নিজস্ব প্রতিবেদক, সোনারগাঁ: নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে বিগত ১৭ বছরে কাঙ্ক্ষিত কোনো উন্নয়ন হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন নেতারা। শুক্রবার মোগরাপাড়া চৌরাস্তা জামে মসজিদে জুমার নামাজ আদায়ের পূর্বে সমবেত মুসল্লিদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দেওয়ার সময় এ মন্তব্য করা হয়।
বক্তব্যে বলা হয়, “আওয়ামী লীগকে আমরা কোনো মামলা দেইনি। নোয়াখালী ও বরিশালের মানুষ নিহত হওয়ায় তাদের পরিবারের পক্ষ থেকেই মামলা দায়ের করা হয়েছে। মূলত তাদের বিচার ও গণআক্রোশের ভয়েই আওয়ামী লীগ পালিয়েছে। আর আমরা যদি মামলা দিতে শুরু করতাম, তবে পরিস্থিতি কেমন হতো তা নাই-বা বললাম।” বিগত সরকারের নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরে বক্তা বলেন, “বিগত ১৭ বছরে আওয়ামী লীগ সরকার আমার বিরুদ্ধে ৯৪টি মিথ্যা মামলা দিয়ে আমাকে ও আমার নেতাকর্মীদের বছরের পর বছর জেল খাটিয়েছে এবং চরম নির্যাতন চালিয়েছে।”
মোগরাপাড়া ইউনিয়নের সার্বিক উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমি মোগরাপাড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখেছি। অতীতে এখান থেকে বারবার সংসদ সদস্য ও উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলেও এলাকার কাঙ্ক্ষিত কোনো উন্নয়ন হয়নি। আতাউর জয়লাভ করায় এবার এখানে ব্যাপক উন্নয়নমূলক কাজ করা হবে।”
উন্নয়ন বরাদ্দের তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, “গত ১৭ বছরে সোনারগাঁয়ে ১৭ কোটি টাকার কাজও সঠিকভাবে হয়নি, অথচ আমি মাত্র আট মাসে এলাকায় ৫০ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে এসেছি। অতীতে আওয়ামী লীগের করা বৈষম্যমূলক টেন্ডার পদ্ধতি বাতিল করে স্থানীয় এলাকার যোগ্য ঠিকাদারদের দিয়ে কাজ করানো হবে, যাতে কাজের মান নিশ্চিত ও টেকসই হয়।” এ সময় উপজেলা চেয়ারম্যান থাকাকালীন সময়ের স্মৃতিচারণ করে তিনি অভিযোগ করেন, সে সময় তাকে বারবার অন্যায়ভাবে বরখাস্ত করে উপজেলা পরিষদের অর্থ তৎকালীন ভাইস চেয়ারম্যান ও ইউএনও মিলে আত্মসাৎ করেছিল।
জুমার নামাজ আদায় শেষে মসজিদে আগত মুসল্লিদের মাঝে একটি সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়। বিতরণকৃত লিফলেটে বিগত সরকারের তুলনায় বর্তমান সময়ে দ্রব্যমূল্য তুলনামূলক সহনীয় পর্যায়ে রাখা এবং বিগত সরকারের অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণেই বর্তমান বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট তৈরি হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।
এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সোনারগাঁ থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আতাউল রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক নিজামউদ্দিন, প্রচার সম্পাদক সেলিম হোসেন দিপু, যুবদল নেতা রাকিব, কৃষক দল নেতা বাবুল, ছাত্রদল নেতা মোমেন মুন্না ও আরিফ হোসেনসহ স্থানীয় অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।