নিউজ সোনারগাঁ : নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি শাহাদাত হোসেনের বিরুদ্ধে ভাড়ায় আনা একটি মালবাহী জাহাজ কেটে বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজ মালিক চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী রাকেশ শর্মা সোনারগাঁ থানায় মামলা করেছেন। তাঁর দাবি, জাহাজ কাটায় তাঁর প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ টাকা ক্ষতি হয়েছে।
জানা যায়, চট্টগ্রাম থেকে ডিবি (ডাম্ব বার্জ) ধরনের জাহাজটি গত ১ নভেম্বর এক মাসের জন্য ৭ লাখ ২০ হাজার টাকা চুক্তিতে ভাড়া নেয় শাহাদাত হোসেনের নেতৃত্বাধীন একটি সিন্ডিকেট। পরে এটি সোনারগাঁ উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের কাদিরগঞ্জ এলাকায় মেঘনা নদীর তীরে অবস্থিত এইচবি হারুন অ্যান্ড ব্রাদার্স মেঘনা শিপইয়ার্ডে নিয়ে কেটে ফেলা হয়।
১৫ দিন ধরে চলা এই কাটাকাটির কাজে শাহাদাতের সঙ্গে মো. জাফর, ইকবাল হোসেন, নজরুল ইসলাম, এমদাদুল হকসহ ১০–১৫ জন যুক্ত ছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে। শিপইয়ার্ডটির মালিক শাহাদাতের বাবা ও সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি রফিকুল ইসলাম।
জাহাজের প্রকৃত মালিক রাকেশ শর্মা জানান, জাফর নামে একজন পরিবহন কাজের জন্য জাহাজ ভাড়া নেন। কিন্তু চুক্তিভঙ্গ করে সেটি সোনারগাঁয়ে এনে কেটে স্টিল প্লেট বিক্রি করে দেওয়া হয়। ঘটনাটি জানার পর রফিকুল ইসলাম ক্ষতিপূরণের আশ্বাস দিলেও পরে তা এড়াতে শুরু করেন। ফলে বাধ্য হয়ে তিনি মামলা করেন।
মামলার পর বুধবার সকালে পুলিশ নজরুল ইসলাম নামে এক বিএনপিকর্মীকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে। সোনারগাঁ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রাশেদুল হাসান খান বলেন, মামলা গ্রহণ করা হয়েছে এবং তদন্ত চলছে।
অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা শাহাদাত হোসেনের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে। তবে তাঁর বাবা রফিকুল ইসলাম জানান, বিষয়টি জানার পর জাহাজ কাটা বন্ধ রাখা হয়েছে এবং মালিকের সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা চলছে।
স্থানীয়দের দাবি, রফিকুল ইসলাম এক সময় জাতীয় পার্টির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং সেই সময় তাঁর ছেলে শাহাদাত বিভিন্ন শিল্প এলাকায় চাঁদাবাজিসহ নানা অপকর্মের সঙ্গে জড়িত ছিল। মামুনুল হকের রিসোর্ট ঘটনার মামলায় আসামি হওয়ার পর রফিকুল ইসলাম পুনরায় বিএনপিতে ফিরে আসেন।