নিজস্ব প্রতিবেদক : নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের কাঁচপুরে ভাঙারি ব্যবসায়ী আইয়ুব হোসেন (৫০) হত্যাকাণ্ডের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে একজন আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
পুলিশ জানায়, বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকালে কাঁচপুর উত্তরপাড়া এলাকায় সোনাপুর জালালাবাদ ঔষধ ফ্যাক্টরির পরিত্যক্ত ভাঙারি গোডাউনের পূর্ব পাশে একটি ডোবা থেকে সাদা প্লাস্টিকের মুখ বাঁধা বস্তার ভেতর আইয়ুব হোসেনের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার হাত-পা বাঁধা ছিল।
এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী মোছা. মাহফুজা আক্তার বাদী হয়ে সোনারগাঁ থানায় মামলা করেন। পরে ঘটনাটি স্পর্শকাতর ও চাঞ্চল্যকর হওয়ায় নারায়ণগঞ্জের নবাগত পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমানের নির্দেশনায় এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ‘খ’ সার্কেলের দিপংকর ঘোষের তত্ত্বাবধানে সোনারগাঁ থানা পুলিশের একটি দল তদন্তে নামে।
পুলিশের দাবি, তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের সমন্বয়ে তদন্ত চালিয়ে হত্যাকাণ্ডের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ঘটনার রহস্য উদঘাটন করা হয়। পরে অভিযান চালিয়ে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, মো. শাহিন ও জামির হোসেনসহ আরও কয়েকজন আইয়ুব হোসেনকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী ঘটনার দিন ১০টি ইয়াবা ট্যাবলেট ও টাকা দেওয়ার বিনিময়ে শাহিনকে ব্যবহার করে আইয়ুবকে তার ভাঙারি দোকানে প্রবেশ করানো হয়। পরে সেখানে তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয় বলে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী থানার মাস্টারপাড়া এলাকার মো. মানিক মিয়ার ছেলে মো. শাহিনুর ইসলাম (৩০)। তিনি বর্তমানে কাঁচপুর উত্তরপাড়ায় আলতু মিয়ার বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করেন। অপরজন কাঁচপুর উত্তরপাড়ার মৃত ছাহাদ আলীর ছেলে মো. জামির হোসেন (৫৭)।
পুলিশ আরও জানায়, গ্রেপ্তারকৃত শাহিনুর ইসলাম নিজের দোষ স্বীকার করে আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন।
হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্য সহযোগীদের গ্রেপ্তার এবং হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্রসহ অন্যান্য আলামত উদ্ধারে অভিযান ও তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।



