নিজস্ব প্রতিবেদক, সোনারগাঁও: নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে চোর সন্দেহে পিটিয়ে গুরুতর আহত ফারুক (৪০) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। প্রায় এক সপ্তাহ ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে থাকার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার রাতে তিনি মারা যান। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের দায়ের করা মামলায় পুলিশ ইতোমধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ২৯ অক্টোবর বিকেলে কাঁচপুরের ললাটি এলাকার আমিনুল ভেন্ডার ও তার ভাগনে অমিত হাসানসহ কয়েকজন ফারুককে বাড়ি থেকে ডেকে ললাটি বাজারে নিয়ে যান। সেখানে আমিনুল ভেন্ডারের বাড়ির বৈদ্যুতিক তার চুরির অভিযোগ তুলে ফারুককে আটকে রেখে প্রকাশ্যে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তিনি সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়লে পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে দ্রুত ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয় এবং লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। দীর্ঘ সাত দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে শনিবার রাতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
রোববার ঢাকায় ময়নাতদন্ত শেষে ফারুকের মরদেহ ললাটি এলাকায় নিয়ে আসা হলে এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সন্তানহারা মা ওহেদা বেগম কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, “আমার ছেলেকে বাজারের মধ্যে বহু মানুষের সামনে নির্দয়ভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। আমি এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত সবার ফাঁসি ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।”
এ বিষয়ে সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল বারিক জানান, ফারুককে আহতের ঘটনায় তার মা বাদী হয়ে আমিনুল ভেন্ডার ও অমিত হাসানসহ কয়েকজনকে আসামি করে থানায় একটি মামলা (দণ্ডবিধির ৩২৬ ধারা) দায়ের করেছিলেন। ফারুকের মৃত্যুর পর এখন মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তর করার আইনি প্রক্রিয়া চলছে। তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় জড়িত এজাহারভুক্ত দুজনকে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।