মনোনয়ন নিয়ে বেকায়দায় মান্নান: সোনারগাঁ–সিদ্ধিরগঞ্জে উত্তাপ বাড়ছে

নিউজ সোনারগাঁ : নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ–সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনে বিএনপির মনোনয়নকে ঘিরে তীব্র অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। দলীয় মনোনয়ন ঘোষণার পর থেকেই বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সোনারগাঁ থানা বিএনপির সভাপতি আজহারুল ইসলাম মান্নান এক ধরনের ‘বেকায়দায়’ পড়ে গেছেন।

মনোনয়ন ঘোষণার পরই অসন্তোষ

এই আসন থেকে মোট ৮ জন প্রার্থী দলীয় মনোনয়নের জন্য লড়াই করলেও ৩ নভেম্বর বিএনপি আজহারুল ইসলাম মান্নানকে চূড়ান্ত প্রার্থী ঘোষণা করে। এরপরই মনোনয়ন বঞ্চিতদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। মনোনয়ন বঞ্চিত কয়েকজন প্রকাশ্যে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে মান্নানের মনোনয়ন পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়ে চিঠি পাঠান। শুধু তাই নয়, তারা সোনারগাঁ, সিদ্ধিরগঞ্জ এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও মশাল মিছিলসহ নানা কর্মসূচি অব্যাহত রেখে আসছেন।

নির্বাচনী সীমানা পরিবর্তনে বাড়ে প্রতিযোগিতা

নির্বাচন কমিশনের সীমানা পুনর্নির্ধারণের পর সোনারগাঁ-সিদ্ধিরগঞ্জ একীভূত হওয়ায় মনোনয়নপ্রত্যাশীর সংখ্যাও বাড়তে থাকে। সোনারগাঁয়ের নিয়মিত প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নান, রেজাউল করিম, ওয়াহিদ বিন ইমতিয়াজ বকুল, ওয়ালিউর রহমান আপেল ও মুজাহিদ মল্লিকের সঙ্গে এবার যুক্ত হন সিদ্ধিরগঞ্জের জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ এবং সাবেক এমপি গিয়াসউদ্দিন।

যোগাযোগের ঘাটতিতে বাড়ে দূরত্ব

মনোনয়ন পাওয়ার পর মান্নান সাবেক এমপি গিয়াসউদ্দিন ও রেজাউল করিমের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও বাকিদের সঙ্গে দৃশ্যত দূরত্ব বজায় থাকে। আর এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে গিয়াসউদ্দিন ও অধ্যাপক মামুন মাহমুদকে কেন্দ্র করে অন্য মনোনয়ন বঞ্চিতরা মান্নানের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন।

মিডিয়ায় অভিযোগ, বক্তব্য বিতর্কে উত্তপ্ত পরিস্থিতি

সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে মান্নানের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলে সংবাদ প্রকাশ করা হয়। এ সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মান্নান বলেন— “সারা বাংলাদেশেই বিএনপি চাঁদাবাজি করে, ঢাকায় মির্জা আব্বাসের লোকজনও চাঁদাবাজি করে।” এই মন্তব্যে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন মনোনয়ন বঞ্চিত নেতারা। শুরু হয় কঠোর বিক্ষোভ, সমাবেশ ও তার বিরুদ্ধে নানা কর্মসূচি।

এরই মধ্যে যুবদলের দুই নেতাকে শোকজ এবং একজনকে বহিষ্কার করা হয়। এতে আরও ক্ষোভে ফেটে পড়ে বঞ্চিতদের একটি অংশ। শেষ পর্যন্ত মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে ৭ জন নেতাকর্মী স্বাক্ষরিত চিঠি পাঠান দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের কাছে।

মনোনয়ন বঞ্চিতদের অভিযোগ

এক মনোনয়ন বঞ্চিত নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন— “মান্নানের বক্তব্য দায়িত্বজ্ঞানহীন। একজন অশিক্ষিত লোককে দল মনোনয়ন দিয়েছে, যিনি ঠিকভাবে রিডিং পড়তেও পারেন না। তিনি কিভাবে দুইটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকার প্রতিনিধিত্ব করবেন? প্রয়োজনে আমরা স্বতন্ত্র প্রার্থী দেবো, কিন্তু মান্নানকে মেনে নেবো না।”

মান্নানপন্থীদের পাল্টা অবস্থান

অন্যদিকে মান্নানের নেতাকর্মীরা বলছেন— “গত ১৭ বছর স্বৈরাচার সরকারের সময়ে মান্নান হামলা-মামলার শিকার হয়েছেন, জেল খেটেছেন, হাজারো নেতাকর্মীর জামিন করিয়েছেন। নেতাকর্মীদের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন। দল ত্যাগী নেতাকে মনোনয়ন দিয়েছে—এটাই সঠিক সিদ্ধান্ত।”

উভয়পক্ষের তিক্ততায় জটিলতা বাড়ছে

উভয়পক্ষের পাল্টাপাল্টি বক্তব্য ও অবস্থানের কারণে এলাকা জুড়ে বাড়ছে উত্তেজনা। সমাবেশ, বিক্ষোভ এবং প্রশ্নবিদ্ধ মন্তব্যে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। এখন দলের সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে—মান্নান কি মনোনয়ন ধরে রাখতে পারবেন, নাকি ক্ষোভের চাপে আসবে নতুন মোড়।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *