে অপারগ হওয়ায় তাকে হাসপাতালের ভেতরেই অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে।
জানা যায়, হৃদরোগের চিকিৎসার জন্য তিনি ভারতে গিয়ে এক নারীর মাধ্যমে একটি হাসপাতালে ওপেন হার্ট সার্জারির জন্য প্রায় দেড় লাখ রুপি চুক্তি করেন এবং পূর্বেই সম্পূর্ণ অর্থ পরিশোধ করেন। কিন্তু বর্তমানে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তার কাছে সাত লাখ রুপিরও বেশি বিল দাবি করছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, অতিরিক্ত এই বিল পরিশোধ করতে না পারায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে ছাড়পত্র দিচ্ছে না। এমনকি আজ থেকে তার ও তার সঙ্গে থাকা স্ত্রীর জন্য ওষুধ ও খাবার সরবরাহও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।
বুধবার (২৫ মার্চ ২০২৬) বিকেলে জহিরুল ইসলাম হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে বিষয়টি জানান এবং সংশ্লিষ্ট বিলের ছবিও পাঠান। তিনি এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তির জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন -

পারলেন এমপি মান্নান: মোগরাপাড়া চৌরাস্তায় মিলেছে যানজট থেকে স্বস্তি
নিউজ সোনারগাঁ: নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার অন্যতম ব্যস্ত সড়ক গ্র্যান্ড ট্রাঙ্ক রোড, যা অনেকের কাছে থানা রোড নামেও পরিচিত। এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন সোনারগাঁ ও পার্শ্ববর্তী উপজেলার কয়েক হাজার মানুষ চলাচল করেন। তবে দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি প্রয়োজনের তুলনায় সরু হওয়ায় এখানে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত তীব্র যানজট লেগে থাকত।
ইতিপূর্বে বিভিন্ন সময় অনেক সংসদ সদস্য ও জনপ্রতিনিধি যানজট নিরসনের উদ্যোগ নিলেও তা স্থায়ীভাবে সফল হয়নি। তবে সাম্প্রতিক সময়ে নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ–সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান মোগরাপাড়া এলাকার যানজট নিরসনে সরাসরি উদ্যোগ নেওয়ায় পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মোগরাপাড়া চৌরাস্তা একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকা। এখানে বড় বড় শপিংমল, বাজার, রেস্তোরাঁ, স্কুল-কলেজ ও বাসস্ট্যান্ড থাকায় প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ নানা প্রয়োজনে এখানে আসেন। পাশাপাশি শতাধিক অটোরিকশা, সিএনজি ও বিভিন্ন কোম্পানির ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে প্রায়ই দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হতো।
এর সঙ্গে মোগরাপাড়া চৌরাস্তার আশপাশে রাস্তার উপর গড়ে ওঠা অবৈধ ফুটপাত ও হকারদের দোকান যানজটকে আরও তীব্র করে তুলেছিল। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন সভা-সমাবেশে প্রশাসনকে অবহিত করা হলেও রাজনৈতিক নানা কারণে আগে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হয়নি।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত এক সভায় যানজট নিরসনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনকে নির্দেশ দেন এমপি মান্নান। পরে তিনি সরেজমিনে মোগরাপাড়া এলাকায় গিয়ে অবৈধ ফুটপাত ও দোকান উচ্ছেদের ঘোষণা দেন।
এরই ধারাবাহিকতায় উপজেলা প্রশাসন ও থানা প্রশাসন কয়েকদিন ধরে অভিযান চালিয়ে মোগরাপাড়া ফুটওভার ব্রিজ এলাকা ও চৌরাস্তায় থাকা হকার ও অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদ করে। পাশাপাশি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সদস্যদের সহায়তায় প্রতিদিন যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণের কাজও পরিচালনা করা হচ্ছে।
এসব উদ্যোগের ফলে বর্তমানে মোগরাপাড়া চৌরাস্তায় যানজট অনেকটাই কমে এসেছে। এতে পথচারী ও সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরেছে। এখন লোকজন তুলনামূলক স্বাভাবিকভাবে মোগরাপাড়ায় এসে কেনাকাটা করে নির্বিঘ্নে বাড়ি ফিরতে পারছেন। -

আবেদন করতে গিয়ে নিজেই বাতিল: সোনারগাঁয়ে আলোচনায় আলতাফ হোসেন
নিজস্ব প্রতিবেদক নিউজ সোনারগাঁ: নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে ১০৯ জনকে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা দাবি করে তালিকা বাতিলের আবেদন করেছিলেন আলতাফ হোসেন। তবে যাচাই–বাছাই শেষে উল্টো তার নিজের নামই মুক্তিযোদ্ধা তালিকা থেকে বাতিল করা হয়েছে।
মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা)–এর ১০৩তম সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সারা দেশে ৭৮ জনকে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকা থেকে বাদ দিয়ে গত সোমবার প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। প্রকাশিত তালিকায় আলতাফ হোসেনের নাম ৫৪ নম্বরে রয়েছে। সোনারগাঁ উপজেলা থেকেই বাতিল হয়েছেন ৫১ জন।
বর্তমানে আলতাফ হোসেন সোনারগাঁ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের ডেপুটি কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর তিনি নিজেকে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা দাবি করে জামুকায় ১০৯ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে জামুকার একটি প্রতিনিধি দল ২০২৫ সালের ২৩ নভেম্বর সোনারগাঁয়ে পরিদর্শনে এসে গণশুনানি করে। গণশুনানি ও নথিপত্র যাচাই শেষে আলতাফ হোসেনসহ ৫১ জনকে বাতিলের সুপারিশ করা হয়।
জামুকার মহাপরিচালক শাহিনা খাতুন–এর নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত গণশুনানিতে সদস্য হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মেজর (অব.) সৈয়দ মুহিবুর রহমান, হাবিবুল্লাহ আলম, মেজর (অব.) ফজলুর রহমান, সাদেক আহমেদ খান, মেজর (অব.) আব্দুস সালাম এবং সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা রহমান। পরে উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে প্রেস ব্রিফিং করেন প্রতিনিধি দল।
এ বিষয়ে আলতাফ হোসেন বলেন, শতাধিক মুক্তিযোদ্ধার বিরুদ্ধে আবেদন করায় একটি পক্ষ ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে বাতিল করিয়েছে। তিনি দাবি করেন, তিনি ভারতীয় প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তিযুদ্ধকালে কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্রসহ তিনি পুনর্বিবেচনার জন্য জামুকায় আবেদন করবেন বলে -

ধ্বংসের মুখে ঐতিহাসিক পিঠাওয়ালীর ব্রিজ, দ্রুত সংস্কারের দাবি
নিউজ সোনারগাঁ : নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের মুঘল আমলের ঐতিহাসিক কোম্পানিকা সেতু (যা স্থানীয়ভাবে পিঠাওয়ালীর ব্রিজ নামে পরিচিত) বর্তমানে ধ্বংসের মুখে। প্রায় পাঁচশত বছরের পুরোনো এক খিলানবিশিষ্ট এই সেতুটি সংস্কারের অভাব ও অতিরিক্ত যানবাহনের চাপে নড়বড়ে হয়ে ভেঙ্গে পড়ছে।
স্থানীয় ইতিহাসবিদ, সংস্কৃতিসেবী ও সচেতন নাগরিকরা দ্রুত সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, এটি শুধু সোনারগাঁ নয়, সমগ্র বাংলার ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন। বিলম্ব হলে অমূল্য স্থাপত্য ইতিহাস হারিয়ে যেতে পারে।
সোনারগাঁয়ের ইতিহাস-ঐতিহ্য সংরক্ষণ কমিটির নেতারা জানান, ইতোমধ্যে মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি রয়েছে।
প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর জানায়, প্রাথমিক জরিপ শেষ হয়েছে এবং শিগগিরই সংরক্ষণ প্রকল্পের আওতায় ব্রিজটি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সচেতন মহলের দাবি, সরকার ও স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বিত পদক্ষেপেই রক্ষা পেতে পারে ঐতিহাসিক এই সেতু।
-

লাঙ্গলবন্দ ব্রিজে সংস্কার কাজ, টানা দুইদিন ধরে তীব্র যানজট
নিউজ সোনারগাঁ : ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের লাঙ্গলবন্দ ব্রিজের একপাশ বন্ধ রেখে সংস্কার কাজ চালানোর কারণে গত দুইদিন ধরে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এতে বিশেষ করে রোজার মাসে যাত্রী ও পরিবহন চালকদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক বছর ধরে ব্রিজটির বিভিন্ন স্থানে ঢালাই উঠে গিয়ে খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। এসব খানাখন্দের কারণে সেতুর ওপরের স্টিল প্লেট সরে গিয়ে বিভিন্ন স্থানে গর্ত তৈরি হয়। এতে যান চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে।
সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর গত কয়েক বছর ধরে একপাশ বন্ধ রেখে অন্যপাশ দিয়ে যান চলাচল চালু রেখে আংশিক সংস্কার কাজ করে আসছে। তবে পুরোপুরি সংস্কার না হওয়ায় কিছুদিন পরপরই একই সমস্যা দেখা দিচ্ছে। ফলে আবারও একপাশ বন্ধ করে কাজ শুরু করতে হচ্ছে। এতে মহাসড়কে দুই পাশে ১০ কিলোমিটার পযর্ন্ত যানজট তৈরি হচ্ছে।
মহাসড়কে চলাচলকারী যাত্রীরা জানান, সামান্য পথ পাড়ি দিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকতে হচ্ছে। রোজার মধ্যে এমন ভোগান্তি কল্পনাতীত। অনেকেই সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছেন না।
চালকরা জানান, একপাশ দিয়ে যান চলাচল করায় ব্রিজের উভয় প্রান্তে গাড়ির দীর্ঘ লাইন তৈরি হচ্ছে। এতে জ্বালানি খরচ বাড়ছে এবং নির্ধারিত সময়ে ট্রিপ শেষ করা যাচ্ছে না। দ্রুত স্থায়ী সমাধান না হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে বলেও তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, টেকসই ও পূর্ণাঙ্গ সংস্কার কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা না হলে এ ভোগান্তি থেকে মুক্তি মিলবে না। -

সোনারগাঁয়ে পৃথক হামলায় বিএনপির ৩ নেতা আহত, থানায় অভিযোগ
নিউজ সোনারগাঁ: সোনারগাঁয়ে পৃথক হামলার ঘটনায় তিন বিএনপি নেতা আহত হয়েছেন। সোনারগাঁ পৌরসভার ষোলপাড়া ব্রিজ এলাকা ও উপজেলা পরিষদের সামনে পৃথক হামলার ঘটনা ঘটেছে।
বৃহস্পতিবার বিকেলে সোনারগাঁ পৌর এলাকায় চাঁদার টাকা না পেয়ে হামলার ঘটনা ঘটে । এ ঘটনায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)র সোনারগাঁও পৌরসভার সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রহিমসহ ৯ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২০-২৫ জনকে আসামি করে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, আব্দুর রহিমের নির্দেশে ২০ থেকে ২৫ জনের একটি দল বৃহস্পতিবার বিকেলে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। হামলাকারীরা চাপাতি, চাইনিজ কুড়াল, ছুরি, সাবল ও হকিস্টিক দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করে। স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে ধাওয়া দিলে তারা পালিয়ে যায়।
হামলায় গুরুতর আহত হন পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ আবু সাঈদ ও পৌর শ্রমিক দলের সভাপতি আবুল হোসেন। আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।
আহত আবু সাঈদের স্ত্রী কাজল রেখা বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সোনারগাঁ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, হামলাকারীরা আহতদের সঙ্গে থাকা ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। পাশাপাশি ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছিল এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টাকা না দিলে হত্যার হুমকি দেয়া হয় বলেও অভিযোগে বলা হয়।
ভুক্তভোগীদের দাবি, তারাও দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত এবং ব্যবসায়িকভাবে ড্রেজার ও বালি ভরাটের কাজ করে আসছেন। তাদের অভিযোগ সম্প্রতি বিএনপির ‘নব্য’ কিছু কর্মী প্রভাব খাটিয়ে নিয়মিত চাঁদা দাবি করছে।
মামলায় অভিযুক্তরা হলেন, আব্দুর রাহিম (৬০), মো. ইব্রাহিম (২৬), ইস্রাফিল (২৪), মো. নজরুল ইসলাম (৩৬), রায়হান (২০), মো. রোমান (২৪), ইমাম হাসান (২৩), মো. সোহাগ (২২) ও মো. সিয়াম (২০)।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত আব্দুর রহিম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমি এর কিছুই জানি না।
সোনারগাঁ থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহিববুল্লাহ জানান অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে বৃহস্পতিবার সকালে সোনারগাঁও উপজেলা পরিষদের সামনে সোনারগাঁও উপজেলা বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির রফিকের উপর অতর্কিত হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। এ সময় হুমায়ুন কবির রফিককে পিটিয়ে আহত করা হয়। পরে আশপাশের মানুষ এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।
হুমায়ুন কবির রফিক ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক মোঃ রেজাউল করিমের পক্ষে মাঠে সক্রিয় ছিলেন।
সেজন্য স্থানীয় বিএনপি তার উপর ক্ষিপ্ত ছিল বলে তিনি জানান। এ ঘটনায় তিনি সোনারগাঁ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন।
-

সোনারগাঁয়ে শব্দ দুষণের অভিযোগে দুটি যানবাহনকে দুই হাজার টাকা জরিমানা
নিউজ সোনারগাঁ :নারায়ণগঞ্জ সোনারগাঁয়ে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সোনারগাঁ উপজেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
বুধবার বিকেলে উপজেলার মোগরাপাড়া এলাকার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন সোনারগাঁ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তৌফিকুর রহমান ও কাঁচপুর রাজস্ব সার্কেল এর সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফাইরুজ তাসনিম।
এসময় অভিযানে উচ্চ শব্দ সৃষ্টি করার অপরাধে পৃথকভাবে দুটি যানবাহনকে ১হাজার টাকা করে মোট ২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
অভিযানে সোনারগাঁ থানা পুলিশ এবং পরিবেশ অধিদপ্তর, নারায়ণগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. হুজ্জাতুল ইসলাম প্রসিকিউশন প্রদান করেন।
এসময় পরিবেশ সুরক্ষায় এবং শব্দদূষণ রোধে সকল প্রকার যানবাহন চালককে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। সেই সাথে ভবিষ্যতে কেউ এই ধরনের আইন লঙ্ঘন করলে তাদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়।