নিজস্ব প্রতিবেদক : নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ মেঘনা নদীতে গোসল করতে গিয়ে তিন স্কুলছাত্রের মৃত্যুর ঘটনায় বাল্কহেডসহ চারজনকে আটক করেছে নৌপুলিশ।
রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) রাতে বৈদ্যের বাজার এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।
তাদের বিরুদ্ধে অবহেলাজনিত মৃত্যুর অভিযোগে মামলা করার প্রস্তুতি চলছে।
নিহত যমজ দুই ভাইয়ের বাবা বাদী হয়ে মামলা করবেন বলে জানিয়েছেন পুলিশ। এদিকে নিহত দুই জমজ ভাইয়ের মরদেহ তদন্ত শেষে দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
সোমবার সকাল ১০ টায় বাড়ি মজলিশ হাফেজিয়া মাদরাসা মাঠে জানাযা শেষে দাফন সম্পন্ন হয়। এছাড়া নিহত আবিদ হোসেন এর মরদেহ তার দেশের বাড়ি খুলনা নিয়ে দাফন করা হয়।
সোনারগাঁ থানার বৈদ্যেরবাজার নৌপুলিশের পরিদর্শক রুহুল আমিন বলেন, ‘তিন শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় বাল্কহেডসহ চারজনকে আটক করা হয়েছে। নিহত যমজ দুই শিক্ষার্থীর বাবা মোহাম্মদ ফারুক বাদী হয়ে মামলা করবেন।’
রুহুল আমিন আরো বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা মেঘনা নদীতে যেখানে বাল্কহেডটি থামানো ছিল, সেখানে গোসল করছিল। বাল্কহেডের ইঞ্জিন চালু করার পর নদীর পানিতে প্রচণ্ড ঘূর্ণি তৈরি হয়। এ সময় একজন নারী টান দিয়ে একজন শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করতে পারলেও অন্য তিনজন পানিতে তলিয়ে যায়। বাল্কহেড ও আটক চারজনের বিরুদ্ধে অবহেলাজনিত মৃত্যুর অভিযোগে মামলা করার প্রস্তুতি চলছে।’
আটক চারজন হলেন বাল্কহেড এমবি সোনারগাঁ মদিনা-৪-এর সুকানি মো. হাবিবুর রহমান (৪৫), গ্রীজার মো. আবু জাফর (৩৫) এবং লস্কর এবাদুল হাওলাদার (২৫) ও মো. সিফাত (১৯)। বাল্কহেডটির নম্বর ০১-১০৭৭। এটি মেসার্স রনি এন্টারপ্রাইজের। প্রতিষ্ঠানটির মালিক মোহাম্মদ হোসেন মিয়া ও সুজিত কুমার সাহা।
ফায়ার সার্ভিসের সহকারী উপ-পরিচালক আবদুল্লাহ আল আরেফিন বলেন, ‘মেঘনা নদীতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ তিন শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। দুজন জমজ ভাই। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বাল্কহেডের পাখার সঙ্গে ধাক্কা লেগে শিক্ষার্থীরা পানিতে তলিয়ে যেতে পারে।’
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, শিক্ষার্থীরা বাল্কহেডে উঠে নদীতে গোসল করছিল। একপর্যায়ে তারা নদীতে লাফিয়ে পড়লে বাল্কহেডের ইঞ্জিন চালু করা হয়। এতে ইঞ্জিনের পাখার আঘাতে তারা পানিতে তলিয়ে যায় বলে তাদের অভিযোগ। আশপাশের লোকজন ইঞ্জিন বন্ধ করতে বললেও বাল্কহেডের কর্মীরা তা করেননি এবং শিক্ষার্থীদের উদ্ধারে এগিয়ে আসেননি বলেও অভিযোগ করেন তারা।



