নিউজ সোনারগাঁ : আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে যুবদলের দুই নেতাকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ এবং আরেক নেতাকে বহিষ্কার করাকে কেন্দ্র করে যুবদলের ভেতরে দ্বৈতনীতি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা–সমালোচনা শুরু হয়েছে। একই ধরনের অভিযোগে ভিন্ন শাস্তি দেওয়ায় তৃণমূল থেকে জেলা যুবদল পর্যন্ত নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
কারণ দর্শানোর নোটিশ দুই নেতাকে
বিএনপি ঘোষিত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীর বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে বিরূপ মন্তব্য ও বিরোধিতার অভিযোগে
- সোনারগাঁ থানা যুবদলের আহ্বায়ক মো. শহীদুর রহমান স্বপন, এবং
- নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের সদস্য শহীদুল ইসলাম
এর বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করেছে যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি।
কেন্দ্রীয় দপ্তর সূত্রে জানা যায়—দলীয় দায়িত্বে থাকা অবস্থায় এসব নেতার আচরণ সংগঠনের শৃঙ্খলা ও আদর্শবিরোধী হওয়ায় বিষয়টি কেন্দ্রীয় নেতাদের নজরে আসে। নোটিশে তাদের আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কেন্দ্রীয় সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়নের সামনে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। নোটিশ পাঠিয়েছেন সহ–দপ্তর সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়া মিস্টি।
একই অভিযোগে আরেকজনকে বহিষ্কার
একই ধরনের সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে যুবদলের আরেক নেতা আশরাফকে বহিষ্কার করেছে কেন্দ্রীয় যুবদল। দুই নেতাকে শোকজ এবং একজনকে বহিষ্কার করায় এটিকে “দ্বৈতনীতি” বলে মন্তব্য করছেন সোনারগাঁও ও নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের বহু নেতা।
মনোনয়ন ঘিরে উত্তপ্ত পরিস্থিতি
নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ–সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনে বিএনপির মনোনয়ন পান সোনারগাঁ থানা বিএনপির সভাপতি আজহারুল ইসলাম মান্নান। তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকের পর কেন্দ্রীয় নেতারা মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজের নির্দেশ দেন।
কিন্তু মনোনয়ন ঘোষণার পর গণমাধ্যমে মান্নানের ‘চাঁদাবাজি’ প্রসঙ্গে মন্তব্যকে কেন্দ্র করে মনোনয়ন বঞ্চিতদের একটি অংশ তার বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। তারা মান্নানের বিরুদ্ধে দলীয় ভাবমূর্তি বিনষ্ট করার অভিযোগ তুলে তাকে মনোনয়ন পরিবর্তনের দাবি জানাতে শুরু করে। এর জের ধরে সোনারগাঁ–সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকায় উভয়পক্ষের পাল্টাপাল্টি মিছিল, মানববন্ধন ও সমাবেশে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
কঠোর অবস্থানে কেন্দ্রীয় যুবদল
দলীয় সূত্র জানায়, নির্বাচনের আগে অভ্যন্তরীণ কোন্দল সামাল দিতে কেন্দ্রীয় যুবদল কঠোর অবস্থান নিয়েছে। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আরও ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিতও পাওয়া গেছে।
স্থানীয় নেতাদের দাবি, একই অভিযোগে ভিন্ন ভিন্ন শাস্তি দেওয়াই বর্তমানে যুবদলের ভেতর অসন্তোষের মূল কারণ। তৃণমূলের প্রশ্ন—যদি অপরাধ একই হয়, শাস্তি আলাদা কেন?



