স্টাফ রিপোর্টার: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ) নির্বাচনে ভুয়া পরিচয়ে প্রার্থী হওয়ার অভিযোগ উঠেছে নারায়ণগঞ্জের রণদা প্রসাদ সাহা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও মানবাধিকার বিভাগের শিক্ষার্থী মো. রায়ান ইসলামের বিরুদ্ধে।
অভিযোগ রয়েছে, রায়ান ইসলাম নিজেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র ও শহীদুল্লাহ হলের বাসিন্দা পরিচয় দিয়ে ডাকসু নির্বাচনে প্রার্থী দাবি করেন। তার প্রচারপত্রে তাকে “ডাকসু প্রার্থী” হিসেবে তুলে ধরা হয় এবং ব্যালট নম্বর ১৬১ ব্যবহার করা হয়। একইসাথে তিনি নিজেকে ‘রেড জুলাই’ নামের একটি সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবেও পরিচয় দেন।
কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, ব্যালট নম্বর ১৬১ বরাদ্দ ছিল ফলিত গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী ও শহীদুল্লাহ হলের ভোটার মো. সজিব হোসাইনের জন্য। একইসাথে জানা গেছে, ‘রেড জুলাই’ সংগঠনের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতাও সজিব হোসাইন।
অভিযোগ রয়েছে, ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে রায়ান ইসলাম নির্বাচনী প্রচারণা চালানোর পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক মহল থেকে চাঁদা সংগ্রহ করেন। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে।
প্রকৃত প্রার্থী মো. সজিব হোসাইন বলেন,
“এ ধরনের প্রতারণা শুধু আমার ব্যক্তি সুনাম নয়, বরং পুরো ডাকসু নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। আমি চাই, প্রশাসন দ্রুত এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিক।”
রণদা প্রসাদ সাহা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,
“এটা অত্যন্ত লজ্জাজনক যে, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী এমন কাজে জড়িয়েছে। প্রশাসনের উচিত বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া।”
এ ঘটনায় সাধারণ মানুষও তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। তারা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে বলছেন, সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে আরও শিক্ষার্থী বা তরুণ এ ধরনের প্রতারণায় উৎসাহী হয়ে উঠবে।
অভিযুক্ত রায়ান ইসলামের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত নম্বর +880 1975-794005-এ একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করেছে—শিক্ষাঙ্গনের বাইরে কোনো পরিচয় বা দাবি যাচাই না করলে প্রতারণার শিকার হওয়ার ঝুঁকি থেকেই যায়।



