দালালের খপ্পরে পড়ে স্বপ্নের মৃত্যু

নিউজ সোনারগাঁ টুয়েন্টিফোর ডটকম: নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের শম্ভুপুরা ইউনিয়নের চরকিশোরগঞ্জ গ্রামের কবির হোসেন ভাগ্য ফেরাতে প্রবাসে গিয়ে লাশ হয়ে ফিরলেন।

সোমবার (৩ মার্চ) সকালে তার লাশ চরকিশোরগঞ্জ নিজ বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। লাশ আনার পর তার বাড়িতে এক হৃদয় বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। সেখানে আত্মীয় স্বজন ও প্রতিবেশীদের কান্নায় সেখানকার বাতাস ভারী হয়ে উঠে।

এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী কহিনুর বেগম বাদি হয়ে গত ১৯ জানুয়ারী বিকেলে সোনারগাঁ থানায় দু’জনকে আসামী করে অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের পর পুলিশ তদন্ত তো দূরের কথা ফোনেও তাদের সঙ্গে কথা বলেননি। সোমবার সকালে শম্ভুপুরা ইউনিয়নের চরকিশোরগঞ্জ এলাকায় তার বাড়িতে লাশ নিয়ে আসা হয়। সেখানে এক হৃদয় বিদারক দৃশ্যের অবতরণা হয়।

কোহিনূর বেগম অভিযোগে উল্লেখ করেন, ‘আমার স্বামী দেশে ব্যবসা করত, কিন্ত ব্যবসার অবস্থা ভাল ছিল না। এ কারণে সংসারে স্বচ্ছলতা ফেরাতে সে তুরস্ক যাওয়ার স্বপ্ন দেখে।

মুন্সিগঞ্জ জেলার টঙ্গীবাড়ীর কাইজ এলাকার জাহিদ (৪৫) ও তার বন্ধু কালাম হোসেন মান্নান (৫৫) নামক দুই আদম ব্যবসায়ী তাকে ৮ লক্ষ টাকার বিনিময়ে তুরস্ক নেয়ার কথা বলে গত ৮ মাস পূর্বে উজবেকিস্তানে নিয়ে ছেড়ে দেয়। সেখানে দিনের পর দিন কোনো খোঁজ খবর না নিয়ে ফেলে রাখে এবং তুরস্ক নেয়ার কথা বললে টালবাহানা করতে থাকে। পরবর্তীতে ফোন কলের মাধ্যমে তার অবস্থা অনেক খারাপ বলে পরিবারকে জানায়। ’

স্ত্রী কোহিনূর বেগম বলেন, ‘আমার স্বামীর অবস্থা খারাপ বলে দালালদের জানানো হলে তারা ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলে পুনরায় ৮০ হাজার টাকা নিয়ে যায়।

কিন্তু গত ১৩ জানুয়ারি কবির হোসেন মারা গেছে বলে জানতে পারে পরিবার৷ স্বামীর লাশটা ফেরত পাওয়ার জন্য একাধিকবার ফোন করা হলে উল্টো ক্ষতিপূরণ না দিয়ে বিভিন্নভাবে মামলার ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদান করে দালালরা। ’

নিহতের ফুফাতো ভাই রফিকুল ইসলাম বলেন, কবির হোসেনের দুই ছেলে, তিন মেয়ে। আর্থিক দুরবস্থায় পড়ে ভাগ্য ফিরাতে বিদেশ গিয়েছে। কে জানতে তার এ পরিণতি হবে। তার দু’ চালা ঘরের দরজা পর্যন্ত নাই। পুরানো কাপড় ঘরের দরজা হিসাবে ব্যবহার করে। কবির হোসেনের মৃত্যুতে তার পরিবার অথৈ সাগরে হাবু ডুব খাচ্ছে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত আদম ব্যবসায়ীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে কল রিসিভ করে পরিচয় জানার পর মোবাইল বন্ধ করে দেয়।

সোনারগাঁ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সঞ্জয় কুমার বসাককে একাধিকবার ফোন দেওয়ার হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ক্ষুদে বার্তা দিয়েও সাড়া পাওয়া যায়নি।

সোনারগাঁ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. রাশেদুল হাসান খাঁন বলেন, অভিযোগের বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে তিনি কোর্টে মামলা করার পরামর্শ দেন। কি কারনে এসআই যাননি এ বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।

নারায়ণগঞ্জ জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার( খ- অঞ্চল) আসিফ ইমাম বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ খবর নিয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *