নিজস্ব প্রতিবেদক : নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার সাদিপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বিষ্ণুপুরা থেকে কাজহরদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত সড়কটির বেহাল দশায় চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। কয়েক বছর আগে সংস্কার করা হলেও পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টির পানি জমে সড়কের বিভিন্ন স্থানে ভাঙন, মাটি সরে যাওয়া ও বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) মাধ্যমে গ্রামীণ সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামত কর্মসূচির আওতায় সড়কটি মেরামতের জন্য ১ কোটি ১৩ লাখ ১০ হাজার ৭ টাকা বরাদ্দ হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে এখনো টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়ায় মেরামতের কাজ শুরু হয়নি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কটির গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি স্থানে এক ফুটেরও বেশি গভীর গর্ত ও খানাখন্দ তৈরি হয়েছে। এতে যান চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি প্রায়ই রিকশা, অটোরিকশা ও সিএনজিচালিত যানবাহন বিকল হচ্ছে। দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বেড়েছে।
স্থানীয় যাত্রী ও বাসিন্দারা জানান, প্রতিদিন এ সড়ক দিয়ে প্রায় হাজারো শিক্ষার্থী বিভিন্ন স্কুল-কলেজে যাতায়াত করে। পাশাপাশি প্রায় ২০ হাজার শ্রমিক আদমজী ইপিজেড, ওপেক্স সিনহা গার্মেন্টস, কাঁচপুর বিসিক, রহিম স্টিল, বন্দর স্টিল, পারটেক্স, জামালউদ্দিন টেক্সটাইল, জাহিন টেক্সটাইল, অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ, গাজীপুর পেপার মিলস, এসকিউ কেবলস, চৈতি গার্মেন্টসসহ বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করেন।
এ ছাড়া সোনারগাঁয়ের বারদীতে অবস্থিত লোকনাথ ব্রহ্মচারীর আশ্রমে আসা হাজারো ভক্তও এ সড়কটি ব্যবহার করেন। সড়কটি শাখা সড়ক হওয়ায় স্থানীয়দের প্রধান যাতায়াতের মাধ্যম রিকশা, অটোরিকশা ও সিএনজি। সামান্য বৃষ্টি হলেই সড়কের গর্তগুলোতে পানি জমে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। এতে যানজট সৃষ্টি হওয়ার পাশাপাশি সড়কের ক্ষয়ক্ষতিও আরও বাড়ছে।
স্থানীয়রা জানান, সড়কটি আরসিসি ঢালাইয়ের মাধ্যমে নির্মাণ ও প্রশস্ত করার কথা কয়েক বছর ধরে শুনে আসছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত এর বাস্তবায়ন দেখা যায়নি। দ্রুত টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সড়কটির মেরামত ও প্রয়োজনীয় প্রশস্তকরণের কাজ শুরু করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এলাকাবাসীর ভাষ্য, ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়ক দিয়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ এবং সাবেক মহিলা ও সমাজকল্যাণমন্ত্রী ব্যারিস্টার রাবিয়া ভূঁইয়া সোনারগাঁয়ে এসেছিলেন। গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের যাতায়াতের স্মৃতিবিজড়িত সড়কটি দীর্ঘদিনেও টেকসইভাবে নির্মাণ ও প্রশস্ত না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে।
সড়কটি নতুনভাবে নির্মাণ ও প্রশস্ত করা হলে সাদিপুর, সনমান্দী ও বারদী ইউনিয়নের মানুষের যোগাযোগব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে সোনারগাঁ উপজেলা এলজিইডি কার্যালয়ে যোগাযোগ করা হলে সড়কটির জন্য বরাদ্দের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। সংশ্লিষ্টরা জানান, টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর দ্রুত সড়কটির মেরামতের কাজ শুরু করা হবে।
চাইলে এটিকে আমি �আরও শক্তিশালী অনুসন্ধানী/স্থানীয় জনদুর্ভোগের নিউজ স্টাইলে শিরোনাম ও উপশিরোনামসহ সাজিয়ে দিতে পারি।



