নিউজ সোনারগাঁ টুয়েন্টিফোর ডটকম : নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁ উপজেলার সাদীপুর ইউনিয়ন শ্রমিক দলের নতুন ঘোষিত আহ্বায়ক কমিটিতে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন মো. মোস্তফা মোল্লা নামক এক নেতা, যিনি দীর্ঘদিন ধরে উপজেলা আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাকে শ্রমিক দলের কমিটির ৫ নম্বর সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
জানা গেছে, মোস্তফা মোল্লা বিগত স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের সময় আওয়ামী লীগের সক্রিয় নেতা হিসেবে বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে নানা ধরনের অপতৎপরতায় জড়িত ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, তার প্রত্যক্ষ ভূমিকার কারণে অনেক বিএনপি নেতাকর্মীকে পুলিশি হয়রানির শিকার হতে হয়েছিল। এমনকি অনেকে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে থাকতে বাধ্য হয়েছিলেন।
স্থানীয় তৃণমূল নেতাকর্মীরা বলছেন, একজন প্রাক্তন আওয়ামী লীগ নেতাকে বিএনপির অঙ্গসংগঠন শ্রমিক দলের গুরুত্বপূর্ণ একটি ইউনিটে সদস্য করা ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের প্রতি চরম অবহেলা ও অবজ্ঞার সামিল। এতে করে মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের মধ্যে চরম হতাশা বিরাজ করছে।
তারা আরও অভিযোগ করেন, কমিটি গঠনে স্বচ্ছতা উপেক্ষিত হয়েছে এবং আর্থিক লেনদেনের অভিযোগও উঠেছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন—একজন পরিচিত আওয়ামী লীগ নেতা কীভাবে বিএনপির শ্রমিক দলের সদস্য পদে স্থান পান?
এদিকে, সোনারগাঁ থানা বিএরপির সভাপতি আজহারুল ইসলাম মান্নান বিভিন্ন সভা সমাবেশে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির কোন কর্মীকে বিএনপিতে জায়গা না দেয়ার জন্য বক্তব্য দিয়ে আসলেও তার কর্মীরাই আওয়ামী লীগ নেতাকে বিএনপিতে পদাথিকার দিয়ে আসছে বলে জানান তৃনমূল বিএনপির নেতাকর্মীরা।
গত ২৭ মে সাদীপুর ইউনিয়ন শ্রমিক দলের ৩১ সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়, যা উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের যৌথ স্বাক্ষরে প্রকাশিত হয়।
এ নিয়ে তৃণমূল নেতাকর্মীরা কেন্দ্রীয় ও জেলার শীর্ষ নেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, “যদি এমন অযাচিতভাবে আওয়ামী লীগের লোকজনকে দলের নেতৃত্বে আনা হয়, তবে ভবিষ্যতে তৃণমূল পর্যায়ে বিএনপি নেতৃত্ব সংকটে পড়বে।”
তারা অনতিবিলম্বে কমিটি পুনর্বিন্যাসের দাবি জানিয়ে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের কাছ থেকে কঠোর পদক্ষেপ প্রত্যাশা করেছেন।



