সোনারগাঁয়ে ছাত্র নেতা সাব্বির আল রাজের ওপর সন্ত্রাসী হামলা

“বাড়াবাড়ি করলে ক্লাস টু-তে পড়ুয়া ছোট ভাইকে মেরে ফেলবো”—হামলাকারীদের হুমকি

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সহ-মুখপাত্র সাব্বির আল রাজের ওপর বর্বর হামলার অভিযোগ উঠেছে। রোববার রাত ৮টার দিকে স্থানীয় মেঘনানগর বাজারের কাছে ছাত্রলীগ কর্মী জুনায়েদ প্রধান মোল্লার নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায় বলে জানা যায়। হামলাকারীরা তাকে কিল-ঘুষি ও লাথি মেরে রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে রেখে যায়।

আহত সাব্বির আল রাজ অভিযোগ করেন, “আমি কয়েক দিন আগে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে স্লোগান দিই। সেজন্য আগেই হুমকি দিয়েছিল। আজ মারধরের পর বলেছে—এই নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে আমার ক্লাস টু-তে পড়া ছোট ভাইকে মেরে ফেলবে; পরিবারকেও ছাড়বে না।”

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের দাবি, অভিযুক্ত জুনায়েদ প্রধান মোল্লা সোনারগাঁ উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সফিকুল ইসলাম সাগরের ভাতিজা। সংগঠনটির নেতারা বলেন, “এটি নিছক ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব নয়; রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় পরিচালিত পরিকল্পিত সন্ত্রাস।” তারা হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার, ভুক্তভোগী পরিবারকে নিরাপত্তা দেওয়াসহ দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন। দাবি পূরণ না হলে রাজপথে কর্মসূচির হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।

হামলার নিন্দা জানিয়ে স্থানীয় মানবাধিকার কর্মীরা ঘটনাটিকে “মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও পারিবারিক নিরাপত্তার ওপর সরাসরি হামলা” আখ্যা দেন। এ বিষয়ে সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও রাত আটটা পর্যন্ত কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ—সরকারি দলের ছাত্র সংগঠন—আইনগতভাবে নিষিদ্ধ নয়; তবে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ভাষ্যমতে, সোনারগাঁ এলাকায় সংগঠনটির কার্যক্রম প্রশাসনের নজরদারির বাইরে চলে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পেছনে রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা আছে কি না, তা জানতে চাইতে ছাত্রলীগের উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক সফিকুল ইসলাম সাগরের ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি কল রিসিভ করেননি।

আহত সাব্বির আল রাজ বর্তমানে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিচ্ছেন। চিকিৎসকদের ভাষায়, তার শরীরজুড়ে নীলচে ফুলা দাগ ও মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে; তবে প্রাণঘাতী জখম হয়নি। পরিবারটি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলে জানান তার বড় ভাই মেহেদী হাসান রাকিব।

স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার ও বিচারের মাধ্যমে এলাকায় নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *