সোনারগাঁয়ে এক কিলোমিটারে তিনটি অবৈধ ড্রেজার পাইপলাইন! প্রশাসনের চোখের সামনেই আইন লঙ্ঘন
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার ব্যস্ততম সড়ক মোগরাপাড়া থেকে বৈদ্যেরবাজার পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশটি এখন অবৈধ ড্রেজার পাইপলাইনের কবলে। মাত্র এক কিলোমিটার এলাকায় তিনটি স্থানে রাস্তা কেটে অবৈধভাবে বসানো হয়েছে বালুবাহী পাইপ, যা সম্পূর্ণ আইনবহির্ভূত এবং জনদুর্ভোগের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, নিম্নোক্ত তিনটি স্থানে পাইপ বসানো হয়েছে—
১. সোনারগাঁ থানার সামনে, সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে
২. হাতকোপা এলাকায়, রাস্তার নিচ দিয়ে
৩. পল্লী বিদ্যুৎ অফিস সংলগ্ন, বৃহৎ পাইপলাইন স্থাপন
স্থানীয়রা জানান, এসব পাইপলাইন সাধারণ মানুষের চলাচলে মারাত্মক বাধা সৃষ্টি করছে। স্কুলগামী শিক্ষার্থী, রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্স এবং সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবীদের যাতায়াতে নিত্যদিনই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
রমজান মাসে শুরু হওয়া সড়ক সংস্কার কাজ তড়িঘড়ি করে শেষ করতে গিয়ে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। তারা জানান, কাজের সঠিক তদারকি না থাকায় ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দায়িত্বজ্ঞানহীনতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সড়ক ও জনপথ (সওজ) কর্তৃপক্ষও বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলছে না।
পাইপলাইন স্থাপন করা হয়েছে এমনকি থানার সামনে এবং এসিল্যান্ড অফিস সংলগ্ন এলাকাতেও, অথচ প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এলাকাবাসীর প্রশ্ন—এটা কি প্রশাসনিক ব্যর্থতা, না কি প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় এসব হচ্ছে?
সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলেন,
“সড়কে পাইপ বসানো নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মঞ্জুরুল মোর্শেদ-এর সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
এছাড়া সওজের নারায়ণগঞ্জের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহরিয়ার-এর সাথেও যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনিও ফোন রিসিভ করেননি।
✅ অবৈধ পাইপলাইন দ্রুত অপসারণ
✅ রাস্তা কাটা ও নিম্নমানের কাজের তদন্ত
✅ ঠিকাদার ও সওজ কর্মকর্তাদের জবাবদিহি নিশ্চিত
✅ জনসাধারণের চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত
✅ প্রশাসনের জোরালো ও নিরপেক্ষ পদক্ষেপ গ্রহণ
বর্তমানে এলাকাবাসীর প্রধান দাবি—আইনের কঠোর প্রয়োগ এবং প্রশাসনের জবাবদিহি নিশ্চিত করা।
প্রশাসনের নীরবতা দীর্ঘমেয়াদে জনজীবনকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
“আইন যদি সবার জন্য সমান হয়, তবে এই বেআইনি কাজের দায় কোনোভাবেই এড়ানো চলবে না”—মন্তব্য করেছেন এক স্থানীয় বাসিন্দা।