সোলায়মান হাসান,
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে ইউপি সদস্য সোহেল মিয়া (৩৫) হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে এলাকায় তৈরি হয়েছে চরম বিভ্রান্তি ও উত্তেজনা। কেউ বলছেন, চাঁদাবাজির সময় উত্তেজিত জনতার গণপিটুনিতে তার মৃত্যু হয়েছে। আবার নিহতের পরিবার দাবি করছে, এটি আসলে পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, যার নেপথ্যে রয়েছে স্থানীয় মাদক ব্যবসায়ী চক্র।
সোমবার সকালে ব্রাহ্মন্দী ইউনিয়নের বালিয়াপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের দাবি, সোহেল এলাকায় চাঁদা দাবি ও অস্ত্রের ভয়ভীতি দেখাতেন। এসময় ক্ষুব্ধ জনতা তাকে ধরে বেধড়ক মারধর করলে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
তবে নিহতের পরিবার এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, ইউপি সদস্য হওয়ার পর সোহেল অসামাজিক কর্মকাণ্ড ছেড়ে দিয়ে মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে সোচ্চার হন। সম্প্রতি তিনি একাধিক মাদক ব্যবসায়ীকে হাতে-নাতে ধরে পুলিশে সোপর্দ করেন এবং মাদকসহ ধরা পড়ার ভিডিও নিজের ফেসবুক আইডিতে প্রকাশ করেন। এতে মাদকচক্র ক্ষুব্ধ হয়ে প্রতিশোধ নিতে ফাঁদ পাতে।
সোহেলের স্বজনদের অভিযোগ, গণপিটুনির নামে সাজানো নাটকের আড়ালে আসল খুনিদের আড়াল করার চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে আড়াইহাজার থানায় মামলা করেছেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা ২০০ থেকে ২৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
আড়াইহাজার থানার ওসি জানান, ঘটনার ভিডিও ফুটেজসহ বিভিন্ন প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে। তদন্তের পরই পরিষ্কার হবে এটি গণপিটুনি নাকি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।
স্থানীয়রা জানান, সোহেল ছিলেন প্রভাবশালী রাজনৈতিক পক্ষের সমর্থক। ইউপি সদস্য হওয়ার পর তিনি প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠীর টার্গেটেও পরিণত হন। মাদকচক্রের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার কারণে তার প্রভাব ও গ্রহণযোগ্যতা বেড়ে গিয়েছিল, যা প্রতিপক্ষের চোখে বিষ হয়ে দাঁড়ায়।
ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, প্রকাশ্যে জনতার হাতে সোহেলকে পেটানো হচ্ছে। এতে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন—যদি এটি সাধারণ গণপিটুনি হয়, তবে ঘটনাস্থলে উপস্থিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুত ব্যবস্থা নিল না কেন।
গণপিটুনি নাকি পরিকল্পিত খুন—এখনো সেই প্রশ্নের উত্তর মিলেনি। তবে নিহতের পরিবারের দাবি, মাদকচক্রের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার খেসারত দিতে হয়েছে সোহেল মেম্বারকে।
আপনি চাইলে আমি এই নিউজটিকে ছোট সংস্করণে ব্রেকিং নিউজ স্টাইলেও সাজিয়ে দিতে পারি। চাইবেন কি?



