Category: সর্বশেষ

  • সোনারগাঁয়ে চাঁদার দাবিতে ড্রেজারে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ, ৬ জনের নাম উল্লেখ করে থানায় অভিযোগ

    নিজস্ব প্রতিবেদক : নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার বারদী ইউনিয়নের শান্তি বাজার এলাকায় চাঁদার দাবিতে একটি ড্রেজারে হামলা, ভাঙচুর ও মালামাল লুটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ৬ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৮ থেকে ১০ জনকে অভিযুক্ত করে সোনারগাঁ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ড্রেজার মালিক মো. হানিফ সরকার (৬৯)।

    অভিযোগে হানিফ সরকার জানান, বারদী ইউনিয়নের চেঙ্গাকান্দি এলাকার বাসিন্দা বিল্লাল হোসেন, আশিক মিয়া, জুয়েল, সোহাগ, মুছা মিয়া ও আলমগীরসহ কয়েকজন দীর্ঘদিন ধরে তার কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। তিনি চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে অভিযুক্তরা তাকে বিভিন্ন সময় ভয়ভীতি ও ক্ষয়ক্ষতির হুমকি দেয়।
    লিখিত অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২৮ জুলাই বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে শান্তি বাজার এলাকায় তার ড্রেজারে দেশীয় অস্ত্র ও পিস্তলসহ সশস্ত্র একটি দল অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় তারা ড্রেজারের প্লাস্টিক পাইপ, মেশিনের গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ ভাঙচুর করে প্রায় সাড়ে ৩ লাখ টাকার ক্ষতি সাধন করে।
    হামলার সময় ড্রেজারের দায়িত্বে থাকা মিস্ত্রি সালাউদ্দিন ও কর্মচারী সুজন বাধা দিতে গেলে তাদের মারধর করা হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে, হামলাকারীরা তাদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে এবং পিস্তল দেখিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। এছাড়া ড্রেজার থেকে প্রায় ২০ হাজার টাকার যন্ত্রাংশ নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
    অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, ভবিষ্যতে ড্রেজার পরিচালনা করতে হলে চাঁদা দিতে হবে, অন্যথায় ড্রেজারে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়।
    এ বিষয়ে সোনারগাঁ থানা পুলিশ জানান, অভিযোগ পেলে ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত করেছে পুলিশ। তদন্ত শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
    তবে এ বিষয়ে অভিযুক্তদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

  • সোনারগাঁয়ে মোটরসাইকেলের এয়ার ফিল্টার বক্সে লুকানো ১,৯৫৫ পিস ইয়াবাসহ আটক ২

    সোনারগাঁয়ে মোটরসাইকেলের এয়ার ফিল্টার বক্সে লুকানো ১,৯৫৫ পিস ইয়াবাসহ আটক ২

    নিজস্ব প্রতিবেদক:  নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার মোগড়াপাড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অভিযান চালিয়ে মোটরসাইকেলের এয়ার ফিল্টার বক্সে অভিনব কৌশলে লুকিয়ে রাখা ১,৯৫৫ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব-১১।
    শনিবার (১ আগস্ট) রাত ১টা ১০ মিনিটের দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-১১, সদর কোম্পানি এ অভিযান পরিচালনা করে।
    গ্রেপ্তাররা হলেন কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার পাঁচোড়া গ্রামের আবুল কালাম আজাদ (৩৬) এবং ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার আনন্দপুর গ্রামের সবুজ (২৯)।
    র‍্যাব জানায়, মোগড়াপাড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ইয়াবা বিক্রির উদ্দেশ্যে অবস্থান করছিলেন ওই দুই ব্যক্তি। র‍্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা মোটরসাইকেল নিয়ে পালানোর চেষ্টা করলে তাদের আটক করা হয়। পরে তল্লাশি চালিয়ে মোটরসাইকেলের এয়ার ফিল্টার বক্সে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা ১,৯৫৫ পিস ইয়াবা উদ্ধার এবং মোটরসাইকেলটি জব্দ করা হয়।
    প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তাররা জানান, তারা একটি সংঘবদ্ধ মাদক চোরাচালান চক্রের সদস্য। সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে দীর্ঘদিন ধরে নারায়ণগঞ্জ ও ঢাকাসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ ও বিক্রি করে আসছিলেন।
    এ ঘটনায় গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে সোনারগাঁ থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

  • মোগরাপাড়ায় অবৈধ ব্যাটারি কারখানার বিষাক্ত ধোঁয়ায় স্বাস্থ্যঝুঁকির অভিযোগ, তদন্তের দাবি

    মোগরাপাড়ায় অবৈধ ব্যাটারি কারখানার বিষাক্ত ধোঁয়ায় স্বাস্থ্যঝুঁকির অভিযোগ, তদন্তের দাবি

    নিজস্ব প্রতিবেদক : নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার মোগরাপাড়া ইউনিয়নের কাইকারটেক এলাকায় একটি ব্যাটারি কারখানা থেকে নির্গত বিষাক্ত ধোঁয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে কারখানার দূষণের কারণে শিশু, নারী ও বৃদ্ধসহ অনেকেই শ্বাসকষ্ট, কাশি, চোখ জ্বালাপোড়া, ত্বকের সমস্যা এবং বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন।
    স্থানীয়দের অভিযোগ, কারখানায় উৎপাদন কার্যক্রম চলাকালে এবং বিশেষ করে আগুন জ্বালানোর সময় ঘন কালো ও বিষাক্ত ধোঁয়া চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে। এতে আশপাশের পরিবেশ দূষিত হওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে দাবি তাদের।
    এলাকাবাসীর আরও অভিযোগ, প্রয়োজনীয় পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়াই আবাসিক এলাকার মধ্যে কারখানাটি গড়ে তোলা হয়েছে। স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তিকে মাসিক মাসোহারা দিয়ে কারখানাটি পরিচালনা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা। তবে এ অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
    তাদের দাবি, কারখানার তীব্র তাপ ও ধোঁয়ার কারণে আশপাশের ফলজ ও বনজ গাছপালা শুকিয়ে যাচ্ছে। কৃষিজমিতে শাকসবজি ও অন্যান্য ফসল উৎপাদনও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রেই ফসল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয় কৃষকদের।
    এলাকাবাসী বলেন, তারা শিল্পায়ন বা কর্মসংস্থানের বিরোধী নন। তবে উন্নয়নের নামে যদি মানুষের স্বাস্থ্য, পরিবেশ ও নিরাপদ জীবনযাপনের অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাহলে সেই সমস্যার সমাধান করা জরুরি। মসজিদে অনুদান বা সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ প্রশংসনীয় হলেও তা কখনোই মানুষের স্বাস্থ্য ও নিরাপদ পরিবেশের বিকল্প হতে পারে না। তারা দূষণ নিয়ন্ত্রণে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার, পরিবেশগত প্রভাব নিরপেক্ষভাবে তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
    এ বিষয়ে সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. দিগন্ত বলেন, “দূষিত ধোঁয়া বা বিষাক্ত বায়ুর দীর্ঘমেয়াদি সংস্পর্শে থাকলে শ্বাসতন্ত্রের বিভিন্ন রোগ, চোখ ও ত্বকের সমস্যা এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যঝুঁকি দেখা দিতে পারে। এ ধরনের অভিযোগের ক্ষেত্রে পরিবেশগত পরীক্ষা-নিরীক্ষার পাশাপাশি স্বাস্থ্যগত মূল্যায়নও প্রয়োজন।”

    এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যাটারি কারখানার কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

  • সোনারগাঁয়ে পুকুরে ডুবে ৮ বছরের শিশুর মৃত্যু, খালা গুরুতর আহত

    সোনারগাঁয়ে পুকুরে ডুবে ৮ বছরের শিশুর মৃত্যু, খালা গুরুতর আহত

    নিউজ সোনারগাঁ : নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার পৌরসভার চিলারবাগ এলাকায় পুকুরের পানিতে ডুবে আয়ান (৮) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় রোজা নামে অপর এক শিশু গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছে। শুক্রবার (৩১ জুলাই) সকাল ১১টার দিকে শহীদ মজনু পার্ক সংলগ্ন একটি পুকুরে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকালে আয়ান, রোজা ও শান্তা নামে তিন শিশু চিলারবাগ এলাকার শহীদ মজনু পার্ক সংলগ্ন একটি পুকুরে গোসল করতে যায়। এ সময় স্থানীয় কয়েকজন তাদের বাড়ি ফিরে যেতে বললেও তারা কথা শোনেনি। একপর্যায়ে শান্তা বাড়ি ফিরে গেলেও আয়ান ও রোজা পুকুরে থেকে যায়। পরে তারা পানিতে তলিয়ে গেলে বিষয়টি কেউ টের পায়নি।
    কিছু সময় পর পরিবারের সদস্যরা শিশুদের খোঁজাখুঁজি শুরু করলে স্থানীয়দের কাছ থেকে তারা জানতে পারেন যে, আয়ান ও রোজা পুকুরে গোসল করছিল। পরে স্বজনরা পুকুরে নেমে তাদের উদ্ধার করে প্রথমে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন এবং পরে সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক আয়ানের অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। পরে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। রোজা বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
    নিহত আয়ান সনমান্দি ইউনিয়নের গোপেরবাগ এলাকার জামাল হোসেনের ছেলে। সে তার নানীর বাড়িতে বেড়াতে এসেছিল। আয়ান ও রোজা সম্পর্কে মামা-খালা।
    এ মর্মান্তিক ঘটনায় দুই পরিবারের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

  • রাজু হত্যা মামলায় বিএনপি নেতা মোতালেব মেম্বার ও যুবদল নেতা শাহাদাত প্রধানকে ‘মিথ্যা আসামি’ করার অভিযোগ পরিবারের

    রাজু হত্যা মামলায় বিএনপি নেতা মোতালেব মেম্বার ও যুবদল নেতা শাহাদাত প্রধানকে ‘মিথ্যা আসামি’ করার অভিযোগ পরিবারের

    নিজস্ব প্রতিবেদক : নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার শম্ভুপুরা ইউনিয়নের চর-কিশোরগঞ্জ এলাকায় রাজু হত্যা মামলায় ইউনিয়ন বিএনপির প্রবীণ নেতা মোতালেব মেম্বার ও তার ছেলে, যুবদল নেতা শাহাদাত প্রধানকে পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা আসামি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তাদের পরিবারের সদস্যরা।
    শাহাদাত প্রধানের স্ত্রী অভিযোগ করে বলেন, তার শ্বশুর ও স্বামী রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার। তিনি দাবি করেন, তার স্বামী দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। এলাকার কিছু নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তাদের রাজু হত্যা মামলায় জড়িয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
    তিনি আরও বলেন, ঘটনার সময় তার শ্বশুর ও স্বামী বাড়িতেই অবস্থান করছিলেন। বাড়ির সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করলে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে তার দাবি। এছাড়া, তার শ্বশুর প্রায় এক সপ্তাহ ধরে অসুস্থ থাকায় তার স্বামীও বাড়িতেই ছিলেন বলে তিনি জানান।
    শাহাদাত প্রধানের বোন বলেন, তার বাবা মোতালেব মেম্বার দীর্ঘদিন ধরে এলাকার মানুষের বিভিন্ন বিপদ-আপদে পাশে থেকেছেন এবং বিএনপির একজন নিবেদিতপ্রাণ কর্মী হিসেবে দুঃসময়েও দল ছেড়ে যাননি। গত ১৭ বছর আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তার বাবা একাধিক মামলা ও হয়রানির শিকার হয়েছেন বলেও তিনি দাবি করেন।
    তিনি আরও অভিযোগ করেন, তার বাবা ও ভাইকে এই হত্যা মামলায় জড়িয়ে রাজনৈতিক ফায়দা নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। তাদের পরিবার দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং তার বাবা ও ভাই পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির রাজনীতিবিদ বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
    পরিবারের সদস্যদের দাবি, গত ২৭ জুলাই রাত প্রায় ১১টার দিকে রাজুকে মারধরের ঘটনার পর তার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দায়ের করা মামলায় প্রকৃত ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত নন, এমন ব্যক্তিদেরও আসামি করা হয়েছে।
    তারা আরও অভিযোগ করেন, এই মামলাকে কেন্দ্র করে তাদের পরিবারসহ এলাকার কয়েকটি নিরীহ পরিবারের বাড়িঘরে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়েছে। এ ঘটনায় নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা জড়িত বলে তারা দাবি করেন।
    তবে এসব অভিযোগ সংশ্লিষ্ট পরিবারের পক্ষ থেকে করা হয়েছে। এ বিষয়ে মামলার বাদী, তদন্তকারী সংস্থা কিংবা পুলিশের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে।

  • সোনারগাঁয়ে পানি নিষ্কাশন পাইপ ড্রেন নির্মাণ কাজের উদ্বোধন ও গাছের চারা রোপণ

    সোনারগাঁয়ে পানি নিষ্কাশন পাইপ ড্রেন নির্মাণ কাজের উদ্বোধন ও গাছের চারা রোপণ

    নিউজ সোনারগাঁ : নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার সাদিপুর ইউনিয়ন পরিষদের পাশের সড়কের পানি নিষ্কাশনের সুবিধা নিশ্চিত করতে উপজেলা উন্নয়ন তহবিলের আওতায় একটি পাইপ ড্রেন নির্মাণ প্রকল্পের উদ্বোধন করেন ঢাকা বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার মো. মনিরুজ্জামান মিয়া। উদ্বোধন শেষে তিনি পরিষদের সামনে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে ইউনিয়ন পরিষদে এই কর্মসূচি পালন করা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. রায়হান কবির। প্রকল্পটির পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের দায়িত্বে ছিলেন সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসিফ আল জিনাত।

    অন্যানদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান এর পুত্র নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদল নেতা খাইরুল ইসলাম সজিব, সাদিপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান রমজান আলী প্রধান, সাদিপুর ইউনিয়ন বিএনপি সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান সরকার, সাংগঠনিক সম্পাদক আমান উল্লাহ, সোনারগাঁ থানা বিএনপি মহিলা বিষয়ক সম্পাদক সালমা আক্তার কাজল, সাদিপুর ইউনিয়ন বিএনপির ৫ নং ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক জজ মিয়া, সাদিপুর ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি আওলাদ হোসেনসহ ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যবৃন্দ ও বিএনপি অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

    জানা যায়, ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে উপজেলা উন্নয়ন তহবিল থেকে ৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যায়ে বিশ্বাস কনস্ট্রাকশন ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করেন। এটি বাস্তবায়িত হওয়ায় প্রায় ৩ শতাধিক পরিবার ও চলাচলের সড়কটি জলাবদ্ধতা থেকে রক্ষা পেয়েছে।

    স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতার সমস্যা নিরসনে এই পাইপ ড্রেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন সড়কে জমে থাকা পানি দ্রুত নিষ্কাশনের মাধ্যমে জনদুর্ভোগ কমবে এবং সাধারণ মানুষের চলাচল সহজ হবে।

    ফারুক হোসাইন
    ০১৮৩৩৫৪৭২৬৯

  • সোনারগাঁয়ে বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও চলমান উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিদর্শনে ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার

    সোনারগাঁয়ে বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও চলমান উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিদর্শনে ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার

    নিজস্ব প্রতিবেদক : নারায়ণগঞ্জ সোনারগাঁয়ে সেবার মান বাড়ানো, কাজের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করণ ও উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও চলমান উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিদর্শন করেছে ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার মোঃ মনিরুজ্জামান মিয়া।

    বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন দপ্তর ও চলমান উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিদর্শন করেন।

    পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক রায়হান কবির, সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী অফিসার আসিফ আল জিন্নাত,সোনারগাঁ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তৌফিকুর রহমান,ওসি তদন্ত আনোয়ার হোসেন, প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোঃ রাশেদুল ইসলাম,নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্যের পুত্র খায়রুল ইসলাম সজীবসহ প্রশাসনের কর্মকর্তা,স্থানীয় চেয়ারম্যানসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

    এসময় বিভাগীয় কমিশনার মোঃ মনিরুজ্জামান মিয়া বলেন,সরকারি সেবার মানোন্নয়ন, উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি এবং জনগণের কাছে প্রশাসনিক সেবা আরও কার্যকরভাবে পৌঁছে দিতে। তিনি বলেন এ ধরনের পরিদর্শন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আশা করি, সংশ্লিষ্ট সকলের আন্তরিক প্রচেষ্টায় সোনারগাঁয়ের উন্নয়নের ধারা আরও গতিশীল হবে এবং সাধারণ মানুষ এর সুফল ভোগ করবে।
    সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় গড়ে উঠুক একটি উন্নত, আধুনিক ও জনবান্ধব সোনারগাঁ।

    পরিদর্শন শেষে সমাজ সেবা অধিদপ্তরের আওতায় প্রতিবন্ধীদের মাঝে ৪ টি হুইলচেয়ার বিতরণ করা হয় এবং একজন প্রতিবন্ধীকে ২০ হাজার টাকা আর্থিক অনুদান প্রদান শেষে উপজেলা পরিষদ কক্ষে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

  • জুলাই বিপ্লবের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে সারাদেশের মসজিদে দোয়ার আহ্বান

    জুলাই বিপ্লবের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে সারাদেশের মসজিদে দোয়ার আহ্বান

    নিজস্ব প্রতিবেদক : জুলাই বিপ্লবের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে মাসব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে আগামী ৩১ জুলাই সারাদেশের সব মসজিদে বাদ জুমা বিশেষ দোয়ার আহ্বান জানিয়েছে ১১ দলীয় ঐক্য, নারায়ণগঞ্জ জেলা।

    এ উপলক্ষে সংগঠনটির পক্ষ থেকে দেশের ইমাম ও খতিবদের উদ্দেশে পাঠানো এক বার্তায় খুতবার আগে মুসল্লিদের কাছে একটি লিখিত আহ্বান পাঠ করে শোনানোর অনুরোধ জানানো হয়েছে।

    বার্তায় বলা হয়, দীর্ঘ ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদী দুঃশাসনের অবসান ঘটিয়ে ছাত্র-জনতাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমে জুলাই বিপ্লব সংঘটিত হয়। এ আন্দোলনে প্রায় দেড় হাজার মানুষ শহীদ হন এবং ৩০ হাজারের বেশি ছাত্র-জনতা আহত হন। তাদের মধ্যে অনেকেই এখনও দেশ-বিদেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

    এ প্রেক্ষাপটে শহীদদের শাহাদাতের যথাযথ মর্যাদা, আহতদের দ্রুত সুস্থতা, অন্ধ ও পঙ্গুত্ববরণকারীদের কল্যাণ এবং বাংলাদেশের স্থিতি, শান্তি, নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের সাহায্য কামনা করে ৩১ জুলাই বাদ জুমা বিশেষ দোয়া করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

    সংগঠনটি দেশের আলেম-ওলামা, ইমাম, খতিব ও মুসল্লিদের এ দোয়া কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে।

  • সোনারগাঁয়ের তিন গ্রামে শিয়ালের হামলা, নারী-শিশুসহ আহত ১০”

    সোনারগাঁয়ের তিন গ্রামে শিয়ালের হামলা, নারী-শিশুসহ আহত ১০”

    নিজস্ব প্রতিবেদক :  নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার তিনটি গ্রামে শিয়ালের হামলায় নারী ও শিশুসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। বুধবার (২৯ জুলাই) বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত উপজেলার সোনারকান্দী, ভটেরকান্দী ও নয়াপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সবাইকে জলাতঙ্ক (র‌্যাবিস) প্রতিরোধী টিকাও প্রদান করা হয়েছে।
    আহতরা হলেন, সোনারকান্দী গ্রামের দেলোয়ার হোসেন, লিটন ও শিশু আব্দুল্লাহ, ভটেরকান্দী গ্রামের জামে মসজিদের ইমাম, মিনহাজ, আব্দুল হাই ও এক বৃদ্ধা নারী এবং নয়াপাড়া গ্রামের গোলজার হোসেনসহ মোট ১০ জন।
    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিকেল থেকে সন্ধ্যার মধ্যে কয়েকটি শিয়াল লোকালয়ে ঢুকে পড়ে এবং পথচারী ও বাড়ির আঙিনায় অবস্থানরত মানুষের ওপর হামলা চালায়। শিয়ালগুলো একের পর এক বিভিন্ন বাড়ি ও সড়কে ঘুরে যাকে সামনে পেয়েছে তাকেই কামড়ে দেয়। এতে মুহূর্তেই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
    আহত আব্দুল হাই বলেন, “আমি বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে ছিলাম। হঠাৎ একটি শিয়াল এসে আমার পায়ে কামড় দিয়ে পালিয়ে যায়। বুঝে ওঠার আগেই ঘটনাটি ঘটে। পরে স্বজনরা আমাকে হাসপাতালে নিয়ে যান।”
    আরেক আহত মিনহাজ বলেন, “শিয়ালগুলো খুবই হিংস্র ছিল। একজনকে কামড়ে আবার দ্রুত অন্যজনের ওপর হামলা করছিল। এতে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং সবাই ছোটাছুটি শুরু করে। পরে স্থানীয়রা আমাদের হাসপাতালে পাঠান।”
    সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সুমাইয়া ইয়াকুব জানান, শিয়ালের কামড়ে আহত সবাই হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নিয়েছেন। তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসার পাশাপাশি র‌্যাবিস প্রতিরোধী ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি এলাকায় শিয়ালের উপদ্রব বেড়েছে। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়েছে। বন্যপ্রাণী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।
    শিরোনাম হতে পারে: “সোনারগাঁয়ের তিন গ্রামে শিয়ালের হামলা, নারী-শিশুসহ আহত ১০” অথবা “সোনারগাঁয়ে শিয়ালের তাণ্ডব, তিন গ্রামে আহত ১০ জন”

  • ৪০ প্রবাসী শ্রমিকের প্রায় ৪১ লাখ টাকার বেতন আত্মসাতের অভিযোগ, বাংলাদেশির বিরুদ্ধে মামলা ও দূতাবাসে অভিযোগ

    ৪০ প্রবাসী শ্রমিকের প্রায় ৪১ লাখ টাকার বেতন আত্মসাতের অভিযোগ, বাংলাদেশির বিরুদ্ধে মামলা ও দূতাবাসে অভিযোগ

    পরিমল বিশ্বাস: মালয়েশিয়ায় কর্মরত ৪০ জন বাংলাদেশি শ্রমিকের বেতন ও সংরক্ষিত ১ লাখ ৩৬ হাজার ৫০৫ মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪০ লাখ ৯৫ হাজার ১৫০ টাকা) আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে এক বাংলাদেশি প্রবাসীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বাংলাদেশে মামলা দায়েরের পাশাপাশি কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশ দূতাবাসে লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ও কূটনৈতিক ব্যবস্থা গ্রহণে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
    অভিযুক্ত মোহাম্মদ আব্দুল খালেক (৪৩), পাসপোর্ট নম্বর: EH0595136। তিনি বগুড়া জেলার শাজাহানপুর উপজেলার কাটাবাড়িয়া মধ্যপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। অভিযোগকারী মো. আবুল কালাম (৩৩) নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার বস্তল গ্রামের বাসিন্দা এবং বর্তমানে মালয়েশিয়ার একটি নির্মাণ প্রতিষ্ঠানে কন্ট্রাক্টর হিসেবে কর্মরত।
    অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আবুল কালাম ও আব্দুল খালেক একই প্রতিষ্ঠানে কন্ট্রাক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। শ্রমিকদের বেতন সংরক্ষণের জন্য ব্যবহৃত একটি লকারের চাবি তাদের দুজনের কাছেই ছিল। পরে প্রতিষ্ঠানের মালিক শ্রমিকদের বেতন ও অন্যান্য ব্যয় মেটানোর জন্য ১ লাখ ৩৬ হাজার ৫০৫ রিঙ্গিত তাদের কাছে হস্তান্তর করেন, যা লকারে সংরক্ষণের কথা ছিল।
    ভুক্তভোগীদের দাবি, কর্মব্যস্ততার কারণে আবুল কালাম টাকার ব্যাগটি লকারে রাখার জন্য আব্দুল খালেকের হাতে দেন। কিন্তু তিনি টাকাসহ গত জানুয়ারি মাসে বাংলাদেশে চলে যান। পরে বিভিন্ন মাধ্যমে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তিনি নিজ এলাকায় অবস্থান করছেন।
    এরপর ভুক্তভোগীরা বগুড়ায় অভিযুক্তের বড় ভাই আব্দুল মজিদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দেন। পরবর্তীতে আব্দুল খালেকও ব্যাংক হিসাব নম্বর নিয়ে পর্যায়ক্রমে শ্রমিকদের টাকা পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দেন। তবে কিছুদিন পর তিনি সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করে দেন এবং ভুক্তভোগীদের মোবাইল নম্বর ব্লক করে দেন। বাধ্য হয়ে তারা মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।
    ভুক্তভোগী আবুল কালাম অভিযোগ করেন, গত ২০ জুন তার ভাই অভিযুক্তের বগুড়ার বাড়িতে গিয়ে আত্মসাৎ করা অর্থ ফেরত চাইলে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়। এ সময় প্রাণনাশের হুমকিসহ বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগও তোলেন তিনি।
    আবুল কালাম বলেন, আত্মসাৎ হওয়া অর্থের কারণে ৪০ জন বাংলাদেশি শ্রমিক তাদের ন্যায্য বেতন থেকে বঞ্চিত রয়েছেন। ফলে বাসাভাড়া, খাবার এবং দৈনন্দিন খরচ চালাতে তারা চরম সংকটে পড়েছেন। শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ করতে না পারায় তিনিও আর্থিক, সামাজিক ও মানসিকভাবে কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছেন।
    তিনি আরও জানান, ঘটনার পর মালয়েশিয়ায় পুলিশ রিপোর্ট, বাংলাদেশে মামলা এবং কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশ দূতাবাসে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। বর্তমানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছেন তারা।
    ভুক্তভোগী শ্রমিকরা জানান, কয়েক মাসের কষ্টার্জিত বেতন আত্মসাতের কারণে তারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। অনেকে বাসাভাড়া, খাবার ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন। তারা দ্রুত তাদের ন্যায্য পাওনা ফেরত এবং অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।
    এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মালিক, মালয়েশিয়ার এক চীনা নাগরিক, ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, শ্রমিকদের বেতন পরিশোধের জন্য তিনি আব্দুল খালেকের কাছে অর্থ হস্তান্তর করেছিলেন। পরে তিনি পুরো অর্থ নিয়ে পালিয়ে যান। তিনি চান, ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকরা যেন দ্রুত তাদের প্রাপ্য অর্থ ফিরে পান।
    এদিকে ভুক্তভোগী আবুল কালাম প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতি দ্রুত আইনগত ও কূটনৈতিক ব্যবস্থা গ্রহণ, আত্মসাৎ হওয়া অর্থ উদ্ধার, ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ এবং অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

  • সোনারগাঁয়ে খাসির মাংসে পানি মিশনোর অপরাধে ৭০ হাজার টাকা জরিমানা

    সোনারগাঁয়ে খাসির মাংসে পানি মিশনোর অপরাধে ৭০ হাজার টাকা জরিমানা

    নিজস্ব প্রতিবেদক : নারায়ণগঞ্জ সোনারগাঁ উপজেলায় খাসির মাংসে পানি মিশিয়ে বিক্রির দায়ে আব্দুল বাতেন (৫৫) নামের এক মাংস ব্যবসায়ীকে ৭০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

    গতকাল বুধবার বেলা সারে ১০টার দিকে উপজেলার মোগরাপাড়া চৌরাস্তা বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে কাঁচপুর রাজস্ব সার্কেল এর সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফাইরুজ তাসনিম এ অর্থদণ্ড দেন।

    মাংস ব্যবসায়ী বাতেন উপজেলার বারদী ইউনিয়নের দৈলরদী গ্রামের মৃত এলাহী ব্যাপারীর ছেলে।সে দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় মাংস বিক্রি করেন।

    জানা যায়, মোগরাপাড়া চৌরাস্তা বাজার এলাকায় খাসির মাংসে পানি মিশিয়ে বিক্রির দায়ে পশু জবাই ও মাংসের মান নিয়ন্ত্রণ ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে ৭০ হাজার টাকা জড়িমানা অনাদায়ে ১৫ দিনের জেল দন্ডিত করা হয়। এ সময় মাংস ব্যবসায়ী আব্দুল বাতেন তার অপরাধ স্বীকার করেন এবং ৭০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন।

    এ ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনায় সহযোগিতা করেন, উপজেলা প্রানীসম্পদ অফিসার মোছাম্মৎ নইফা বেগম, পেশকার বায়েজিদ ও সোনারগাঁ থানা পুলিশের এসআই পারভেজসহ সঙ্গীয় ফোর্স। এসময় উপস্থিত ছিলেন, ফিল্ড ফ্যাসিলেটর মোঃ ইকবাল হোসেন।

    এবিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফাইরুজ তাসনিম জানান, ভোক্তাদের জন্য নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত মাংস ও খাদ্যপণ্য নিশ্চিত করতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। পশু চিকিৎসকের ছাড়পত্র ছাড়া পশু জবাই ও মাংস বিক্রির বিরুদ্ধে প্রশাসনের এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

  • শিক্ষাসফরে সোনারগাঁও জাদুঘর ও পানাম নগরী ঘুরে দেখল বরাব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা

    শিক্ষাসফরে সোনারগাঁও জাদুঘর ও পানাম নগরী ঘুরে দেখল বরাব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা

    নিজস্ব প্রতিবেদক: শিক্ষার্থীদের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি সম্পর্কে বাস্তব ধারণা দিতে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও জাদুঘর ও ঐতিহাসিক পানাম নগরী পরিদর্শন করেছে বরাব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা। “শিক্ষাসফর-২০২৬” কর্মসূচির অংশ হিসেবে সম্প্রতি এ শিক্ষা সফরের আয়োজন করা হয়।
    বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাদিরা বেগমের নেতৃত্বে শিক্ষার্থীরা সোনারগাঁও জাদুঘর ও পানাম নগরী ঘুরে দেখে। সফরকালে তিনি শিক্ষার্থীদের সোনারগাঁয়ের সমৃদ্ধ ইতিহাস, লোকজ ঐতিহ্য এবং জাদুঘরের প্রতিষ্ঠার পটভূমি সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা দেন। তিনি জানান, দেশের প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী জয়নুল আবেদিনের উদ্যোগ ও প্রচেষ্টায় সোনারগাঁও জাদুঘরের যাত্রা শুরু হয়, যা আজ বাংলাদেশের লোকজ সংস্কৃতি সংরক্ষণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান।
    এছাড়াও শিক্ষার্থীদের সামনে পানাম নগরীর ঐতিহাসিক গুরুত্ব, প্রাচীন স্থাপত্য, মুসলিম ঐতিহ্য এবং বিশ্বখ্যাত জামদানি শাড়ি তৈরির ইতিহাস ও ঐতিহ্য তুলে ধরা হয়। শিক্ষার্থীরা আগ্রহ ও মনোযোগের সঙ্গে প্রতিটি বিষয় শুনে এবং ঐতিহাসিক নিদর্শনগুলো ঘুরে দেখে আনন্দ প্রকাশ করে।
    প্রধান শিক্ষক নাদিরা বেগম বলেন, “শ্রেণিকক্ষের পাঠের পাশাপাশি বাস্তব অভিজ্ঞতা শিক্ষার্থীদের জ্ঞান অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে কাছ থেকে দেখানোর উদ্দেশ্যেই এই শিক্ষা সফরের আয়োজন করা হয়েছে। এতে শিক্ষার্থীরা নিজেদের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সম্পর্কে আরও সচেতন হবে এবং দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হবে।”
    শিক্ষা সফর শেষে শিক্ষার্থীরা এমন আয়োজনের জন্য বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের শিক্ষামূলক ভ্রমণের আয়োজনের দাবি জানায়।

  • মোগরাপাড়া চৌরাস্তায় এক কেজি পোলাওয়ের চালে বেড়েছে ৭৫ টাকা, বিপাকে ক্রেতারা

    মোগরাপাড়া চৌরাস্তায় এক কেজি পোলাওয়ের চালে বেড়েছে ৭৫ টাকা, বিপাকে ক্রেতারা

    নিজস্ব প্রতিবেদক : নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার মোগরাপাড়া চৌরাস্তার বাজারে হঠাৎ করেই বেড়েছে পোলাওয়ের চালসহ বিভিন্ন ধরনের চাল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রসাধনীর দাম। মাত্র কয়েকদিনের ব্যবধানে এক কেজি পোলাওয়ের চালের দাম ৭৫ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা।
    বাজার ঘুরে দেখা যায়, কয়েকদিন আগেও যে পোলাওয়ের চাল প্রতি কেজি ১৩০ থেকে ১৩৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল, বর্তমানে সেই একই চাল বিক্রি হচ্ছে প্রায় ২০৫ থেকে ২১০ টাকায়। এছাড়া অন্যান্য চাল ও বিভিন্ন প্রসাধনী সামগ্রীর দামও বেড়েছে।
    ব্যবসায়ীরা জানান, মোকাম থেকে বেশি দামে পণ্য কিনতে হচ্ছে। তাদের দাবি, বিদেশে চাল রপ্তানির কারণে দেশে সরবরাহ সংকট তৈরি হওয়ায় পাইকারি বাজারে চালের দাম বেড়েছে। এর প্রভাব খুচরা বাজারেও পড়েছে।
    অন্যদিকে ক্রেতারা অভিযোগ করে বলেন, কয়েকদিনের ব্যবধানে প্রতি কেজি পোলাওয়ের চালের দাম ৭৫ থেকে ৮০ টাকা বেড়ে যাওয়ায় সংসারের ব্যয় অনেক বেড়ে গেছে। তারা বাজারে নিয়মিত মনিটরিং ও মূল্য নিয়ন্ত্রণে উপজেলা প্রশাসনের কার্যকর তদারকির দাবি জানিয়েছেন।
    হঠাৎ করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের এমন মূল্যবৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ক্রেতাদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

  • বিগত সরকারের আমলে শিক্ষার মান প্রশ্নবিদ্ধ ছিল..এমপি আজহারুল ইসলাম মান্নান

    বিগত সরকারের আমলে শিক্ষার মান প্রশ্নবিদ্ধ ছিল..এমপি আজহারুল ইসলাম মান্নান

    নিজস্ব প্রতিবেদক : সোনারগাঁয়ে শিক্ষার মানোন্নয়ন ও ক্রীড়া উন্নয়নে কাজ করছে সরকার: এমপি আজহারুল ইসলাম মান্নান
    সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি: নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান বলেছেন, একসময় নারায়ণগঞ্জের মধ্যে সোনারগাঁয়ের শিক্ষার মান প্রশ্নবিদ্ধ ছিল। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার মানোন্নয়নে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে সরকার। শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং তাদের পড়াশোনায় মনোযোগী করে তুলতে শিক্ষকদের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি খেলাধুলার প্রতিও সমান গুরুত্ব দিতে হবে, যাতে যুবসমাজ মাদকের ভয়াল থাবা থেকে দূরে থাকতে পারে।
    মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকালে প্রাইম মিনিস্টার গোল্ডকাপ জাতীয় ফুটবল প্রতিযোগিতার প্রস্তুতিমূলক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
    সন্ধ্যার পর শিক্ষার্থীদের অযথা ঘোরাফেরা রোধে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে এমপি মান্নান বলেন, সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার পর কোনো স্কুলপড়ুয়া শিক্ষার্থীকে যেন রাস্তায় অযথা ঘোরাফেরা করতে দেখা না যায়। প্রয়োজনে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
    নতুন প্রজন্মকে নিয়ে সরকারের লক্ষ্যের কথা তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার নতুন প্রজন্মকে নিয়ে আগামীর সোনালি সম্ভাবনাময় বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। আমরাও সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর। এছাড়া খুব শিগগিরই সোনারগাঁ স্টেডিয়ামকে নারায়ণগঞ্জ জেলার অন্যতম সেরা স্টেডিয়ামে রূপান্তর করা হবে।
    এদিকে, একই দিন দুপুরে উপজেলার সোনারগাঁও পৌরসভার গোয়ালদী এলাকায় প্রায় ৭৫ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি নতুন কালভার্ট ও আরসিসি (RCC) ড্রেন নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়।
    সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসিফ আল জিনাতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও প্রস্তুতিমূলক সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন।
    এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুদ আলম, সহকারী প্রকৌশলী তানভীর আহমেদ, উপজেলার বিভিন্ন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকবৃন্দ

  • ১৬-১৭ বছরের পুরোনো সড়ক এখন চলাচলের অনুপযোগী

    ১৬-১৭ বছরের পুরোনো সড়ক এখন চলাচলের অনুপযোগী

    নিজস্ব প্রতিনিধি: নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার বৈদ্যের বাজার ইউনিয়নের হাড়িয়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ থেকে বৈদ্যের বাজারগামী পাকা সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। প্রায় ১৬ থেকে ১৭ বছর আগে ঢালাইয়ের মাধ্যমে নির্মিত সড়কটি বর্তমানে ভেঙে-চুরে বেহাল অবস্থায় রয়েছে। ফলে এলাকাবাসী, শিক্ষার্থী ও কর্মজীবী মানুষ চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একসময় পানাম-গাবতলী, হাড়িয়া গোবিন্দপাড়া, হাড়িয়া চক্রবর্তীপাড়া, হাড়িয়া চৌধুরীপাড়া, হামছাদি উলুকান্দি, সোনামই, নগর জোয়ার ও বারুইপাড়াসহ আশপাশের হাজারো মানুষের চলাচলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম ছিল এই সড়কটি। কিন্তু দীর্ঘ ৮ থেকে ৯ বছর ধরে সংস্কারের অভাবে সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও কোথাও ঢালাই উঠে গিয়ে ইট ও খোয়া বের হয়ে এসেছে। এতে যানবাহন চলাচল তো দূরের কথা, সাধারণ মানুষের হাঁটাচলাও অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে।

    বৈদ্যের বাজার ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড ও হাড়িয়া ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দারা জানান, বছরের পর বছর ধরে তারা দুর্ভোগ পোহালেও সড়কটি সংস্কারে কার্যকর কোনো উদ্যোগ এখনো চোখে পড়েনি। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে সড়কের গর্তে পানি জমে থাকায় চলাচল আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। প্রতিদিন স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, কর্মজীবী মানুষ ও সাধারণ পথচারীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

    এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। দ্রুত সড়কটি সংস্কার না করা হলে জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

    চলাচলের অনুপযোগী সড়কটি দ্রুত সংস্কারের জন্য বৈদ্যের বাজার এন.এ.এম. পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং স্থানীয় জনগণ সোনারগাঁ উপজেলা প্রশাসন ও বৈদ্যের বাজার ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

  • মদনপুর-ভুলতা সড়কে বিদ্যুতের খুঁটি রেখেই চলছে উন্নয়ন কাজ

    মদনপুর-ভুলতা সড়কে বিদ্যুতের খুঁটি রেখেই চলছে উন্নয়ন কাজ

    নিজস্ব প্রতিবেদক : ঢাকা বাইপাস সড়কের নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার মদনপুর থেকে ভুলতা-গাউছিয়া পর্যন্ত অংশে সড়কের মাঝখানে বিদ্যুতের খুঁটি রেখেই চলছে প্রশস্তকরণ ও উন্নয়নকাজ। এছাড়া সার্ভিস লেনেও বিদ্যুতের খুঁটি অপসারণ না করেই পাকা করার কাজ প্রায় সম্পন্ন করা হয়েছে। উন্নয়নের এমন চিত্র এখন স্থানীয়দের মধ্যে ভয় ও শঙ্কার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সড়কের মাঝখানে থাকা শতাধিক বিদ্যুতের খুঁটি অপসারণে কার্যকর কোনো উদ্যোগ না থাকায় যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন চালক, যাত্রী, কর্মরত শ্রমিক-কর্মচারী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
    জানা গেছে, এশিয়ান হাইওয়ের গাজীপুরের ভোগড়া থেকে নারায়ণগঞ্জের বন্দরের মদনপুর পর্যন্ত ৪৮ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কটি চার লেনে উন্নীত করার কাজ ২০১৯ সালে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) প্রকল্পের আওতায় শুরু হয়। ভূমি অধিগ্রহণ ও নির্মাণ ব্যয়সহ প্রকল্পটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৭২৩ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। নানা জটিলতায় গত সাত বছর ধরে ধীরগতিতে কাজ চললেও চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
    স্থানীয়দের অভিযোগ, উন্নয়নকাজ শুরু হলেও নিরাপত্তার বিষয়টি একেবারেই উপেক্ষিত হয়েছে। বন্দর উপজেলার বাসিন্দা সেলিম ও দ্বীন ইসলাম বলেন, ‘ঢাকা বাইপাস সড়কের নির্মাণকাজ হওয়ায় আমরা অনেক খুশি। কিন্তু সড়কের মাঝখানে বিদ্যুতের খুঁটি রেখে কাজ চলছে এবং অনেক স্থানে পাকা করা হচ্ছে। এসব খুঁটি চালক ও যাত্রীদের জন্য ভয়াবহ বিপদের কারণ হতে পারে। এখনই এগুলো অপসারণ না করা হলে পরে কর্তৃপক্ষ আর গুরুত্ব দেবে না।’
    প্রাইভেটকার চালক মিজানুর রহমান বলেন, ‘দেশের অনেক মহাসড়কে গাড়ি চালিয়েছি, কিন্তু সড়কের মাঝখানে বিদ্যুতের খুঁটি রেখে কাজ করতে আগে দেখিনি। এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন পণ্যবাহী ভারী যানবাহন চলাচল করে এবং গাড়ির গতিও বেশি থাকে। ফলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা অনেক বেশি।’
    ঢাকা বাইপাস সড়কের উন্নয়ন প্রকল্পের রি-সেটেলমেন্ট অফিসার ফারদিন ইমাম বলেন, ‘বিদ্যুতের খুঁটি অপসারণের জন্য পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। মৌখিকভাবেও একাধিকবার বিষয়টি জানানো হয়েছে। তাদের গাফিলতির কারণে নির্মাণকাজও ধীরগতিতে চলছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত তাদের কোনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি।’
    এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার প্রকৌশলী শেখ মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘সড়ক নির্মাণের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সময়মতো খুঁটি বসানোর স্থানে মাটি ভরাট করে দিতে না পারায় খুঁটিগুলো অপসারণ করা যাচ্ছে না। প্রতিদিন অল্প অল্প করে এ ধরনের কাজ করা সম্ভব নয়, কারণ অন্য গ্রাহকদের বিদ্যুৎ সরবরাহের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখতে হয়। আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বারবার সড়কের দুই পাশে মাটি ভরাট করে দেওয়ার জন্য বলেছি। তা করা হলে একসঙ্গে দ্রুত খুঁটিগুলো অপসারণ করা সম্ভব হবে।’