নিউজ সোনারগাঁ: নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে সোনারগাঁয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নেতাকর্মীদের ওপর হামলা ও হুমকির অভিযোগ ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দুই দলের নেতাদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য সামনে এসেছে।
এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা Tuhin Mahmud সম্প্রতি এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে দলীয় নেতাকর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ তোলেন। তার ওই বক্তব্যের প্রেক্ষিতে নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক Khairul Islam Sajib প্রকাশ্যে বিস্তারিত তথ্য জানতে চান।
সজিব তার বক্তব্যে বলেন, তুহিন মাহমুদকে তিনি এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের একজন হিসেবে জানেন ও সম্মান করেন। যেহেতু বিষয়টি জনসম্মুখে তোলা হয়েছে, তাই কোথায়, কীভাবে এবং কারা হামলা করেছে—তা স্পষ্টভাবে জানানোর অনুরোধ জানান তিনি। পাশাপাশি তিনি বলেন, সঠিক তথ্য ও প্রমাণ দিলে সহযোগিতার জন্য তারা প্রস্তুত আছেন।
এর জবাবে তুহিন মাহমুদ সজিবকে উদ্দেশ করে লিখিত বক্তব্য দেন। তিনি সহযোগিতার উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে নির্বাচনের সময় ও পরবর্তী কয়েকটি ঘটনার বর্ণনা দেন।
তুহিন মাহমুদের ভাষ্যমতে, সাদিপুর ইউনিয়নের বরাব গ্রামের এনসিপি কর্মী মো. কিবরিয়া ১২ তারিখ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার প্রায় ২০ মিনিট আগে ধানের শীষের ব্যাজ পরিহিত কয়েকজনের হামলার শিকার হন। তাকে এলোপাতাড়ি মারধর ও লাঠি দিয়ে আঘাত করা হয় বলে দাবি করা হয়। এছাড়া স্থানীয় বিএনপি নেতা সোহেল রানার চাচাতো ভাই সাদ্দাম নিয়মিত হুমকি দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ তোলা হয়। এ ঘটনায় অডিও রেকর্ড থাকার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
এছাড়া নারায়ণগঞ্জ জেলা জাতীয় ছাত্রশক্তির যুগ্ম সদস্য সচিব সাব্বির আল-রাজ নির্বাচনের দিন ছাত্রদলের এক নেতার কাছ থেকে প্রকাশ্যে হামলার হুমকি পেয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তুহিন মাহমুদ। নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর বিএনপির ইকবাল হোসেন তাকে কয়েক মাস এলাকায় না থাকার জন্য সতর্ক করেছেন বলেও দাবি করা হয়।
তবে তুহিন মাহমুদ তার বক্তব্যে আরও উল্লেখ করেন, কিছু ঘটনা দুই দলের নেতাদের আন্তরিক সহযোগিতায় সমাধান হয়েছে এবং সে জন্য তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে সোনারগাঁয়ের স্বার্থে এনসিপি ও বিএনপির মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন।
Category: বিশেষ সংবাদ
-

সোনারগাঁয়ে নির্বাচন-পরবর্তী হামলার অভিযোগে এনসিপি–বিএনপি নেতাদের পাল্টাপাল্টি বক্তব্য
-

নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে দুই প্রার্থী ছাড়া বাকিদের জামানত বাজেয়াপ্ত
নিউজ সোনারগাঁ : নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ–সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা ১১ জন প্রার্থীর মধ্যে দুইজন ছাড়া বাকি সবাই জামানত হারাতে যাচ্ছেন। প্রকাশিত ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বিজয়ী ও রানারআপ ছাড়া অন্য কোনো প্রার্থী প্রয়োজনীয় ভোটের ন্যূনতম সীমা অতিক্রম করতে পারেননি।
এ আসনে মোট ভোট পড়েছে ৩ লাখ ৪০ হাজার ৬১৬টি। এর মধ্যে ১ লাখ ৫৫ হাজার ৪০০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল–এর প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নান। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী–এর প্রার্থী ইকবাল হোসাইন ভূঁইয়া পেয়েছেন ১ লাখ ৩৪ হাজার ৯১৮ ভোট। পুরো নির্বাচনে মূল লড়াই এই দুই প্রার্থীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল।
অন্য প্রার্থীদের মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন পেয়েছেন ২০ হাজার ৩৭৯ ভোট এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. রেজাউল করিম পেয়েছেন ৪ হাজার ৫৯৬ ভোট। বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী হওয়া সত্ত্বেও তারা কেউই জামানত রক্ষা করতে পারেননি।
এছাড়া গণসংহতি আন্দোলন–এর অঞ্জন দাস পেয়েছেন ৬৩৮ ভোট, জনতার দল–এর আবদুল করীম মুন্সী ২৮৫ ভোট, আমার বাংলাদেশ পার্টি–এর আরিফুল ইসলাম ১৩৭ ভোট, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ–এর গোলাম মসীহ ১৪ হাজার ২২৩ ভোট, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস–এর শাহজাহান ১ হাজার ১৯৩ ভোট, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন–এর আতিকুর রহমান নান্নু মুন্সী ৭৬৯ ভোট এবং গণঅধিকার পরিষদ–এর ওয়াহিদুর রহমান মিল্কী পেয়েছেন ৩১৪ ভোট।
জামানত হলো নির্বাচনি নিরাপত্তাজনিত নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ, যা প্রার্থীদের রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে জমা দিতে হয়। ট্রেজারি চালান, তফসিলি ব্যাংকের পে-অর্ডার বা পোস্টাল অর্ডারের মাধ্যমে এই অর্থ জমা দেওয়া হয়। কোনো প্রার্থী মোট প্রদত্ত ভোটের শতকরা সাড়ে ১২ শতাংশের কম ভোট পেলে তার জামানত বাজেয়াপ্ত হয়।ফলাফল অনুযায়ী, আসনটিতে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা দুই প্রার্থীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকায় অন্যরা ভোটারদের উল্লেখযোগ্য সমর্থন পেতে ব্যর্থ হয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভবিষ্যতে বড় দলগুলোর বাইরে প্রার্থীদের জন্য এ আসনে শক্ত অবস্থান তৈরি করা আরও কঠিন হয়ে
-

সোনারগাঁ থেকে কোন প্রার্থী কতো ভোট পেলেন
নিউজ সোনারগাঁ: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ২০২৬-এ নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ–সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনে বেসরকারিভাবে প্রকাশিত প্রাথমিক ফলাফলে বড় ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-এর প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নান।
রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে পাঠানো বার্তা প্রেরণ শিট অনুযায়ী, আসনটিতে মোট ভোটার ছিলেন ৩ লাখ ৬২ হাজার ৯৬১ জন। ১৪৩টি কেন্দ্রের সবগুলোর ফলাফল পাওয়া গেছে। মোট প্রদত্ত ভোট ২ লাখ ২০ হাজার ৭৫৬টি, যা শতকরা ৬০.৮২ শতাংশ।
ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে বিএনপির প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নান পেয়েছেন ১ লাখ ৮ হাজার ২৭৮ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর প্রার্থী মোঃ ইকবাল হোসাইন ভূইয়া (দাঁড়িপাল্লা) পেয়েছেন ৮০ হাজার ৫৭৮ ভোট। তৃতীয় অবস্থানে স্বতন্ত্র প্রার্থী মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন (ফুটবল) পেয়েছেন ১২ হাজার ৫৭৯ ভোট।
অন্যদের মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী অধ্যাপক মোঃ রেজাউল করিম (ঘোড়া) ৪ হাজার ৩২৪, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর গোলাম মসীহ্ (হাতপাখা) ৮ হাজার ২৫৮, গণসংহতি আন্দোলনের অঞ্জন দাস (মাথাল) ৩৫০, জনতার দলের আবদুল করীম মুন্সী (কলম) ১৫১, এবি পার্টির আরিফুল ইসলাম (ঈগল) ৮৪, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মুহাঃ শাহজাহান (রিক্সা) ৭৩৯, খেলাফত আন্দোলনের আতিকুর রহমান নান্নু মুন্সী (বটগাছ) ৩৯৮ এবং গণঅধিকার পরিষদের ওয়াহিদুর রহমান মিল্কী (ট্রাক) পেয়েছেন ২৩০ ভোট।
মোট বৈধ ভোটের সংখ্যা ২ লাখ ১৫ হাজার ৯৬৯ এবং বাতিল হয়েছে ৪ হাজার ৭৮৭টি ভোট।
সব কেন্দ্রের ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, এ আসনে ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লার মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হলেও শেষ পর্যন্ত স্পষ্ট ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিজয় পেয়েছেন বিএনপি প্রার্থী। -

নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন ঘোড়া প্রতীকের প্রার্থী রেজাউল করিম
নিউজ সোনারগাঁ : নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ–সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন মোড় নিয়েছে। ঘোড়া প্রতীকের প্রার্থী রেজাউল করিম আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার দুপুরে স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি এ সিদ্ধান্তের কথা জানান। রেজাউল করিম অভিযোগ করেন, নির্বাচনী মাঠে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ পরিবেশ নেই। তার কর্মী-সমর্থকদের ওপর বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে এবং নানা অনিয়ম ও প্রতিবন্ধকতার কারণে সমানভাবে প্রচার-প্রচারণা চালানো সম্ভব হচ্ছে না।
তিনি বলেন, “বর্তমান পরিস্থিতিতে অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব বলে মনে করছি না। ভোটাররা যদি স্বাধীনভাবে ভোট দিতে না পারেন, তাহলে নির্বাচনে অংশগ্রহণের কোনো অর্থ থাকে না। তাই জনগণের স্বার্থে আমি নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিচ্ছি।”
তার এই ঘোষণার পর এলাকায় রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। সমর্থকদের মধ্যে হতাশা দেখা দিলেও অনেকেই এটিকে বাস্তব পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে নেওয়া সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন।
উল্লেখ্য, এ আসনে আগে থেকেই কয়েকজন শক্ত প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস ছিল। রেজাউল করিমের সরে দাঁড়ানোর ফলে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের নির্বাচনী সমীকরণে নতুন পরিবর্তন আসতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। -

সোনারগাঁয়ে ১৪৩টি কেন্দ্রের মধ্যে ১০৯ টি ঝুঁকিপূর্ণ
নিউজ সোনারগাঁ : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ ও সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনের বেশিরভাগ ভোটকেন্দ্রকেই ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে প্রশাসন। মোট ২১০টি কেন্দ্রের মধ্যে ১৪৭টি কেন্দ্রকে গুরুত্বপূর্ণ ও অধিক গুরুত্বপূর্ণ তালিকায় রাখা হয়েছে, যা প্রায় ৭০ শতাংশ।
এর মধ্যে সোনারগাঁ উপজেলায় পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক। ১৪৩টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১০৯টিই ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। অন্যদিকে সিদ্ধিরগঞ্জ অংশে ৬৭টি কেন্দ্রের মধ্যে ৩৮টি ঝুঁকিপূর্ণ। বাকি ৬৩টি কেন্দ্রকে সাধারণ হিসেবে ধরা হয়েছে।
প্রশাসন জানায়, ভোটার সংখ্যা, থানা থেকে দূরত্ব, রাজনৈতিক প্রভাব, দুর্গম এলাকা ও চরাঞ্চলের অবস্থানসহ বিভিন্ন বিষয় বিশ্লেষণ করে ঝুঁকি নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব বিবেচনায় কেন্দ্রগুলোকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে— লাল (অতি ঝুঁকিপূর্ণ), হলুদ (ঝুঁকিপূর্ণ) ও সবুজ (সাধারণ)।
নিরাপত্তা জোরদারে অতি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে তিনজন, ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে দুজন এবং সাধারণ কেন্দ্রে একজন করে পুলিশ সদস্য মোতায়েনের পরিকল্পনা রয়েছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যদের কাছে থাকবে অস্ত্র ও বডি-ওর্ন ক্যামেরা। প্রতিটি কেন্দ্রে ১৩ জন করে আনসার সদস্যও দায়িত্ব পালন করবেন।
এর পাশাপাশি মোবাইল টিম, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, সেনাবাহিনী ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যরা মাঠে থাকবেন। বিশেষ করে চরাঞ্চলের নুনেরটেকের দুটি এবং চরকিশোরগঞ্জ-চরহোগলার তিনটি কেন্দ্র অধিক গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় সেখানে স্ট্রাইকিং ফোর্স ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োজিত থাকবে।
নারায়ণগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (খ-অঞ্চল) মো. ইমরান আহম্মেদ বলেন, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির জানান, গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হবে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সার্বক্ষণিক তৎপর থাকবে।
সব মিলিয়ে, ভোটের দিন শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশাসন কঠোর নজরদারি ও বহুমাত্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। -

সোনারগাঁয়ে “মিট উইথ জেন-জি” এর মুখোমুখি ড. ইকবাল হোসেন
নিউজ সোনারগাঁ : নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ–সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে তরুণ ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময়ে অংশ নিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী প্রিন্সিপাল মাওলানা ড. ইকবাল হোসেন।
শুক্রবার (সন্ধ্যায়) উপজেলার টিপরদী পানামা রেস্টুরেন্টে “জেন জি’র মুখোমুখি” শীর্ষক এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। তরুণ প্রজন্মের প্রশ্নের জবাব দেন তিনি এবং “কেমন সোনারগাঁ চাই” বিষয়কে কেন্দ্র করে খোলামেলা আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা সোনারগাঁয়ের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি, মাদক সমস্যা, ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষা, অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষা বিস্তার, বেকারত্ব, কর্মসংস্থান এবং পথশিশুদের বাসস্থান ও পুনর্বাসনসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু তুলে ধরেন।
প্রশ্নের জবাবে ড. ইকবাল হোসেন বলেন, সোনারগাঁকে একটি নিরাপদ, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজিমুক্ত এলাকা হিসেবে গড়ে তোলা তার অঙ্গীকার। তিনি বলেন, “রাজনীতি মানুষের কল্যাণের জন্য। ক্ষমতার অপব্যবহার, চাঁদাবাজি বা দখলবাজির জায়গা রাজনীতিতে থাকা উচিত নয়। নির্বাচিত হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে।”
সোনারগাঁয়ের ইতিহাস ও ঐতিহ্য প্রসঙ্গে তিনি জানান, পানাম নগরীসহ ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো সংরক্ষণ ও পর্যটন শিল্প বিকাশে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে। এতে স্থানীয়দের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
শিক্ষা খাতে তিনি আধুনিক ও মানসম্মত শিক্ষা বিস্তারের ওপর জোর দিয়ে বলেন, সরকারি-বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা এবং দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সহায়তা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি পথশিশু ও সুবিধাবঞ্চিতদের জন্য পুনর্বাসন ও আবাসনের ব্যবস্থা করার কথাও জানান তিনি।
অনুষ্ঠানের শেষাংশে তরুণরা সরাসরি মতামত তুলে ধরেন এবং প্রার্থীর সঙ্গে ছবি তুলে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে আলোচনা শেষ হয়। আয়োজকরা জানান, তরুণ ভোটারদের সচেতন ও সম্পৃক্ত করতেই এ ধরনের আয়োজন করা হয়েছে। -

ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কে ডাকাতি রোধে পুলিশ-আনসার যৌথ টহল, কমেছে অপরাধ
নিউজ সোনারগাঁ : ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কে ডাকাতি ও ছিনতাই রোধে পুলিশের পাশাপাশি আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। কাঁচপুর থেকে মেঘনা টোল প্লাজা পর্যন্ত অন্তত চারটি গুরুত্বপূর্ণ স্পটে স্থায়ী টিমের পাশাপাশি রানিং টিমসহ একাধিক টিম কাজ করছে বলে জানিয়েছে সোনারগাঁ থানা পুলিশ।
জানা গেছে, গত ৫ আগস্টের পর ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের সোনারগাঁ উপজেলার কয়েকটি এলাকায় ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে যায়। বিশেষ করে টিপরদি, মোগরাপাড়া চৌরাস্তা, পিরোজপুর ইউনিয়ন পরিষদের সামনে এবং মেঘনা টোল প্লাজা এলাকায় প্রতিদিনই একাধিকবার ডাকাতির শিকার হতেন এই সড়কে চলাচলরত যাত্রী ও চালকরা।
ডাকাতরা মূলত বিদেশ ফেরত যাত্রীবাহী গাড়িগুলোকে টার্গেট করত। তারা হঠাৎ করে কৃত্রিম যানজট সৃষ্টি করে ৮ থেকে ১০ জনের সংঘবদ্ধ দল নিয়ে গাড়ির গ্লাস ভেঙে যাত্রীদের ওপর হামলা চালিয়ে নগদ টাকা ও মালামাল লুট করে নিত। এতে অনেক মানুষ সর্বস্ব হারিয়েছেন। মাঝেমধ্যে ডাকাত আটক হলেও কোনোভাবেই ডাকাতির ঘটনা কমছিল না।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অবশেষে কাঁচপুর থেকে মেঘনা টোল প্লাজা পর্যন্ত ৪ থেকে ৫টি স্পটে পুলিশের পাশাপাশি আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়। এর ফলে আগের তুলনায় মহাসড়কে ডাকাতির ঘটনা কিছুটা হলেও কমেছে বলে আশা প্রকাশ করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
মোগরাপাড়া চৌরাস্তার ব্যবসায়ীরা জানান, পুলিশ ও আনসার সদস্যদের যৌথ তৎপরতা শুরু হওয়ার পর মহাসড়কে ডাকাতির ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। আগে দিন ও রাত যেকোনো সময় ডাকাতির আশঙ্কা থাকলেও গত কয়েকদিন ধরে পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে।
এ বিষয়ে সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহিববুল্লাহ জানান,
“ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কে ডাকাতি রোধে আমরা পুলিশের পাশাপাশি আনসার সদস্য মোতায়েন করেছি। নিয়মিত টহল ও চেকপোস্ট কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। মহাসড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।” -

সোনারগাঁয়ে তিতাসের অভিযান: চুনা কারখানা গুঁড়িয়ে, ৫০০ চুলার অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন
নিউজ সোনারগাঁ : নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলায় অবৈধ গ্যাস সংযোগের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেছে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ। অভিযানে একটি চুনা কারখানা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় এবং প্রায় ৫০০টি চুলার অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত সোনাখালি এলাকায় এই অভিযান চালানো হয়। এ সময় সোনাখালির একটি চুনা কারখানা ভেঙে ফেলা হয়। পাশাপাশি ওই এলাকার প্রায় ৩০০টি বাড়িতে ব্যবহৃত ৫০০টি চুলার অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট খন্দকার শমিত রাজা। তিতাস গ্যাসের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন সোনারগাঁ জোনের ম্যানেজার শফিউল আওয়াল।
চুনা কারখানা ভাঙার সময় নিরাপত্তার জন্য ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় আগুন নিয়ন্ত্রণ করা হয় এবং পানি স্প্রে করা হয়।
তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ জানায়, সোনারগাঁ উপজেলায় অবৈধ গ্যাস সংযোগ উচ্ছেদে নিয়মিত অভিযান চলমান রয়েছে। যেখানে অবৈধ সংযোগ পাওয়া যাবে, সেখানেই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়। -

সোনারগাঁয়ের বেশ কয়েকটি এলাকায় দিনব্যাপী বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে
নিউজ সোনারগাঁ : নারায়ণগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি–১ এর সোনারগাঁ জোনাল অফিসের আওতাধীন সোনারগাঁ-১ (৩০ এমভিএ) উপকেন্দ্রে ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরের বার্ষিক রক্ষণাবেক্ষণ কাজ আগামী শনিবার, ৬ ডিসেম্বর ২০২৫ অনুষ্ঠিত হবে। এ কারণে উপকেন্দ্রটিতে দিনব্যাপী বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
পল্লী বিদ্যুৎ সূত্রে জানা গেছে, রক্ষণাবেক্ষণ কাজের কারণে সেদিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সোনারগাঁ উপজেলার বেশ কয়েকটি এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে। এর মধ্যে রয়েছে— সোনারগাঁ পৌরসভা, মোগরাপাড়া ইউনিয়ন, সম্মান্দি ইউনিয়ন, বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়ন, পিরোজপুর ইউনিয়নের আংশিক এলাকা (রতনপুর, ভাটিবন্দর, জিয়ানগর)।
তবে রক্ষণাবেক্ষণ কাজ নির্ধারিত সময়ের আগে শেষ হলে যে কোনো মুহূর্তে বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু হতে পারে বলে জানিয়েছে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ।
রক্ষণাবেক্ষণ চলাকালে দুর্ঘটনা এড়ানোর স্বার্থে বিদ্যুতের লাইন, খুঁটি ও আশপাশে কোনো ধরনের কাজ না করার জন্য গ্রাহকদের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
সাময়িক ভোগান্তির জন্য কর্তৃপক্ষ দুঃখ প্রকাশ করে জানিয়েছে, পল্লী বিদ্যুতায়ন কার্যক্রমে গ্রাহকদের সহযোগিতা ভবিষ্যতে আরও নিরাপদ ও নিরবচ্ছিন্ন সেবা প্রদান নিশ্চিত করতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
-

সোনারগাঁয়ে লাফিয়ে বাড়ছে পেঁয়াজের দাম
নিজস্ব প্রতিবেদক :
সোনারগাঁয়ে গত কয়েকদিনের ব্যবধানে হু-হু করে বাড়ছে পেঁয়াজের দাম। কয়েকদিন আগেও প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৭০ থেকে ৭৫ টাকায় বিক্রি হলেও বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০০ থেকে ১২০ টাকায়। হঠাৎ এই মূল্যবৃদ্ধিতে বিপাকে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত ক্রেতারা।উপজেলার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, মুদি দোকানগুলোতে মানভেদে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১১০ থেকে ১২০ টাকায়। তবে রাস্তার পাশে ভ্যান গাড়িতে বিক্রি হওয়া পেঁয়াজ কিছুটা কম দামে, ১০০ থেকে ১০৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মোগরাপাড়া বাজারের মোল্লা জেনারেল স্টোরের স্বত্বাধিকারী মো. রহিম বলেন, “গত শুক্রবারও ৭৫ থেকে ৮০ টাকায় পেঁয়াজ বিক্রি করেছি। দুদিন আগেও ৯০ টাকায় বিক্রি করেছি। এখন ছোট আকারের পেঁয়াজ ১১০ টাকা, আর বড় বাছাইকৃত পেঁয়াজ ১২০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে।”
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও আড়তদারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, হঠাৎ দামের এই উল্লম্ফনের পেছনে দুটি প্রধান কারণ রয়েছে—ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ থাকা এবং রবি মৌসুমের পেঁয়াজ বাজারে আসতে দেরি হওয়া।
এক পেঁয়াজ আমদানিকারক জানান, “গত তিন মাস ধরে দেশের বাজারে পেঁয়াজের সংকট চলছে। দেশে এখন মজুতও খুবই কম। ফলে দাম লাফিয়ে বাড়ছে। ভারতে বর্তমানে পেঁয়াজের দাম মাত্র ১৫ টাকা কেজি, তাই বাজার নিয়ন্ত্রণে দ্রুত আমদানির উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।”
এদিকে, সাধারণ ক্রেতারা বলছেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় এই পণ্যটির দাম প্রতিদিনই বাড়ছে। দ্রুত প্রশাসনের নজরদারি না বাড়ালে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
-

ডাকসু নির্বাচনে ভুয়া পরিচয়ে প্রার্থী! নারায়ণগঞ্জের শিক্ষার্থী রায়ান ইসলামের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ
স্টাফ রিপোর্টার: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ) নির্বাচনে ভুয়া পরিচয়ে প্রার্থী হওয়ার অভিযোগ উঠেছে নারায়ণগঞ্জের রণদা প্রসাদ সাহা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও মানবাধিকার বিভাগের শিক্ষার্থী মো. রায়ান ইসলামের বিরুদ্ধে।
অভিযোগ রয়েছে, রায়ান ইসলাম নিজেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র ও শহীদুল্লাহ হলের বাসিন্দা পরিচয় দিয়ে ডাকসু নির্বাচনে প্রার্থী দাবি করেন। তার প্রচারপত্রে তাকে “ডাকসু প্রার্থী” হিসেবে তুলে ধরা হয় এবং ব্যালট নম্বর ১৬১ ব্যবহার করা হয়। একইসাথে তিনি নিজেকে ‘রেড জুলাই’ নামের একটি সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবেও পরিচয় দেন।
কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, ব্যালট নম্বর ১৬১ বরাদ্দ ছিল ফলিত গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী ও শহীদুল্লাহ হলের ভোটার মো. সজিব হোসাইনের জন্য। একইসাথে জানা গেছে, ‘রেড জুলাই’ সংগঠনের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতাও সজিব হোসাইন।
অভিযোগ রয়েছে, ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে রায়ান ইসলাম নির্বাচনী প্রচারণা চালানোর পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক মহল থেকে চাঁদা সংগ্রহ করেন। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে।
প্রকৃত প্রার্থী মো. সজিব হোসাইন বলেন,
“এ ধরনের প্রতারণা শুধু আমার ব্যক্তি সুনাম নয়, বরং পুরো ডাকসু নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। আমি চাই, প্রশাসন দ্রুত এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিক।”রণদা প্রসাদ সাহা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,
“এটা অত্যন্ত লজ্জাজনক যে, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী এমন কাজে জড়িয়েছে। প্রশাসনের উচিত বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া।”এ ঘটনায় সাধারণ মানুষও তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। তারা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে বলছেন, সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে আরও শিক্ষার্থী বা তরুণ এ ধরনের প্রতারণায় উৎসাহী হয়ে উঠবে।
অভিযুক্ত রায়ান ইসলামের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত নম্বর +880 1975-794005-এ একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করেছে—শিক্ষাঙ্গনের বাইরে কোনো পরিচয় বা দাবি যাচাই না করলে প্রতারণার শিকার হওয়ার ঝুঁকি থেকেই যায়।
-

সোনারগাঁ আসনের সাথে যুক্ত হলো সিদ্ধিরগঞ্জ
নিউজ সোনারগাঁ: নারায়ণগঞ্জের তিনটি আসন পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে। নারায়ণগঞ্জ জেলার তিনটি আসনের সীমানা পুননির্ধারণ করা হয়েছে।
আজ (৪ সেপ্টেম্বর) বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশন ওই ঘোষণা দেন।
নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ) আসনে এবার নতুন করে যুক্ত হয়েছে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা এলাকা। এর আগে সিদ্ধিরগঞ্জ ছিল নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে। স্বাধীনতার পর থেকে সিদ্ধিরগঞ্জ ও ফতুল্লা নিয়ে ছিল নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে সোনারগাঁও ও সিদ্ধিরগঞ্জ নিয়ে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন গঠন করা হয়। তবে পরের ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ এর নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৩ ছিল শুধুমাত্র সোনারগাঁও নিয়ে।
নারায়ণগঞ্জ-৫ আসন গঠন করা হয়েছে সিটি করপোরেশনের ১১ হতে ২৭নং ওয়ার্ড ও বন্দর উপজেলা নিয়ে। এ আসনে থাকা গোগনগর ও আলীরটেক ইউনিয়নকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এ দুটি ইউনিয়নকে ফতুল্লায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন শুধুমাত্র ফতুল্লা থানা ও সদর থানার দুটি ইউনিয়ন এলাকা নিয়ে গঠন করা হয়েছে। এতে ফতুল্লা, এনায়েতনগর, বক্তাবলী, কাশীপুর, কুতুবপুর, গোগনগর ও আলীরটেক।
-

সোনারগাঁয়ে র্যাবের অভিযানে দেশীয় অস্ত্রসহ ডাকাত চক্রের ৬ সদস্য গ্রেপ্তার, ১০১ কেজি গাঁজা জব্দ
নিউজ সোনারগাঁ টুয়েন্টিফোর ডটকম : নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে পৃথক অভিযানে ডাকাত চক্রের ৬ সদস্যকে গ্রেপ্তার ও বিপুল পরিমাণ গাঁজা জব্দ করেছে র্যাব-১১। এ সময় তাদের কাছ থেকে দেশীয় বিভিন্ন অস্ত্র ও একটি মিনি ট্রাক উদ্ধার করা হয়।
র্যাব জানায়, সোমবার গভীর রাতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাঁচকানির কান্দি এলাকায় ডাকাতি ও ছিনতাই প্রতিরোধে অভিযান চালিয়ে মফিজুল ইসলাম মাহি, সাইফুল ইসলাম ওরফে সাকিব, মানিক, সাদ্দাম, সহিদ ও মনির হোসেনকে আটক করা হয়। তাদের কাছ থেকে চাপাতি, চাইনিজ কুড়াল, সুইচ গিয়ার, ছুরি ও দা উদ্ধার করা হয়। এই গ্যাংটি পরিচালনা করে মফিজুল ইসলাম নামের এক ডাকাত সর্দার।
মঙ্গলবার বিকেলে সিদ্ধিরগঞ্জে র্যাব-১১ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এইচ এম সাজ্জাদ হোসেন জানান, দীর্ঘদিন ধরে এই চক্রটি মেঘনা ব্রিজ টোলপ্লাজার আশপাশে যানজটের সুযোগ নিয়ে বা কৃত্রিমভাবে যানজট সৃষ্টি করে যাত্রীবাহী ও মালবাহী গাড়িতে হামলা চালিয়ে লুটপাট করে আসছিল।
অভিযানের অন্য অংশে, পিরোজপুরের বটতলা এলাকা থেকে মাদকবাহী একটি মিনি ট্রাক জব্দ করা হয়, যাতে ১০১ কেজি গাঁজা ছিল। তবে এই ঘটনায় জড়িতরা পালিয়ে যায়। তাদের গ্রেপ্তারে র্যাবের অভিযান চলছে।
-

সোনারগাঁয়ে বৃক্ষ রোপনের মাধ্যমে সামাজিক অর্থনীতিতে অবদান রাখতে চায় খন্দকার পনির
ফজলে রাব্বী জুয়েল, সোনারগাঁ :- বৃক্ষ রোপনের মাধ্যমে সামাজিক অর্থনীতিতে অবদান রাখতে চায় সোনারগাঁয়ের খন্দকার পনির। গত পাঁচ বছর যাবৎ নিজ উদ্যোগে গ্রামের বিভিন্ন সড়ক ও কবরস্থানে প্রায় দুই হাজারেরও বেশি গাছের চাড়া রোপণ করেছেন তিনি।পনির জানান, ছোট বেলা থেকেই বৃক্ষ রোপণ এবং কবিতা লেখার প্রতি দুর্বলতা ছিলো তার। বাবা মরহুম খন্দকার মতিউর রহমানে সঙ্গে জমির কাজে সহযোগিতা করার সুবাদে গাছের প্রতি আগ্রহ তৈরি হয় তার। সেই থেকে বৃক্ষ রোপণ করা শুরু করেন। তিনি বলেন, একদিন এক কবরস্থানের পাশ দিয়ে হেটে যাওয়ার সময় মনে হলো কবরস্থানের পরিবেশটা কেমন যেনো খাঁ-খাঁ করছে। কোন গাছ গাছালি নেই। কাঠফাটা রোদে কবরস্থানের ছোট ঘাস গুলোও যেনো পুড়ে যাচ্ছে। সেই থেকে কবরস্থানে সুপারি গাছের চাড়া লাগাতে শুরু করেন। এরই মধ্যে তিনি সোনারগাঁয়ের সনমান্দী ইউনিয়নের হরিহরদী, সনমান্দী, দৌলতপুর, ফতেপুর, মোগরাপাড়া ইউনিয়নের হাবিবপরর ও সাদিপুর কবরস্থানে সুপারির চাড়া রোপণ করেন। সুপারি গাছ রোপণ করলে জায়গা কম দখল হয়। এতে করে কবরস্থানের সৌন্দর্য বৃদ্ধির পাশাপাশি সুপারি বিক্রি করে কবরস্থানের আয়ও হয়। ছায়া সুনিবিড় সুন্দর একটি বাংলাদেশের স্বপ্ন নিয়ে নিরবে গাছের চাড়া রোপণ করে চলেছেন সোনারগাঁয়ের সনমানদী ইউনিয়নের বাংলাবাজার গ্রামের নিবৃত্তচারী এই তরুণ বৃক্ষ প্রেমী খন্দকার পনির।পনির কবরস্থান ছাড়াও রাস্তার পাশে রোপন করেন ফলজ বৃক্ষের চাড়া। এতে ফল এবং কাঠ দুটোই পাওয়া যায়। বৃক্ষ প্রেমী পনিরের এরই মধ্যে প্রার্থনা প্রেম ও অন্যান্য, একটি নীল সার্টের গল্প ও নির্জনে কোলাহলে নামে তিনটি কবিতার বইও প্রকাশিত হয়েছে। পনির তার বৃক্ষ রোপণ এবং লেখালেখির মাধ্যমে এলাকার সাধারণ মানুষের মাঝে খুবই জনপ্রিয় একজন মানুষ। -

সোনারগাঁ-বন্দর মিলে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসন
নিউজ সোনারগাঁ: নারায়ণগঞ্জের ৫টি সংসদীয় আসনের মধ্যে তিনটি আসন পুনবিন্যাস করা হয়েছে। ৩০ জুলাই নির্বাচন কমিশন এ তথ্য জানিয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনটি আগে শহর ও বন্দর এলাকা নিয়ে গঠিত ছিল। এবার এটাকে পুনবিন্যাস করে শুধু সিটি করপোরেশন এলাকা নিয়ে গঠন করা হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন থেকে সিদ্ধিরগঞ্জ বাদ দেওয়া হয়েছে। এ আসনে রাখা হয়েছে ফতুল্লা, এনায়েতনগর, বক্তাবলী, কাশীপুর, কুতুবপুর, গোগনগর ও আলীরটেক ইউনিয়নকে। এর মধ্যে গোগনগর ও আলীরটেক ছিল নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে ।
নারায়ণগঞ্জ-৩ আসন আগে ছিল সোনারগাঁ উপজেলা কেন্দ্রীক। এখন সোনারগাঁয়ের সঙ্গে বন্দর উপজেলাকে সংযুক্ত করা হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার) ও নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনে কোন পরিবর্তন হয়নি।
-

সোনারগাঁ নাগরিক সমাজের উদ্যোগে বৃক্ষ বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত
নিউজ সোনারগাঁ: সামাজিক সংগঠন সোনারগাঁ নাগরিক সমাজের উদ্যোগে বৃক্ষ বিদরণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে সোনারগাঁও পৌরসভার তাছপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে বৃক্ষ বিতরণ করা হয়েছে।
বুধবার (২৩ জুলাই) সকালে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রায় আড়াই শতাধিক শিক্ষার্থীর হাতে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা তুলে দেন সংগঠনের সদস্যরা।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহফুজ রহমানের তত্ত্বাবধানে ও উপস্থিতিতে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নাগরিক সমাজের আহ্বায়ক ফরিদ হোসেন। আরও উপস্থিত ছিলেন মোগরাপাড়া ইউনিয়নের সমন্বয়ক খন্দকার পুলিন, অর্থ সম্পাদক আবু হানিফ, সদস্য আলতাফ হোসেন, সেলিম হোসেন, শহিদুল ইসলাম, ইউসুফ, ইঞ্জিনিয়ার জসিম উদ্দিনসহ অন্যান্য সদস্যবৃন্দ।
অনুষ্ঠানে বক্তারা শিক্ষার্থীদের পরিবেশ সচেতনতা ও গাছ লাগানোর গুরুত্ব সম্পর্কে অবহিত করেন। তারা বলেন,
“আজকের একটি গাছ আগামীর একটি প্রাণ। পরিবেশ রক্ষায় প্রতিটি নাগরিকের ভূমিকা জরুরি। তোমাদের এই ছোট্ট পদক্ষেপ একদিন বড় পরিবর্তনের সূচনা করবে।”সোনারগাঁ নাগরিক সমাজ ভবিষ্যতেও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এই ধরনের পরিবেশবান্ধব কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করে।