নিউজ সোনারগাঁ : নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে তিন গ্রামের দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে টেঁটাবিদ্ধসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। বুধবার দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের খাসেরগাঁও, ছোট কোরবানপুর ও পাঁচানি গ্রামে এই সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, দা, বঁটি, টেঁটা, বল্লম, লোহার রড ও ইটপাটকেল ব্যবহার করে উভয় পক্ষ একে অপরের ওপর হামলা চালায়। সংঘর্ষ চলাকালে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সোনারগাঁ থানা-পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনীর একটি দল ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয়।
এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পিরোজপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য খাসেরগাঁও গ্রামের মনির হোসেন ও ছোট কোরবানপুর গ্রামের রাসেল মিয়ার সঙ্গে একই ইউনিয়নের পাঁচানি গ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা হামিদুল ইসলাম হামিদের দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। সেই পূর্ববিরোধ থেকেই নতুন করে এই সহিংসতার সূত্রপাত হয়।
সংঘর্ষে আহত পাঁচানি গ্রামের বাসিন্দা বজলু মিয়া অভিযোগ করেন, প্রতিপক্ষের লোকজন শতাধিক মানুষ নিয়ে তাদের গ্রামে হামলা চালিয়ে বাড়িঘর ও দোকানপাট ভাঙচুর ও লুটপাট করেছে। প্রতিহত করতে গেলে কয়েকজনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করা হয়। তিনি আরও দাবি করেন, হামলার সময় মসজিদেও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয় এবং কাচ ভেঙে ফেলা হয়।
অন্যদিকে ছোট কোরবানপুর গ্রামের বাসিন্দা রাসেল মিয়া পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, পাঁচানি গ্রামের হামিদ মিয়া দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে আসছেন এবং তাদের বিরুদ্ধে মামলা ও হামলার মাধ্যমে হয়রানি করছেন। সকালে নদীতে যাওয়াকে কেন্দ্র করে তাদের লোকজন মারধরের শিকার হলে পরে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে বলে তিনি দাবি করেন।
পিরোজপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম জানান, দুই পক্ষের বিরোধ অনেক দিনের। সম্প্রতি স্থানীয়ভাবে মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও তা সফল হয়নি। সংঘর্ষের পর তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে একাধিক বাড়িঘর ও দোকানপাট ভাঙচুরের চিহ্ন দেখেছেন।
সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মহিবুল্লাহ বলেন, পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ ও সেনাবাহিনী এলাকায় অবস্থান করছে। এখনো কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



