নিউজ সোনারগাঁ : নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে বিগত সরকারের আমলে ক্ষমতাশালী ও দাপুটে হিসেবে পরিচিত সাবেক চেয়ারম্যান মোশারফ ওমরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার রাতে রাজধানীর রামপুরা এলাকার একটি বাসা থেকে রমনা থানা পুলিশ তাকে আটক করে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ছাত্রদের ওপর গুলি চালানো ও একজন ছাত্র নিহত হওয়ার ঘটনায় মোশাররফ ওমরের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। এ ছাড়া দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে তার জড়িত থাকার অভিযোগও তদন্তে আসে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগের পূর্ববর্তী সরকারের সময় শামীম ওসমানের প্রভাব ব্যবহার করে মোশাররফ ওমর একবার ভোটকেন্দ্র দখল করে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন এবং পরবর্তী নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় কাঁচপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান হন। দায়িত্বে থাকাকালীন তার ভাই বাবু ওমরকে দিয়ে একটি সন্ত্রাসী বাহিনী গড়ে তোলেন তিনি। ওই বাহিনীর বিরুদ্ধে কাঁচপুর এলাকার শিল্পপ্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রণ, শ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের ওপর চাঁদাবাজি, জোরপূর্বক জমি দখল, বাসস্থান দখলসহ নানা অভিযোগ ছিল।
একাধিক স্থানীয় ভুক্তভোগী জানান, ফিল্মি স্টাইলে রাস্তা থেকে মানুষ তুলে নিয়ে পিটিয়ে হাত-পা ভেঙে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে মোশারফ ওমরের বিরুদ্ধে। এছাড়া কায়সার হাসনাতকে ব্যবহার করে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পিছনে কাজ করেন তিনি এবং পরে নিজেকে এমপি প্রার্থী ঘোষণা করে এলাকায় প্রচারণাও চালান।
মোশাররফ ওমরের ভাই বাবু ওমরও নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। গত সরকারের আমলে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার পর প্রকাশ্যে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদের দেশ ছাড়ার হুমকি দেন তিনি। সম্প্রতি এক ডাক্তার আওয়ামী লীগ নেতার সঙ্গে হাতাহাতির ঘটনাতেও বাবু ওমর আলোচনায় আসেন।
পুলিশ জানিয়েছে, মোশারফ ওমরের বিরুদ্ধে থাকা সব মামলার তদন্ত আরও জোরদার করা হবে। গ্রেপ্তারের পর তাকে আদালতে সোপর্দ করার প্রস্তুতি চলছে।



