ধান, দাঁড়িপাল্লা ও ফুটবলের হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে কে হচ্ছেন এমপি?

নিউজ সোনারগাঁ : একদিন পর আগামী বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন।  এই নির্বাচনকে ঘিরে নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনে রাজনৈতিক অঙ্গনে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আলোচনা ও জল্পনা-কল্পনা হবে তিন মুখী লড়াই। এই লড়াইয়ে কে জিতবে এই নিয়ে শেষ মুর্হুতে চলছে রাজনীতিবিদ ও ভোটারদের হিসেব নিকেশ। ভোটাদের মধ্যে চলছে প্রার্থীর স্বভাব চরিত্র শিক্ষাদীক্ষা ও জনবান্ধব ও উন্নয়ণমুখি নানা বিশ্লেষন।

এবার এই আসনে মোট ৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও মূল লড়াই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে তিন প্রতীকে—ধানের শীষ, দাঁড়িপাল্লা ও ফুটবল। মাঠের আলোচনা বলছে, হেভিওয়েট তিন প্রার্থীই ফলাফল নির্ধারণে মুখ্য ভূমিকা রাখবেন।

বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির সভাপতি, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আজহারুল ইসলাম মান্নান দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রামের কারণে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন। সোনারগাঁ এলাকায় তার নিজস্ব ভোট ব্যাংক ও সংগঠিত কর্মীবাহিনী রয়েছে। সাধারণ ভোটারদের একাংশের মতে, জনপ্রিয়তার দিক থেকে তিনি এগিয়ে আছেন।

অন্যদিকে, ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ড. প্রিন্সিপাল ইকবাল হোসাইন ভূঁইয়া দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ব্যাপক প্রচার চালাচ্ছেন। তিনি সুষ্ঠু নির্বাচন হলে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী। তরুণ ও নারী ভোটারদের সমর্থন এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের প্রভাব তার পক্ষে যাবে বলে মনে করছেন তিনি। অতীতে উপজেলা নির্বাচনে উল্লেখযোগ্য ভোট পাওয়ার অভিজ্ঞতাও তার আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে।

 

ফুটবল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও সাবেক সংসদ সদস্য মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন বিশেষ করে সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকায় বেশ জনপ্রিয়। স্থানীয় সমর্থকদের দাবি, ব্যক্তি ইমেজের কারণে তিনি বড় ভোট টানতে পারবেন। সিদ্ধিরগঞ্জে প্রায় দুই লাখ ২৫ হাজার ভোটার থাকায় এই অংশ থেকেই ৮০-৯০ হাজার ভোট পেলে তার জয়ের সম্ভাবনা জোরালো হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কারণ গত সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাচনে দুই প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে সোনারগাঁয়ে সব দলের ভোটাররা ভোট দেয়ার পরও ১ লাখ ২০ হাজার ভোটা ভোট প্রদান করেছিল।

 

এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী অধ্যাপক রেজাউল করিমসহ ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিস, গণসংহতি আন্দোলন, এবি পার্টিসহ আরও কয়েকটি দলের প্রার্থী মাঠে থাকলেও বাস্তবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ঘুরপাক খাচ্ছে এই তিনজনকে কেন্দ্র করে।

 

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, আসনটিতে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ৮৬ হাজার ৭৭৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ১৭ হাজার ৬৬ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৮৯ হাজার ৭০৩ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৪ জন। সোনারগাঁ উপজেলায় ভোটার ৩ লাখ ৬২ হাজার ৯৬১ জন এবং সিদ্ধিরগঞ্জ অংশে ২ লাখ ২৩ হাজার ৮১২ জন।

রাজনৈতিকভাবে এই আসনটি বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ। একসময় বিএনপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত থাকলেও ২০০৮ সালে সিদ্ধিরগঞ্জ যুক্ত হওয়ার পর ভোটের সমীকরণে বড় পরিবর্তন আসে। আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির ভোট ব্যাংক তৈরি হওয়ায় প্রতিবারই নতুন হিসেব সামনে আসে। এবারও তাদের ভোট কোন দিকে যাবে, সেটিই ফল নির্ধারণে বড় ফ্যাক্টর হয়ে উঠতে পারে।

ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা প্রার্থীর ব্যক্তিত্ব, সততা, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও উন্নয়ন পরিকল্পনাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। গত সময়ের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা থেকে এবার অনেকেই সতর্কভাবে ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।

সব মিলিয়ে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অনিশ্চয়তা কাটছে না। ধান, দাঁড়িপাল্লা নাকি ফুটবল—নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের এমপি হচ্ছেন কে, তার উত্তর মিলবে ভোটের ফলাফলে। তবে নিশ্চিত করে বলা যায়, এবারের লড়াই হবে হাড্ডাহাড্ডি এবং শেষ পর্যন্ত টানটান উত্তেজনায় ভরপুর।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *