সোনারগাঁয়ে তালতলা ফাঁড়ি পুলিশের বিরুদ্ধে মাদকসহ তিনজনকে আটক করে ‘টাকার বিনিময়ে’ ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে তালতলা ফাঁড়ি পুলিশের বিরুদ্ধে মাদকসহ আটক তিনজনকে টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গত বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) গভীর রাতে এশিয়ান হাইওয়ে সড়কের জামপুর ইউনিয়নের পাকুন্ডা চেকপোস্ট এলাকায় ১২ বোতল বিদেশি মদসহ তিনজনকে আটক করা হলেও, পরদিন শুক্রবার তাদের সন্দেহভাজন হিসেবে ১৫১ ধারায় আদালতে পাঠানো হয়। ঘটনার পর এলাকাজুড়ে বিস্তর চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
ফাঁড়ির ইনচার্জ আব্দুল হক মাদকসহ আসামি আটকের বিষয়টি স্বীকার করলেও টাকার বিনিময়ে ছাড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন।
ঘটনা কীভাবে ঘটল
তালতলা ফাঁড়ির এএসআই মো. নাসিরউদ্দিন বৃহস্পতিবার রাত আড়াইটার দিকে পাকুন্ডা এলাকায় চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি চালান। এ সময় নারায়ণগঞ্জ-হ-১১২৯০৫ নম্বর সিএনজিচালিত অটোরিকশা আটক করে যাত্রীদের বাজারের ব্যাগ থেকে ১২ বোতল বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয়।
আটক ব্যক্তিরা হলেন—
- শামীম (২৪), ললাটি গ্রাম, কাঁচপুর
- শুভ দেবনাথ (২৮), ছাতক, সুনামগঞ্জ
- সাইদুর রহমান সাদু (৪৫), অটোরিকশাচালক
টাকার বিনিময়ে ‘সন্দেহভাজন’ দেখিয়ে আদালতে পাঠানোর অভিযোগ
পরদিন শুক্রবার সকালে আটক ব্যক্তিদের স্বজনদের সঙ্গে টাকার লেনদেনের মাধ্যমে মামলা হালকা করা হয়েছে—এমন অভিযোগ স্থানীয়দের। অভিযোগ অনুযায়ী লক্ষাধিক টাকার বিনিময়ে তাদের বিরুদ্ধে মাদক মামলা না দিয়ে ১৫১ ধারায় সাধারণ সন্দেহভাজন হিসেবে আদালতে পাঠানো হয়।
আদালত থেকে সেদিনই তিনজন জামিনে মুক্তি পান এবং পরে ফাঁড়ি থেকে তাদের জব্দ অটোরিকশা ফেরত নেওয়া হয়। তবে উদ্ধার হওয়া ১২ বোতল বিদেশি মদের কোনো হদিশ পাওয়া যাচ্ছে না।
সাক্ষীর দাবি
জব্দ তালিকার সাক্ষী অটোরিকশাচালক জামাল হোসেন জানান, রাতেই পাকুন্ডা ব্রিজ এলাকায় পুলিশ তল্লাশি করে ১২ বোতল মদ উদ্ধার করে এবং এএসআই নাসির সাদা কাগজে তার স্বাক্ষর নেন।
কর্তৃপক্ষ কি বলছে
এএসআই নাসিরউদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি পরে কথা বলবেন বলে ফোন কেটে দেন।
ফাঁড়ির ইনচার্জ আব্দুল হক জানান, তিনজনকে মাদকসহ আটক করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। কোন ধারায় পাঠানো হয়েছে—জানতে চাইলে তিনি নির্দিষ্টভাবে কিছু বলেননি। তবে টাকার লেনদেনের অভিযোগ অস্বীকার করেন।
সোনারগাঁ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রাশেদুল হাসান খান বলেন, ফাঁড়ি পুলিশ আটককৃতদের ফরওয়ার্ডিং দিয়ে থানায় পাঠায় এবং সেই অনুসারে থানায় আদালতে পাঠানো হয়। ফাঁড়ি পুলিশের কার্যক্রম সম্পর্কে তিনি অবগত নন।
মদের হদিশ নেই—প্রশ্ন জনমনে
আটক তিনজন মুক্তি পেলেও উদ্ধারকৃত ১২ বোতল মদের বিষয়ে কোনো তথ্য না মিলায় জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, বিষয়টি তদন্ত করে সঠিক তথ্য প্রকাশ করা জরুরি।



