নিউজ সোনারগাঁ :নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে মহিলাসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে বারদী ইউনিয়নের শান্তিরবাজার গুদারাঘাট ও মসলেন্দপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এর আগেও কয়েকবার এখানে কয়েকটি মারামারি, হামলা ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। এতে বহু মানুষ হতাহত হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মান্দারপাড়া গ্রামের শুক্কুর আলীর ছেলে মো. ডালিম মিয়া একই গ্রামের ওয়াদুদ বেপারীর ছেলে নুর মোহাম্মদ ওরফে নুরা পাগলাকে চার মাস আগে একটি পিকআপ ভ্যান কেনার জন্য ১ লাখ ২০ হাজার টাকা ধার দেন। টাকা নেওয়ার পর নুর মোহাম্মদ আর ডালিমের সঙ্গে যোগাযোগ করেননি। মঙ্গলবার সকালে শান্তিরবাজার এলাকায় ডালিম টাকা ফেরত চাইলে উভয়ের মধ্যে কথা কাটাকাটি থেকে ধস্তাধস্তি শুরু হয়।
এরপর নুর মোহাম্মদের নেতৃত্বে একদল লোক ডালিমের গ্যারেজে হামলা চালিয়ে দরজা-জানালা ভাঙচুর করে। দ্বিতীয় দফায় মসলেন্দপুর গ্রামে গিয়ে ডালিমের বাড়িতে হামলা চালায়। হামলাকারীরা শালিম, আব্দুল হাই, ওয়াসকুরুনী, রিনা বেগম ও জয়নাল আবেদিনসহ আটজনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। অপরদিকে প্রতিপক্ষের শরীফ, জনু ও রিপন মিয়াও আহত হয়।
সংঘর্ষ চলাকালে হামলাকারীরা বাড়িঘর ভাঙচুরের পাশাপাশি দুটি গরু, একটি ছাগল, চারটি ভেড়া ও আসবাবপত্র লুট করে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ উঠেছে। আহতদের স্থানীয়রা উদ্ধার করে সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেছেন।
এ ঘটনায় ডালিমের চাচাতো ভাই আব্দুল হাই বাদী হয়ে সোনারগাঁ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযুক্ত নুর মোহাম্মদ দাবি করেছেন, তর্কবিতর্কের একপর্যায়ে তার লোকজনকে প্রতিপক্ষের লোকেরা মারধর করে আহত করেছে। তবে হামলা বা লুটপাটের অভিযোগ সত্য নয়। তিনি নিজেও থানায় অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
সোনারগাঁ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ রাশেদুল হাসান খান জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। অভিযোগ তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



