নিউজ সোনারগাঁ : নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে সংবাদ প্রকাশের জের ধরে সাংবাদিককে ফোন করে ডেকে নিয়ে অগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন করে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা চেয়ে সোনারগাঁও থানায় সাধারণ ডায়েরির আবেদন করেছেন সাংবাদিক সোলায়মান হাসান।
থানায় দেওয়া আবেদনে সাংবাদিক সোলায়মান হাসান উল্লেখ করেন, সম্প্রতি উপজেলার জামপুর ইউনিয়নের তালতলা বাজার এলাকায় কথিত বিএনপি নেতা শুকুর আলী ও তার ছেলে মাসুদকে ঘিরে চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই করে তিনি সংবাদ প্রকাশ করেন। পরবর্তীতে সংবাদ প্রকাশের জের ধরে শুকুর আলীকে বিএনপির জামপুর ইউনিয়ন শাখা থেকে বহিষ্কারের সংবাদও প্রকাশিত হয় বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সাংবাদিকের অভিযোগ, গত ১২ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ৮টার দিকে ০১৯১৭১৪৩৪৯৫ নম্বর থেকে তাকে ফোন করা হয়। ফোনে তালতলা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের বিপরীত পাশে দেখা করার জন্য তাকে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে যাওয়ার পর মাসুদসহ ১০ থেকে ১২ জন লোক উপস্থিত ছিলেন বলে তিনি দাবি করেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, সেখানে সংবাদ প্রকাশের বিষয় নিয়ে তাকে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করা হয়। একপর্যায়ে উপস্থিত ব্যক্তিদের একজন অগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন করে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেন বলে অভিযোগ করেন সোলায়মান হাসান। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে তাদের বিরুদ্ধে কোনো সংবাদ প্রকাশ না করার জন্যও তাকে সতর্ক করা হয় বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে সাংবাদিক সোলায়মান হাসান নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তার দাবি, অগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন করে হুমকি দেওয়ার ঘটনায় যেকোনো সময় তার ওপর হামলা বা প্রাণনাশের মতো ঘটনা ঘটতে পারে।
সোনারগাঁও থানায় দেওয়া আবেদনে তিনি ঘটনার সময় উপস্থিত ব্যক্তিদের সাক্ষ্য গ্রহণ, তাকে ফোন করে ডেকে নেওয়া মোবাইল নম্বরের কললিস্ট ও সংশ্লিষ্ট তথ্য যাচাই এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অভিযোগের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করেছেন।
এ বিষয়ে সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, “বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তবে অভিযোগে অভিযুক্ত শুকুর আলী, তার ছেলে মাসুদসহ সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।



