সোনারগাঁ:
সোনারগাঁয়ের এক সময়ের প্রগতিশীল ছাত্র রাজনীতির প্রাণকেন্দ্র, এখন যেন এক নীরব যন্ত্রণা আর আত্মত্যাগের সাক্ষী। ৫ আগস্টের পর পাল্টে যায় দৃশ্যপট। আজ সেই দিনের পর ঘটে যাওয়া না বলা কথাগুলো নিজের ভেরিফাই ফেসবুক আইডিতে তুলে ধরেছেন নিষিদ্ধ ঘোষিত সোনারগাঁ উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি, যার জীবন আর পরিবার রাজনীতির চরম ঝড়ের মধ্যে দিয়ে গেছে।
পারিবারিক আদর্শ ও জীবনের গতি পরিবর্তন
পিতার বিশ্বাস ছিল, “বিদেশ নয়, দেশের মাটিতেই পড়াশোনা শেষ করে চাকরি বা ব্যবসা করে শান্তিতে থাকা যায়।” সেই বিশ্বাস মেনে দুই ভাই দেশে থেকেই নিজেদের প্রতিষ্ঠা গড়ে তোলেন। বড় ভাই চাকরির পাশাপাশি ছাত্রজীবন থেকেই ব্যবসা শুরু করেন। ছোট ভাই রাজনীতিতে সক্রিয় থাকলেও পারিবারিক শিষ্টাচার, সামাজিক দায়িত্ব ও ন্যায়ের পক্ষে ছিলেন সবসময়।
অতর্কিত আঘাত ও পরিবারের ওপর চাপ
৫ আগস্টের ঘটনার পর সেই পরিশ্রমী, নির্লোভ পরিবারটি যেন এক চরম অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যায়। সভাপতির বাড়িতে হামলা, বাবার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশ এবং বড় ভাইকে দেশ ছাড়তে বাধ্য করার মত ঘটনাগুলো একের পর এক ঘটে। আইনি কোনও অভিযোগ না থাকা সত্ত্বেও বাড়িতে বারবার অভিযান, ভাইয়ের পাসপোর্ট ভেরিফিকেশন আটকে রাখা এসব কিছুই হয় শুধুমাত্র তার ভাই হওয়ার “অপরাধে”।
রাজনীতি নয়, পরিবারকে শাস্তি কেন?
ছাত্রলীগের সভাপতি নিজেই প্রশ্ন তুলেছেন, “যদি আমি ভুল করি, তার বিচার হোক। কিন্তু আমার পরিবার তো রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নয়, তারা কেন সাফার করবে?” তার দাবি, তাদের পরিবার সর্বদা সামাজিকভাবে সম্মানিত এবং নিরপেক্ষ থেকেছে। তারপরও শুধুমাত্র রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে পারিবারিক শান্তি-নিরাপত্তা ধ্বংস হয়ে গেছে।
নেতৃত্ব ও ত্যাগের চিত্র
৫ আগস্টের পর যখন অধিকাংশ নেতা চুপ ছিলেন, তখন তিনি এবং সাধারণ সম্পাদক সাগর নিজেরাই কাঁধে তুলে নেন ছাত্রলীগের দায়িত্ব। চৌঠা জানুয়ারি সোনারগাঁয়ে ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন, দেয়াল লিখন এবং সর্বশেষ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বিক্ষোভ মিছিল সবই হয় তাদের নেতৃত্বে। অথচ দলীয় বড় বড় নেতারা তাদের পাশে না দাঁড়িয়ে সমালোচনা করতে ব্যস্ত ছিলেন।
সমালোচকদের প্রতি প্রশ্ন ও প্রতিশ্রুতি
“সুবিধা যখন পেয়েছেন, তখন তো পাশে ছিলেন। এখন একটা ফোন করেও কেউ খোঁজ নেন না।”এই আক্ষেপের পাশাপাশি তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, ছাত্রলীগের সভাপতির দায়িত্ব তিনি যথাযথভাবে পালন করে যাবেন ইনশাআল্লাহ। একই সঙ্গে সকল সমালোচকের উদ্দেশ্যে বলেছেন, “আলোচনার আগে বাস্তবতা বুঝুন।”
শান্তির বার্তা ও ভবিষ্যতের আশাবাদ
সবশেষে তিনি উল্লেখ করেন, পিরোজপুর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড সবসময় শান্তিপূর্ণ ছিল এবং আশাবাদ ব্যক্ত করেন, ভবিষ্যতেও তা বজায় থাকবে। “দোয়া করবেন”—এই একটুকু অনুরোধ রেখে, আবারও দেখা হবে সেই সোনারগাঁয়ের রাজপথেই বলে তিনি জানান।



