নিউজ সোনারগাঁ : আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ–সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনে বিএনপির মধ্যে বিরোধ তীব্র আকার ধারণ করেছে। দলীয় মনোনীত প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নানের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় সোনারগাঁ থানা যুবদল ও মহানগর যুবদলের একাধিক নেতার বিরুদ্ধে শোকজ ও বহিষ্কারের মতো সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিয়েছে কেন্দ্রীয় যুবদল।
সূত্র জানায়, এই আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন সাবেক প্রতিমন্ত্রী, সাবেক এমপি ও বেশ কয়েকজন সিনিয়র নেতা। পরে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ তারেক রহমানের সাথে বৈঠক করে যাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে তার পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার নির্দেশনা দেন। সেই বৈঠকে উপস্থিত সবাই এ সিদ্ধান্তে সম্মতি জানান। এর ধারাবাহিকতায় সোনারগাঁ থানা বিএনপির সভাপতি আজহারুল ইসলাম মান্নানকে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী ঘোষণা করা হয়।
মনোনয়ন ঘোষণার পর মিডিয়ার সাথে আলাপচারিতায় ‘চাঁদাবাজি’ প্রসঙ্গে দেওয়া কিছু বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সমালোচনার মুখে পড়েন মান্নান। এর পর থেকেই মনোনয়ন বঞ্চিতদের একটি অংশ মান্নানের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে সভা-সমাবেশ শুরু করে। তাদের অভিযোগ, দলের মনোনয়ন পাওয়ার পর তিনি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ এবং কেন্দ্রীয় নেতাদের সম্পর্কেও বিরূপ মন্তব্য করেছেন—যা দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে। তাই তাকে বাদ দিয়ে বিকল্প কোনো নেতাকে মনোনয়ন দেওয়ার দাবি জানান তারা।
এ নিয়ে কয়েকদিন ধরে সোনারগাঁ ও সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকায় মান্নানপন্থী এবং মনোনয়ন বঞ্চিত প্রার্থীদের সমর্থকদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি মিছিল, মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় বিষয়টি নজরে আসে কেন্দ্রীয় যুবদলের।
এরই অংশ হিসেবে কয়েকদিন আগে সোনারগাঁ থানা যুবদলের আহ্বায়ক মো. শহীদুর রহমান স্বপন এবং নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের সদস্য শহীদুল ইসলামকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ পাঠায় যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি। সর্বশেষ গতকাল সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে যুবদল নেতা আশরাফকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে জানায় যুবদল।
দলীয় সূত্রের দাবি, আসন্ন নির্বাচনে ঐক্য বজায় রাখতে কেন্দ্রীয় নেতারা কঠোর অবস্থানে রয়েছেন এবং দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আরও ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।



