নিজস্ব প্রতিবেদক : ২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের আলিম পরীক্ষার ফলাফলে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলায় দেখা গেছে সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র। আলিম পরীক্ষায় শিক্ষার্থীরা জেলায় অভাবনীয় সাফল্য দেখালেও এইচএসসি পরীক্ষায় ঘটেছে চরম বিপর্যয়। এইচএসসিতে পাসের হার নেমে এসেছে মাত্র ৩০ দশমিক ৩৪ শতাংশে। তবে আলিমে উপজেলাটি ৯২ দশমিক ৭০ শতাংশ পাসের হার নিয়ে জেলার পাঁচটি উপজেলার মধ্যে শীর্ষস্থান দখল করেছে।
জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এ বছর সোনারগাঁ উপজেলা থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় ২ হাজার ৪৭৮ জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন মাত্র ৭৫২ জন। পুরো উপজেলায় সর্বোচ্চ জিপিএ-৫ পেয়েছেন মাত্র ৩ জন শিক্ষার্থী। অন্যদিকে আলিম পরীক্ষায় ১৩৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ১২৭ জন। এ ধারায় পাসের হার ৯২ দশমিক ৭০ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৫ জন শিক্ষার্থী।
এইচএসসিতে শীর্ষে স্টার ফ্লাওয়ার, তলানিতে সরকারি কলেজ
উপজেলার কলেজগুলোর মধ্যে পাসের হারে শীর্ষস্থান অর্জন করেছে সোনারগাঁ স্টার ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজ। প্রতিষ্ঠানটিতে পাসের হার ৫৪ দশমিক ৬১ শতাংশ। ৪৮ দশমিক ৩৬ শতাংশ পাসের হার এবং উপজেলায় সর্বোচ্চ দুটি জিপিএ-৫ নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে কাজী ফজলুল হক উইমেন্স কলেজ। ৪২ দশমিক ৪৭ শতাংশ পাস নিয়ে তৃতীয় হয়েছে হোসেনপুর কলেজ।
তালিকায় অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সোনারগাঁ জি. আর. ইনস্টিটিউশন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ৪০ দশমিক ৫৪ শতাংশ পাস নিয়ে চতুর্থ এবং সিনহা স্কুল অ্যান্ড কলেজ ৩৯ দশমিক ০৫ শতাংশ পাস নিয়ে পঞ্চম স্থানে রয়েছে। এছাড়া মেঘনা শিল্পনগরী স্কুল অ্যান্ড কলেজ ৩৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ নিয়ে ষষ্ঠ, বারদী স্কুল অ্যান্ড কলেজ ২৮ দশমিক ৫৭ শতাংশ নিয়ে সপ্তম, সোনারগাঁ আইডিয়াল কলেজ ২৭ দশমিক ০৯ শতাংশ নিয়ে অষ্টম এবং সোনারগাঁ নলেজ কিং কলেজ ২৬ শতাংশ পাস নিয়ে নবম স্থানে রয়েছে।
সবচেয়ে হতাশাজনক ফলাফল করেছে উপজেলার প্রধান বিদ্যাপীঠ সোনারগাঁ সরকারি কলেজ। মাত্র ২৩ শতাংশ পাসের হার নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি তালিকার দশম অর্থাৎ সর্বশেষ স্থানে অবস্থান করছে। তবে এই কলেজ থেকে একজন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন।
ফলাফলের এই বড় ধরনের ব্যবধান নিয়ে স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অভিভাবকরা বলছেন, আলিম পরীক্ষার্থীরা সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও জেলায় সেরা ফল অর্জন করতে পারলে সাধারণ কলেজগুলোর এমন ভরাডুবি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। শ্রেণিকক্ষে নিয়মিত পাঠদানের ঘাটতি, তদারকির অভাব এবং শিক্ষার্থীদের প্রতি প্রয়োজনীয় নজর না দেওয়ার কারণেই এমন বিপর্যয় ঘটেছে বলে মনে করছেন তারা।
শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মতে, উপজেলার এইচএসসি স্তরের শিক্ষার মান ফিরিয়ে আনতে এখনই প্রতিষ্ঠানগুলোতে কার্যকর শিক্ষা ব্যবস্থাপনা ও নিবিড় তদারকি নিশ্চিত করা জরুরি।