নিউজ সোনারগাঁ : নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের আষাড়িয়ার চর এলাকায় দুই ভাই ও বিএনপি নেতার সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় সোনারগাঁ থানা বিএনপি জানিয়েছে—এই ঘটনার দায় বিএনপি নেবে না। একই সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানানো হয়েছে প্রশাসনের প্রতি।
শুক্রবার বিকেলে পিরোজপুর ইউনিয়নের আষাড়িয়ার চর এলাকায় বিএনপি নেতা আব্দুর রউফ ও তাঁর ভাই আব্দুল জলিলের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে কয়েকটি বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের পাশাপাশি আগুন ধরিয়ে দেওয়ার ঘটনাও ঘটে। এতে সাতটি ঘর পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনের মনোনীত প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নান এবং থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আজহারুল ইসলাম মান্নান বলেন,
“বিএনপি কোনো ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয় না। দলের নাম ভাঙিয়ে কেউ অপকর্ম করলে তার দায় তাকেই নিতে হবে। প্রয়োজনে এদের আইনের আওতায় আনতে দল প্রশাসনকে সহায়তা করবে। যদি প্রমাণ পাওয়া যায় কেউ দলের নাম বিক্রি করে অপকর্ম করছে, তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হবে।”
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আব্দুর রউফ ও আব্দুল জলিলের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে মেঘনা গ্রুপ ও আল মোস্তফা কোম্পানির বালুভরাট, রাস্তা সংস্কার এবং জুট ব্যবসার দখল নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। বৃহস্পতিবার রাতে ওই বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দেয় এবং শুক্রবার বিকেলে সংঘর্ষে রূপ নেয়।
স্থানীয়রা জানান, সংঘর্ষের সময় উভয় পক্ষের কয়েকজন আহত হন। জলিলপন্থীরা অভিযোগ করেন, রউফপন্থীরা পালিয়ে থাকা আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের কয়েকজন কর্মীকে এনে তাদের ওপর হামলা চালায়। অপরদিকে, রউফপন্থীদের দাবি, জলিলপন্থীরা জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে তাদের বাড়িঘরে হামলা চালিয়েছে।
সংঘর্ষে অন্তত চারটি ঘরে অগ্নিসংযোগ ও বেশ কয়েকটি বাড়িঘর ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাশেদুল ইসলাম বলেন,
“সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে দুই ভাইকে আটক করে আদালতের মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।”



