নিউজ সোনারগাঁ : আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ঘোড়া প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য ও মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের সাবেক কর্মকর্তা রেজাউল করিম। তাকে কেন্দ্র করে সোনারগাঁয়ের রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার মূল বিষয় হয়ে উঠেছে তার সমর্থকদের সাম্প্রতিক অবস্থান পরিবর্তন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ প্রায় ১৭ বছর সক্রিয় রাজনীতির বাইরে থাকার পর গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি পুনরায় নির্বাচনী রাজনীতিতে যুক্ত হন। থানা যুবদল নেতা সালাউদ্দিন সালু ও নুরে ইয়াসিন নোবেরসহ কয়েকজন নেতাকর্মীর উদ্যোগে তিনি নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় হন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ঘোড়া প্রতীকে মনোনয়নপত্র জমা দেন।
দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় বিএনপি তার বিরুদ্ধে শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ এনে দল থেকে বহিষ্কার করে। বহিষ্কারের পরপরই রেজাউল করিমপন্থী নেতাকর্মীদের একটি অংশের রাজনৈতিক অবস্থানে পরিবর্তন দেখা যায় বলে স্থানীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে। তারা বহিস্কার আতংকে প্রকাশ্যে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নানের পক্ষে ধানের শীষে ভোট চাওয়ার কার্যক্রমে যুক্ত হচ্ছেন। এই অবস্থান পরিবর্তনকে ঘিরেই প্রশ্ন উঠেছে, এটি কি সরাসরি ভোল্ট পাল্টানোর ঘটনা, নাকি রাজনৈতিক কৌশলের অংশ। স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, দলীয় বহিষ্কারের পর সম্ভাব্য সাংগঠনিক ঝুঁকি এড়াতে অনেক নেতাকর্মী অবস্থান পরিবর্তন করছেন। আবার কেউ কেউ মনে করছেন, নির্বাচনী হিসাব-নিকাশের অংশ হিসেবেই এই পরিবর্তন ঘটছে।
এদিকে বয়সজনিত কারণে রেজাউল করিমের কথাবার্তায় কিছুটা জড়তা থাকলেও গত দেড় বছর ধরে তিনি কর্মী ও সমর্থকদের সহযোগিতায় বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নেন। নির্বাচনকে সামনে রেখে তার ভূমিকা ও অবস্থান নিয়েও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে।
স্থানীয় রাজনৈতিক মহলের একটি অংশের মতে, রেজাউল করিমের সমর্থকদের এই অবস্থান পরিবর্তন আপাতভাবে ভোল্ট পাল্টানো মনে হলেও বাস্তবে এটি দলীয় সিদ্ধান্তের সঙ্গে সমন্বয় করেই নেওয়া কৌশলগত পদক্ষেপ হতে পারে। তবে বিষয়টি নিয়ে ভিন্নমতও রয়েছে।
এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত রেজাউল করিম, বিএনপি বা সংশ্লিষ্ট কোনো পক্ষের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে স্থানীয় পর্যায়ে আরও প্রশ্ন উঠেছে, একজন বয়স্ক ও শারীরিকভাবে অসুস্থ ব্যক্তিকে দীর্ঘ সময় ধরে নির্বাচনী কর্মকাণ্ডে যুক্ত রাখা কতটা যুক্তিসঙ্গত ছিল। বিশ্লেষকদের মতে, বিষয়টি রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের পাশাপাশি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকেও বিবেচনার দাবি রাখে।
জানা গেছে, নির্বাচনী প্রস্তুতি ঘিরে ভিন্ন ভিন্ন রাজনৈতিক অবস্থান ও তৎপরতার কারণে গত দেড় বছর ধরে সোনারগাঁয়ের রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তাপ বিরাজ করছে। সব মিলিয়ে রেজাউল করিম ও তার সমর্থকদের সাম্প্রতিক অবস্থান সোনারগাঁয়ের নির্বাচনী রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি করেছে। নির্বাচন পরবর্তী সময়ে বিষয়টির আরও স্পষ্ট চিত্র উঠে আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।



