সজীব হোসেন, সোনারগাঁ প্রতিনিধি:
দীর্ঘ ৩৮ বছর পর প্রিয় শিক্ষক ও সহপাঠীদের একসঙ্গে কাছে পেয়ে আবেগ-আনন্দে মুখর হয়ে উঠেছে হোসেনপুর এস.পি. ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের ১৯৮৮ ব্যাচের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের পুনর্মিলন অনুষ্ঠান।
গত ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, শনিবার দুধঘাটার নীল দিগন্ত পার্কে ১৯৮৮ ব্যাচের উদ্যোগে ‘প্রিয় শিক্ষকদের সান্নিধ্যে বন্ধুদের পুনর্মিলন’ শীর্ষক এ গেট টুগেদার অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান আয়োজক ও আহ্বায়ক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডাচ্-বাংলা ব্যাংক পিএলসির ভাইস প্রেসিডেন্ট জুলহাস উদ্দিন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আবদুস ছালাম বিএ, বিএড।
দীর্ঘদিন পর বন্ধুদের একত্রিত হওয়ার আনন্দের সঙ্গে প্রিয় শিক্ষকদের উপস্থিতি পুরো আয়োজনকে দেয় ভিন্নমাত্রা। হাসি-আনন্দ, আড্ডা, গান, স্মৃতিচারণ, সম্মাননা ও আবেগঘন নানা মুহূর্তে দিনটি ৮৮ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের জন্য হয়ে ওঠে স্মরণীয়।
প্রায় ৩৮ বছর আগে বিদ্যালয়ের গণ্ডি পেরিয়ে জীবনের নানা পথে ছড়িয়ে পড়েছিলেন ১৯৮৮ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা। এরপর অনেকের সঙ্গে সহপাঠীদের যেমন যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, তেমনি প্রিয় শিক্ষকদের সঙ্গেও আর দেখা হয়ে ওঠেনি। দীর্ঘ সময় পর একই ছাদের নিচে শিক্ষক ও সহপাঠীদের একত্রিত হওয়ার সুযোগ পেয়ে ফিরে আসে সেই স্কুলজীবনের পুরোনো স্মৃতি।
অনুষ্ঠানে ৮৮ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি তৎকালীন সময়ে বিদ্যালয়ে কর্মরত শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন আবদুস ছালাম বিএ, বিএড, রহমত উল্লাহ খান, আব্দুস সাত্তার, জুলফিকার আলী, কামরুল হক, মো. ইউনুস মিয়া, হাবিব, আফজাল হোসেন এবং নার্গিস শামসুননাহার।
শিক্ষকদের সম্মাননা ও আবেগঘন স্মৃতিচারণ
পুনর্মিলন অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল প্রিয় শিক্ষকদের সম্মাননা প্রদান ও স্মৃতিচারণ পর্ব। এ সময় শিক্ষকরা তাঁদের ছাত্রজীবনের স্মৃতি এবং ১৯৮৮ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কাটানো বিভিন্ন ঘটনা স্মরণ করেন।
স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে শিক্ষক রহমত উল্লাহ খান আবেগাপ্লুত হয়ে কেঁদে ফেলেন। প্রিয় শিক্ষকের সেই আবেগঘন মুহূর্তে উপস্থিত অনেক শিক্ষার্থীর চোখেও পানি চলে আসে। মুহূর্তেই যেন ৩৮ বছর আগের স্কুলজীবনের স্মৃতি ফিরে আসে সবার মাঝে।
এ সময় আব্দুস সাত্তার স্যার, মো. ইউনুস মিয়া স্যার, হাবিব স্যার, রহমত উল্লাহ খান স্যার, কামরুল হক স্যার, আফজাল হোসেন স্যার, শামসুননাহার নার্গিস আপা এবং আবদুস ছালাম স্যার স্মৃতিচারণ করেন।
শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের আবেগঘন স্মৃতিচারণ, বন্ধুত্বের পুরোনো গল্প, হাসি-আনন্দ ও ভালোবাসায় দিনভর মুখর ছিল নীল দিগন্ত পার্ক। দীর্ঘ ৩৮ বছর পর এমন আয়োজনের মধ্য দিয়ে ১৯৮৮ ব্যাচের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা যেন ফিরে পান তাঁদের হারিয়ে যাওয়া স্কুলজীবনের সেই সোনালি দিনগুলো।



