নিউজ সোনারগাঁ : আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সোনারগাঁ থানা বিএনপির রাজনীতিতে যোগ হয়েছে নতুন ধরনের উত্তেজনা। তথ্যপ্রযুক্তির কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে প্রতিপক্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে ‘বুমিং’ বা অপপ্রচার এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। এতে নেতাকর্মীদের মধ্যে দিন দিন বাড়ছে অসন্তোষ, কমছে পারস্পরিক আস্থা—যা বিএনপির তৃণমূল রাজনীতিতে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করেছে।
জানা গেছে, সোনারগাঁ–সিদ্ধিরগঞ্জ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন মোট আটজন। গত ৩ তারিখে কেন্দ্রীয়ভাবে মনোনয়ন দেওয়া হয় সোনারগাঁ থানা বিএনপির সভাপতি আজহারুল ইসলাম মান্নানকে। তবে দলীয় সিদ্ধান্তকে ভালোভাবে নেননি বাকি সাতজন মনোনয়নপ্রত্যাশী ও তাদের সমর্থকরা।
মনোনয়ন পাওয়ার পর গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে চাঁদাবাজি নিয়ে মান্নানের মন্তব্য ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে ওই বক্তব্য প্রচার হলে সমালোচনার ঝড় ওঠে। মনোনয়ন বঞ্চিতরা দাবি তোলেন—মান্নান বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ‘চাঁদাবাজ’ আখ্যা দিয়েছেন, তাই তার হাতে ধানের শীষ মানায় না। এ দাবিতে তারা বিভিন্ন বিক্ষোভ, সমাবেশ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন।
অন্যদিকে মান্নানপন্থী নেতাকর্মীরাও পাল্টা মিছিল-মিটিংয়ে নামেন। এর ধারাবাহিকতায় বিবাদ রাস্তাঘাট থেকে ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে। উভয় পক্ষের সমর্থকরা এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে একে অপরের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অশালীন, বিভ্রান্তিকর ও অপমানজনক কনটেন্ট তৈরি ও প্রচার শুরু করেন। এতে নেতাকর্মীদের জনপ্রিয়তা প্রশ্নের মুখে পড়ার পাশাপাশি দলের ভাবমূর্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে মনে করছেন তৃণমূল পর্যায়ের নেতারা।
তৃণমূল নেতাকর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “একটি সাধারণ বিষয় নিয়ে বিএনপির নেতারা যেভাবে প্রকাশ্যে পরস্পরের বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছেন, তা সাধারণ মানুষের কাছে নেতিবাচকভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে। নিজেদের মধ্যেই যদি হানাহানি ও বিভক্তি থাকে, তাহলে জনগণ কাকে বিশ্বাস করবে? এতে দলের যে ক্ষতি হচ্ছে, তার সুযোগ অন্য রাজনৈতিক দলগুলোই কাজে লাগাবে।”
স্থানীয় নেতারা দ্রুত অভ্যন্তরীণ সংকট নিরসন এবং এআই অপপ্রচারের লাগাম টেনে ধরার বিষয়ে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বর দৃষ্টি কামনা করেছেন।



