নিউজ সোনারগাঁ : নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলায় আলোচিত সাত ডাকাত আটক হওয়ার ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও উত্তেজনা তৈরি হয়। তবে পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে, আটক হওয়া ব্যক্তিরা আদতে ডাকাত নন। তারা পিকনিকে ঘুরতে আসা একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের শ্রমিক।
শুক্রবার (গতকাল শুক্রবার) রাতে সোনারগাঁয়ের জামপুর বস্তল এলাকায় সাত ডাকাত আটক হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। স্থানীয়দের সন্দেহের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই ব্যক্তিদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। পরে জানা যায়, তারা রূপগঞ্জ উপজেলার কর্ণগোপ এলাকার ইউনাইটেড প্লাস্টিক কোম্পানির শ্রমিক।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শ্রমিকরা পিকনিক উপলক্ষে সোনারগাঁয়ে আসেন। সারাদিন ঘোরাঘুরির পর তারা কাঞ্চন ব্রিজ এলাকার একটি বাগানে খাবার খাচ্ছিলেন। এ সময় স্থানীয় কয়েকজন তাদের গতিবিধি সন্দেহজনক মনে করে ডাকাত ভেবে পুলিশে খবর দেন। পুলিশ পৌঁছানোর আগেই উত্তেজিত জনতা তাদের মারধর করে এবং ডাকাত আখ্যা দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেয়।
পরিস্থিতি আরও জটিল হয় যখন একদল উত্তেজিত মানুষ আটক ব্যক্তিদের পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে হত্যার চেষ্টা করে। পুলিশ বাধা দিলে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। এক পর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ রাবার বুলেট ছোড়ে। জবাবে উত্তেজিত জনতা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং রাতেই আটক ব্যক্তিদের থানায় হেফাজতে নেওয়া হয়।
ঘটনার পর ইউনাইটেড প্লাস্টিক কোম্পানির কর্তৃপক্ষ আজ সকালে সোনারগাঁ থানায় যোগাযোগ করে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও প্রমাণ উপস্থাপনের পর পুলিশ আটক শ্রমিকদের প্রতিষ্ঠানটির জিম্মায় ছেড়ে দেয়।
এ ঘটনায় আটক হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন শিপন (১৪), মো. মিন্টু মিয়া (২৩), রাজু মিয়া (২০), মো. হৃদয় বিশ্বাস, জাকিরুল (২৪), মো. সাগর (২০), দিগেন্দ্র বর্মন (১৭) ও আব্দুল্লাহ (২১)। তারা সবাই দেশের বিভিন্ন জেলার বাসিন্দা এবং ইউনাইটেড প্লাস্টিক কোম্পানিতে শ্রমিক হিসেবে কর্মরত।
এ বিষয়ে সোনারগাঁ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মহিবুল্লাহ জানান, প্রাথমিকভাবে জনসাধারণের সন্দেহের কারণে তাদের আটক করা হয়েছিল। তদন্তে নিশ্চিত হওয়া গেছে, তারা ডাকাত নন। বিষয়টি যাচাই-বাছাই শেষে যথাযথ প্রক্রিয়ায় তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, গুজব বা ভুল ধারণার কারণে যেন আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়া হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।



