নিউজ সোনারগাঁ : নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার মোগরাপাড়া ইউনিয়নের মুতিশপুর গ্রামে নজরুল ইসলাম (৫০) নামের এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। এটি ডাকাতির ঘটনা নাকি পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, তা নিয়ে এলাকায় চলছে নানা আলোচনা। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী নাসু আক্তার আহত হয়েছেন।
বুধবার দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে নিজ বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। নিহত নজরুল ইসলাম মুতিশপুর গ্রামের মৃত গাজীউল রহমানের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গভীর রাতে কে বা কারা নজরুল ইসলামের বাড়ির দেয়াল টপকে ঘরে প্রবেশ করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। এসময় তার স্ত্রী নাসু আক্তারকেও মারধর করা হয়। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক নজরুল ইসলামকে মৃত ঘোষণা করেন।
এলাকাবাসী জানান, নজরুল ইসলামের দুই মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে। কয়েক বছর আগে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় তার একমাত্র ছেলে মারা যায়। বর্তমানে তিনি স্ত্রীকে নিয়ে গ্রামের একটি টিনশেড বাড়িতে বসবাস করতেন। তিনি সুতা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। সামান্য আয়েই চলত তাদের সংসার। বসতভিটা ছাড়া তেমন কোনো অর্থ-সম্পদও ছিল না বলে জানান স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের ভাষ্য, নজরুল ইসলামের বাড়িটি কিছুটা নির্জন স্থানে হওয়ায় ঘটনার সময় আশপাশের কেউ কিছু টের পায়নি। তবে বাড়ির দরজা-জানালা ও অন্যান্য আলামত দেখে ঘটনাটি রহস্যজনক বলে মনে করছেন তারা। এটি সাধারণ ডাকাতির ঘটনা নাকি পূর্বশত্রুতার জেরে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
আহত নাসু আক্তার অসুস্থ থাকায় তার কাছ থেকেও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া সম্ভব হয়নি। তিনি সুস্থ হলে ঘটনার বিষয়ে আরও তথ্য জানা যেতে পারে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
ঘটনার পর সোনারগাঁ থানা পুলিশের একাধিক টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। পুলিশ ঘটনাটির রহস্য উদঘাটনে তদন্ত শুরু করেছে।
মঙ্গলবার (১২ মে) সকালো এনায়েতনগর ইউনিয়নের বারৈভোগ এলাকায় অবস্থিত ফারিহা নিট টেক্স লিমিটেড কারখানার স্টোররুমে তার মরদেহ মেলে বলে জানান ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহবুব আলম।
নিহতের নাম ইদ্রিস আলী (৪৩)। তিনি সোনারগাঁ উপজেলার গোয়ালদীর আবুল কাশেমের ছেলে এবং কারখানাটির সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) পদে কর্মরত ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
কারখানাটির সিকিউরিটি ম্যানেজার মোহাম্মদ মনির হোসেন বলেন, সকাল দশটার দিকে ইদ্রিসের মরদেহটি দেখতে পান কারখানার একজন শ্রমিক। পরে পুলিশে খবর দেওয়া হয়।
“সোমবার সন্ধ্যায় সাতটায় ছুটি হবার পর তার গাড়িতে করে বাড়িতে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু তার সহকর্মীরা থাকে ফোন দিয়েও পাচ্ছিল না। পরে তাকে ছাড়াই গাড়ি ছেড়ে যায়। আজ তার লাশ পাওয়া গেলো। ইদ্রিসের মরদেহটি যে স্টোররুমে মিলেছে সেটি নিয়ন্ত্রণেরও দায়িত্বে ছিলেন তিনিই। ওই ঘরটির লাইট বন্ধ ছিল,” যোগ করেন মনির।
নিহতের স্ত্রী হাফিজা আক্তার বলেন, বিকেলে ছুটি হবার পর সন্ধ্যায় তিনি কারখানার গাড়িতেই বাড়ি ফেরেন। সোমবার না ফেরায় তার মোবাইলে কল দিলে তা কেউ রিসিভ করেননি। পরে বিষয়টি কারখানার কর্মকর্তাদের জানালে তাদের পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘ইদ্রিস কারখানাতে নেই।’
“আমরা পুলিশকেও জানিয়েছিলাম রাতেই। সকালে শুনি স্টোররুমে লাশ পাওয়া গেছে। উনি নামাজ-কালাম পড়তেন, ভালো মেজাজের মানুষ ছিলেন। তিনি আত্মহত্যা করবেন এমন কোনো কারণ নেই। আমাদের এ মৃত্যু নিয়ে সন্দেহ হচ্ছে।”
এ ঘটনায় আইনগত পদক্ষেপ নেবার কথাও জানান নিহতের স্ত্রী।
এদিকে থানা পুলিশের ওসি মাহবুব বলেন, পুলিশ খবর পেয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠাতে কারখানাটির সামনে গেলে নিহতের সহকর্মী ও শ্রমিকদের ক্ষোভের মুখে পড়ে। তাদের নিভৃত করার পর আইনি কার্যক্রম চলছে।
এদিকে, ‘হত্যার পর লাশ ঝুলিয়ে রাখার’ অভিযোগ তুলে সেখানে বিক্ষোভ করছেন কারখানাটির শ্রমিকরা। তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবি জানান।















