নিউজ সোনারগাঁ: মাহে রমজানকে সামনে রেখে বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে সোনারগাঁ উপজেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চালানো হলেও তার বাস্তব প্রভাব দেখা যায়নি মোগরাপাড়া চৌরাস্তার কাঁচাবাজারে। বরং জরিমানার অর্থ পুষিয়ে নিতে কিছু ব্যবসায়ী আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
গত বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত বাজারে তদারকি করেন উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা। এ সময় অতিরিক্ত মূল্যে পণ্য বিক্রি, মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করা এবং পণ্য ক্রয়ের চালান বা রসিদ দেখাতে না পারার অভিযোগে প্রায় ২০ জন ব্যবসায়ীকে জরিমানা করা হয়। অভিযানের শেষে ব্যবসায়ীদের সতর্ক করে দেওয়া হয় এবং পুনরায় তদারকির হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়।
কিন্তু সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রশাসনের লোকজন চলে যাওয়ার পর আগের অবস্থায় ফিরে যান অধিকাংশ দোকানি। অনেক দোকানেই মূল্য তালিকা টানানো হয়নি, চালান রসিদও নেই। যে লেবুর দাম বেশি রাখার কারণে জরিমানা করা হয়েছিল, সেটিও আগের দামে বিক্রি হতে দেখা গেছে। শুক্রবার সরকারি ছুটির দিন হওয়ায় কিছু পণ্যের দাম আরও বেড়েছে।
তরমুজ বিক্রেতাদের মধ্যেও একই চিত্র দেখা যায়। যাদের মূল্য তালিকা ও চালান না থাকায় জরিমানা করা হয়েছিল, তারা পরদিন তরমুজের কেজিতে আরও ১০ টাকা বাড়িয়ে বিক্রি করছেন। বৃহস্পতিবার যেখানে তরমুজের কেজি ৮০ থেকে ৯০ টাকায় বিক্রি হয়েছে, সেখানে শুক্রবার দাম আরও বেশি রাখা হয়।
একাধিক ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, মোবাইল কোর্টে যে জরিমানা করা হয়েছে, সেই টাকা তুলতেই বাড়তি দামে পণ্য বিক্রি করছেন অনেকে।
ফলের দোকানগুলোতেও একই অবস্থা। মূল্য তালিকা না থাকার কারণে যেসব দোকানিকে জরিমানা করা হয়েছিল, তাদের অনেকেই এখনো পূর্ণাঙ্গ মূল্য তালিকা টানাননি। শুধু খেজুরের বাক্সে সীমিতভাবে দাম উল্লেখ করা হয়েছে। আবার অনেক দোকানে সব পণ্যের জন্য একই ধরনের মূল্য তালিকা ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে, যা বাস্তব দামের সঙ্গে মিলছে না বলে অভিযোগ ক্রেতাদের।
এ অবস্থায় প্রশ্ন উঠেছে, ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ থাকলে বাজার নিয়ন্ত্রণ কতটা সম্ভব। স্থানীয়রা মনে করছেন, নিয়মিত নজরদারি ও কঠোর মনিটরিং না থাকলে অসাধু ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করা কঠিন হবে।
উপজেলা প্রশাসনের জরিমানার পরও প্রভাব পড়েনি মোগরাপাড়া কাঁচাবাজারে

Leave a Reply