নিউজ সোনারগাঁ : সোনারগাঁয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগের সমর্থন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন প্রচারকে ‘গুজব ও অপপ্রচার’ বলে দাবি করেছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা।
তাদের বক্তব্য, আওয়ামী লীগ দলগতভাবে এই নির্বাচন বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফলে দল বা দলের পক্ষ থেকে কোনো প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। এরপরও একটি মহল ইচ্ছাকৃতভাবে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে।
জানা গেছে, গত দুই দিন ধরে ফেসবুকে একটি পক্ষ দাবি করছে, নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরাসরি এক প্রার্থীকে সমর্থন দিয়েছে। এ নিয়ে নির্বাচনী এলাকায় প্রার্থী ও সমর্থকদের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। কারণ স্থানীয়দের মতে, এই আসনে জয়-পরাজয়ের বড় একটি অংশ নির্ভর করে আওয়ামী লীগের ভোটারদের ওপর। তারা যেদিকে যাবে, ফলাফল অনেকটাই সেদিকে ঝুঁকে পড়তে পারে। এ কারণে বিভিন্ন প্রার্থী আওয়ামী লীগের ভোটারদের টানতে নানা কৌশল নিচ্ছে।
এ বিষয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা ফোনে বলেন, “দল যখন সমষ্টিগতভাবে নির্বাচন বর্জন করেছে, তখন কাউকে সমর্থন দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ভোটদান থেকেও বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। যে সমর্থনের কথা বলা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।”
তারা অভিযোগ করেন, একটি স্বার্থান্বেষী মহল নিজেদের পক্ষে সাধারণ ভোটারদের প্রভাবিত করতে ইচ্ছাকৃতভাবে এ ধরনের গুজব ছড়াচ্ছে।
নেতারা আরও বলেন, গত ৫ তারিখের পর আওয়ামী লীগের অনেক জনপ্রতিনিধি ও নেতা ব্যক্তিগত স্বার্থে বিএনপি ও অন্যান্য দলের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন। কেউ কেউ নিজ নিজ সুবিধামতো বিভিন্ন প্রার্থীর সঙ্গে কাজ করছেন। উদাহরণ হিসেবে তারা বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নের কথা উল্লেখ করে বলেন, সেখানে অনেক জনপ্রতিনিধি আগেই বিএনপির সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। আবার চিটাগাং রোডের কিছু ব্যবসায়ী অন্য প্রার্থীর সঙ্গে সমন্বয় করেছেন, কেউ জামায়াতের সঙ্গেও গেছেন। এসবই ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত, দলের নয়।
পরিশেষে তারা বলেন, “আওয়ামী লীগ যেহেতু দলগতভাবে এবারের নির্বাচন বর্জনের ডাক দিয়েছে, তাই আমরা দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের বলবো— নো নৌকা, নো ভোট।”



